স্কয়ারে ডেঙ্গু চিকিৎসায় ২২ ঘণ্টায় বিল ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা

রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে একজন ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় প্রতি ঘণ্টায় ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার টাকা। মোট ২২ ঘণ্টারও কম সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবিরের মোট বিল এসেছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৭৪ টাকা ৭৭ পয়সা। ফিন্যান্স বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী ফিরোজ কবির স্বাধীন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২২ মিনিটে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন শুক্রবার রাত ৯টা ১০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। স্বজনরা তাকে ভর্তির সময়ে ৫৭ হাজার টাকা অগ্রিম জমা দেন। মারা যাওয়ার পরে ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৭৪ টাকা ৭৭ পয়সা বকেয়া দেখানও হয়।

স্কয়ার হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার এ বিলের কপি ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন রোগীর স্বজনরা।

ভুক্তভোগীরা নিউজ টাঙ্গাইলকে বলছেন, ক্রিটিক্যাল ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় সরকারি হাসপাতালেও ১ লাখ টাকারও বেশি ব্যয় হচ্ছে। স্কয়ার ও আসগর আলী হাসপাতালে ৩ লাখ টাকা থেকে ৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে এমন উদাহরণও আছে। এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ নিয়ে ইতোমধ্যে বেসরকারি মেডিকেল, হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া পরীক্ষার ফি নির্ধারণ এবং তা সবার সাধ্যের মধ্যে রাখার ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

স্কয়ার হাসপাতালে উপস্থিত ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বরিকুল ইসলাম বাধন জানান, এত টাকা বিলের পেছনে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, এক মিনিট পর পর রোগীর রক্তের ক্রস ম্যাচিং করা হয়েছিল। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ডাকসু ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের সমঝোতায় ফিরোজ কবীরের মরদেহ নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসরা জানান, এ সময়ের মধ্যে চিকিৎসায় তাকে বিশেষ কোনো ওষুধ দেওয়া হয়নি। এমনকি রক্তের ক্রসম্যাচও করা হয়নি। যদিও সেটি হাসপাতালের বিলে উঠানো হয়েছে।

ফিরোজ কবীরের স্বজনদের দাবি, ফিরোজের ওষুধ বাবদ ৩২ হাজার টাকা বিল করা হয়েছে। যদিও তার চিকিৎসক জানিয়েছেন তাকে স্যালাইন ও ঢাকা মেডিকেলের নরমাল কিছু ওষুধ লিখে দেওয়া হয়েছে যার মূল্য সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা হওয়ার কথা। ফিরোজকে কোনো টেস্ট না করিয়েই বিল লেখা হয়েছে। এ ছাড়া তার দুই দিনের শয্যা ভাড়া হোটেলের চেক আউট পদ্ধতিতে করা হয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.