ব্রেকিং নিউজ

সখীপুরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর তলপেটে লাথি; স্বামী কারাগারে

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক : টাঙ্গাইলের সখীপুরে দুই মাসের অন্তসত্ত্বা স্ত্রীর তলপেটে লাথি মেরে গর্ভপাত করার অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন স্ত্রী। সোমবার বিকেলে স্ত্রী নাজমুন্নাহার বাদী হয়ে গর্ভের সন্তানের ভ্রুণ নষ্ট করা ও যৌতুক আইনে সখীপুর থানায় মামলা করেন। ওইদিন রাতেই পুলিশ স্বামী ইসমাইল হোসেনকে (৩০) সখীপুরের শৌখিন মোড় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। স্ত্রী নাজমুন্নাহার পাঁচদিন ধরে প্রথমে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আসামি ইসমাইল হোসেন টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার তেজপুর গ্রামের মৃত শরাফত আলীর ছেলে। ইসমাইল ২০০৮ সালে সখীপুর উপজেলার বেরিখোলা গ্রামের শাহআলমের মেয়ে নাজমুন্নাহারকে বিয়ে করে ঘরজামাই হিসেবে থাকতেন।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই ইসমাইল যৌতুকের দাবি করে আসছে। ইতিমধ্যে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁকে দুটি মোটরসাইকেল যৌতুক হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এরপর বিদেশ যাওয়ার জন্য যৌতুক চেয়ে বায়না ধরলে আট লাখ টাকা খরচ করে তাঁকে বিদেশে পাঠানো হয়। ছয়মাস বিদেশে অবস্থান করে দেশে চলে এসেই আবার দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে।

নাজমুন্নাহারের মা কোহিনুর বেগম বলেন, যৌতুক না পেয়ে আমার মেয়েকে নানাভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করত। গত ১৫ আগস্ট বিকেলে ইসমাইল হোসেন আমার মেয়েকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে তলপেটে লাথি মারলে নাজমুন্নাহার জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে পরিবারের লোকজন প্রথমে তাঁকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে দুইদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে নাজমুন্নাহারকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ওই হাসপাতালেই তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা আল্ট্রাসনোগ্রাম করে গর্ভপাতের বিষয়টি নিশ্চিত করলে নাজমুন্নাহার সখীপুর থানায় মামলা করেন।

সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আজিজুল ইসলাম জানান, আল্ট্রাসনোগ্রামের প্রতিবেদনে গর্ভপাতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। যৌতুক ও ভ্রুণ নষ্ট করার অভিযোগে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি ইসমাইল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে আজ টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.