ব্রেকিং নিউজ

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে সেরা উদীয়মান ফুটবলারের পুরস্কার জিতলেন টাঙ্গাইলের রবিউল

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: অভিনন্দন জানাতেই ‘ধন্যবাদ ভাই’ বলে আবেগ আপ্লুত রবিউল হাসান। ১৯ বছর বয়সী জাতীয় ফুটবল দলের মিডফিল্ডার তখন হাটছিলেন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার এক রাস্তায়। অথচ শনিবার সন্ধ্যায় তার থাকার কথা ছিল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে।

বসুন্ধরা কিংস আর চট্টগ্রাম আবাহনীর মধ্যেকার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শেষ ম্যাচে, খেলার পর যে তার নিজের হাতে নেয়ার কথা ছিল লিগের সেরা উদীয়মান ফুটবলারের পুরস্কার। তার পক্ষে যখন আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব পুরস্কার গ্রহণ করেন তখনো রবিউল জানেন না নিজের কৃতিত্বের কথা।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের একাদশ আসরের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় হিসেবে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের রবিউল পেয়েছেন টিভিএস-এর মটর সাইকেল। নিজে কেন নিতে এলেন না? ‘আমি জানতাম না। রাতে ক্লাব থেকে আমাকে ফোন করে জানানো হয়েছে সুখবরটি। বাফুফে থেকে নাকি আমাকে ফোন করেছিল। কিন্তু তারা যে নম্বরে ফোন করেছিল সেটা এখন ব্যবহার করি না। তাই খবর পাইনি। পেলে তো অবশ্যই চলে আসতাম’- টাঙ্গাইলের গোপালপুর থেকে বলছিলেন রবিউল।

কেমন লাগছে এ পুরস্কার জিতে? রবিউল হাসানের জবাব, ‘আমি এমন একটি দিনের অপেক্ষায়ই ছিলাম। তিন বছর ধরে খেলছি আরামবাগে। এবার পেলাম এই পুরস্কার। দারুণ ভালো লাগছে।’ মটর সাইকেল নিতে কবে আসবেন? ‘লিগ শেষ করে বাড়ীতে এসেছি। ইচ্ছে ছিল ঈদের পর ঢাকা আসার। কিন্তু এখন তার আগেই একবার আসবো মটর সাইকেল নিতে। দুই/তিন দিনের মধ্যেই চলে আসবো হয়তো’- বলছিলেন রবিউল হাসান।

আপনি জাতীয় দলের খেলোয়াড়, ৭টি ম্যাচ খেলেও ফেলেছেন। কিন্তু পুরস্কার পেলেন উদীয়মান হিসেবে। ‘আসলে আমার বয়স এখন ১৯। আমি এবার যা খেলেছি আগামীতে তার চেয়েও ভালো খেলতে চাই। বাফুফে হয়তো এই বয়সের ফুটবলারদের মধ্যে আমাকেই সেরা মনে করেছে তাই পুরস্কার দিয়েছে’- জবাব রবিউলের।

পজিশন সেন্ট্রাল মিডফিল্ড। কিন্তু গোল করার নেশাও আছে। ‘আমার গোলের ক্ষুদা আছে। তাই তো জাতীয় দলের হয়ে দুটি গোল করে দুটি ম্যাচ জেতাতে পেরেছি। তবে গোল করানোই আমার প্রধান কাজ। সদ্য সমাপ্ত এই লিগে আমি ২টা গোল করেছি। ফেডারেশন কাপে করেছি একটি এবং স্বাধীনতা কাপে তিনটি। লিগের সব ম্যাচই আমি খেলেছি’- বলছিলেন রবিউল।

নারী ফুটবল দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের ছোট ভাই গোলাম রব্বানী বাপন টাঙ্গাইলের গোপালপুরের সুতিভিয়েন ভিএম মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষক। তার মাধ্যমেই ফুটবলে হাতেখড়ি রবিউলের, ‘একদিন ওই স্কুল মাঠে ফুটবল খেলার সময় বাপন স্যার আমাকে ডেকে বলেন নিয়মিত খেলতে। তার উৎসাহে পুরোদমে খেলা শুরু করি। অনূর্ধ্ব-১৩, অনূর্ধ্ব-১৪ দলে খেলার পর তৃতীয় বিভাগের দল দিলকুশার মাধ্যমে ঢাকার ফুটবলে অভিষেক। তিন মৌসুম আগে দিলকুশা থেকে আরামবাগে যোগ দিয়েছিল। এ নিয়ে তিনটি লিগ খেললাম’- ফুটবলার হওয়ার গল্পটা বলছিলেন রবিউল হাসান।

গত বছর ২৯ আগস্ট নীলফামারী স্টেডিয়ামে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ দিয়ে জাতীয় দলে অভিষেক হয় রবিউলের। তারপর থেকেই লাল-সবজু জার্সিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে থাকেন।

গত ৯ মার্চ নমপেনে কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচে রবিউল হাসানের একমাত্র গোলে জিতেছিল বাংলাদেশ। তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোলটি তিনি করেছিলেন গত ৬ জুন ভিয়েনতিয়েনে লাওসের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রাথমিক রাউন্ডের ম্যাচে। বাংলাদেশ আজকে যে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট পেয়েছে তার বড় অবদান এ তরুণ মিডফিল্ডারের।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.