ব্রেকিং নিউজ

মির্জাপুরে কোরবানির হাটে বিক্রি কম; লোকসান আতঙ্কে পশু মালিকরা!

মির্জাপুর প্রতিনিধি : হাটে পর্যাপ্ত সংখ্যক পশু থাকলেও এখনো জমে উঠেনি বেচাকেনা। অন্যান্য বছরগুলোর চাইতে এবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কোরবানির পশুর হাটে ব্যাপক সংখ্যক বিক্রেতাকে দেখা গেলেও ক্রেতা সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। সবমিলিয়ে কোরবানির পশু বিক্রি তেমনটা না হওয়ায় লোকসান আতঙ্কে হাটে আসা পশু মালিকরা। শনিবার ঐতিহ্যবাহী দেওহাটা গরু-ছাগলের হাটে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়।

নাটোর জেলার শাহীবাজার থেকে ১২টি গরু নিয়ে মির্জাপুর দেওহাটা কোরবানির হাটে আসা চাঁন মিয়া ব্যাপারী বলেন, ডেঙ্গুর ভয়ে এবার গরু নিয়ে ঢাকা যাইনি। ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার গরুর দাম মাত্র ৮০ হাজার টাকা বলে। ক্রেতারা যে দাম বলছেন তাতে ১২টি গরুর একটি গরু বিক্রি হবে কিনা সন্দেহ রয়েছে।

উপজেলার বহুরিয়া গ্রামের গৃহস্থ আবুল কাশেম সিকদার বলেন, হাটে ক্রেতার চাইতে বিক্রেতা বেশি। ২টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। কিন্তু তার দেড় লাখ টাকার গরুর দাম হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা। যে টাকা ব্যয় করে সারাবছর খাবার কিনে গরু মোটা তাজা করেছেন, তাতে করে তার খরচের পয়সা উঠবে না বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

গৃহস্থ উমর আলী অসন্তোশ প্রকাশ করে বলেন, এতো কষ্ট কইরা গরু প্যাইলা এহন দেহি যে দামই কয়না। ১ লাখ ২০ আজার ট্যাহার গরুর দাম হুদা ৭০ আজার কইতাছে। কি করুম বুঝবার পারতাছি না।

এদিকে খুব কম সংখ্যক বিক্রেতা ও ক্রেতারা ভালো মূল্যে পশু কিনতে পেরে সন্তোশ প্রকাশ করেছেন। বিগত বছরের তুলনায় এবার উপজেলার দুটি হাটে দেশি গরুর আমদানি দ্বিগুন বলে জানান হাট ইজারা কর্তৃপক্ষ।

মির্জাপুর পৌর সদরের দুই ক্রেতা মাজহারুল ইসলাম শিপলু ও রাশেদ বলেন, কোরবানির হাটে গরু কিনতে এসেছেন। এবার হাটে দেশি গরুর সংখ্যা বেশি, দামও নাগালের মধ্যে। তাই তারা দাম দর করে একটু সময় নিয়েই গরু কিনতে পারছেন।

হাটের ইজারাদার মোঃ আঃ মজিদ মল্লিক পশু বিক্রি কম হচ্ছে স্বীকার করে বলেন, হাটে বিক্রেতা থাকলেও তেমনটা বিক্রি নেই। এজন্য স্থানীয় গৃহস্থ ও ব্যাপারীরা লোকসান আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। শেষ দিনেও বেচাকেনা তেমনটা ভালোর আশা করা যাচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেন।

টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতার নিরাপত্তা ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা ও প্রতিটি উপজেলার প্রতিটি হাটে পুলিশি নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে। সারা জেলায় ৩ শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.