ব্রেকিং নিউজ

দেশে নিয়মের শাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি..এম সাইফুল ইসলাম শাফলু

রাস্তা-ঘাটে চলার পথে হরহামেশাই একটি বাক্য কানে আসে। মানুষের ভেতরের অসহিষ্ণুতা চোখে পড়ে। ভেতরের অস্থিরতা নিয়ে অন্যের ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়তে উন্মুখ মানুষ চোখে পড়ে। একটুতেই উত্তেজিত হয়ে ওঠা যেন আমাদের স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সেই উত্তেজনা যখন অন্যের ভেতরেও ছড়িয়ে দেবার তাগিদ তাড়া দেয়, তখনই বাক্যটি কানে আসে। ‘আমাকে চিনিস?’ আমরা প্রতিটি মানুষই এখন ক্ষমতাবান। প্রতিটি মানুষই আজ নিজেকে জাহির করার জন্য উন্মুখ। একে অন্যকে আমাদের ক্ষমতা দেখাতে উৎসুক হয়ে বসে আছি। কিন্তু কেন? কেন এই অসহিষ্ণুতা? ঘর থেকে পথে নামলেই কোনো না কোনো দিক থেকে কানে আসে ‘আমাকে চিনিস? আমাদের প্রত্যেকের ভেতরেই যেন বাস করছে মহাক্ষমতাবান মহাপ্রতাপশালী ব্যক্তি। আর তারই দাপটে আমরা নিজেই নিজের পরিচয় জাহির করার উদ্যোগ নিয়েছি। যা ভেঙে দিচ্ছে সব নিয়ম, শৃঙ্খল।

আমাদের পরিবহন সেক্টর নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। এই অভিযোগের পাল্লা আরও ভারী হয় উৎসবে। মানুষ যখন উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে উঠতে ঘর ছেড়ে বের হয়, তখন তাদের জন্য ভোগান্তির সব রকমের পসরা যেন সাজানোই থাকে। উৎসবের সময়ে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ বরাবরের। যদিও প্রতিবারই দাবি করা হয়, কোথাও বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয় না। শুধু পরিবহন কর্তৃপক্ষই এই দাবি করেন না, অন্যরাও এর সঙ্গে সায় দেন। কেউ-ই বাড়তি ঝামেলা নিজের কাঁধে নিতে রাজি নন, বলেই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণে কেউ এগিয়ে না এলেও, অভিযোগটি মিথ্যে হয়ে যায় না।

মানুষকে জিম্মি করে নিয়মের শাসনকে চোখ রাঙানির এ রকম উদাহরণ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই। আইন না মানার এই উদাহরণটি একটি সম্মিলিত উদ্যোগের উদাহরণ। সম্মিলিত উদ্যোগের বাইরে ব্যক্তিগত উদাহরণও কিন্তু প্রচুর।   আমাদের ভেতরে জেগে থাকা ‘আমাকে চিনিস’ প্রবণতাই এ ক্ষেত্রে কোনো নিয়মের মধ্যে যেতে বাধা দেয়। আমরা কোনো কাজেই যেন নিয়মের মধ্যে দিয়ে যেতে আগ্রহী না। সব ক্ষেত্রেই আমাদের ভেতরে ভর করে ওপর চালাকি। আমরা সামান্য কাজেও, যেখানে কারও হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে কাজ হয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেখানেও আমলা, এমপি-মন্ত্রী পর্যন্ত দৌড়াতে আগ্রহী। আমাদের ব্যক্তি ক্ষমতাকে শক্তিমান করে তোলার প্রবণতা দেখাতে আগ্রহী। যা প্রকারন্তরে নিয়মের শাসনকে ভেঙে ফেলারই উদ্যোগ। অথচ আমরা সবাই চাই শৃঙ্খলা। কিন্তু আমরা কেউই ‘এই যে আমাকে চিনিস’ এই অহমিকা থেকে বেরিয়ে আসছি না।

আমরা সবাই আইনের শাসন প্রত্যাশা করছি সমাজের কাছে, রাষ্ট্রের কাছে আশা করছি সবকিছু শৃঙ্খলার মাঝে আসবে। আমরা প্রত্যাশা করছি সুশাসন, আমরা প্রত্যাশা করছি সুশৃঙ্খল জীবনবিধান। অথচ যখনই সেটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ চোখে পড়ছে, তখনই আমরা গোল করছি। তখনই আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে। নিয়মের মধ্যে আনার উদ্যোগে যখন আমার ব্যক্তিস্বার্থ জড়িয়ে যাচ্ছে, তখনই তাকে বাধা দিচ্ছি। তাই আমরা নিজেরা যতক্ষণ পর্যন্ত না ব্যক্তি মানুষের ক্ষমতাকে বাধার উদ্যোগ নেব, ততক্ষণ পর্যন্ত শৃঙ্খলা ফিরবে না। আমাদের ভেতর থেকে আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত না নিয়মের শাসন ভেঙে ফেলার প্রবণতা দূর করতে পারব, ততক্ষণ পর্যন্ত সুশাসনের দেখা মিলবে না। আইনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আমাদেরই প্রথম নিয়ম ও শাসনের গন্ডির ভেতরে আসতে হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.