ব্রেকিং নিউজ

মাদক থেকে রুখে দাঁড়ানোর এখনই সময়

মাদকের মারণ থাবা এখন আমাদের জন্য বড় ব্যাধি। এ থেকে সহসা মুক্তি পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। মাদক নিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করছেন প্রতিনিয়ত। ঘোষণা করেছেন ‘জিরো টলারেন্স’। সর্বত্র সতর্ক দৃষ্টি রাখার তাগিদ দিচ্ছেন বারবার। তারপরও মাদকের চিত্রের আশাব্যঞ্জক উন্নতি হয়েছে বলে আমরা মনে করছি না। আমাদের দেশে জঙ্গি উত্থান নিয়ে দেশবাসী যখন চরম উৎকণ্ঠায় ছিল, দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে বোমা হামলার পর হতাশা নিমজ্জিত দেশবাসীকে জঙ্গি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা দেশবাসীর কাছে প্রশংসা পেয়েছে। আর বিদেশে জঙ্গি দমনে বাংলাদেশের ভূমিকা রোল মডেল হয়ে আছে। অথচ সেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না কেন? অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর চিত্র। যারা বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে তাদেরই মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে। অর্থাৎ মাদক নিয়ন্ত্রণে ‘শর্ষের মধ্যে ভূত’ এ আপ্তবাক্য অকাট্য।
সারা দেশে ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ মরণ নেশায় ছেয়ে গেছে । দেশ এখন যৌন উত্তেজক নেশার ট্যাবলেট ইয়াবার ছোবলে আক্রান্ত। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্করাও এই নেশার জালে জড়িয়ে আছে। কথিত রঙিন নেশার আবর্তে কঠিন বিপর্যয়ের সম্মুখীন যুবসমাজ। এ নিয়ে এ এলাকার অভিভাবকরা চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে।

প্রশাসনের নাগের ডগায় বসে সব এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা হচ্ছে। কিছুদিন আগে কঠোর অভিযান থাকলেও বর্তমান তা অনেকটা শিথিল। ফলে আবার বেড়ে গেছে মাদকের জমজমাট বেচাকেনা। এদেশের  বেশিরভাগ উপার্জনক্ষম পুরুষরা বিদেশে থাকেন। শিশু-কিশোরদের শক্ত অভিভাবক না থাকাতে ওইসব পরিবার সন্তানদের কন্ট্রোল করতে পারছে না। ফলে উচ্ছন্নে যাচ্ছে তরুণসমাজ।
উন্নয়নের এই সময় মাদক বিস্তারে সব ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে রক্ষায় সিভিল প্রশাসন, পুলিশ, র‌্যাবসহ জনপ্রতিনিধিদের  এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি উপজেলা থেকে মাদকবিরোধী অভিযান, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ সচেতনতামূলক নানা কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি।

শুরুতেই বলেছি, যারা মাদক নিয়ন্ত্রণ করবে তদের মধ্যে রয়েছে বিস্তর উন্নাসিকতা। তারা সবাই বিষয়টিকে জিরো টলারেন্সে নিয়েছে তা আমি বিশ্বাস করি না।
আমি মনে করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করলে মাদক নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব নয়। কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার জন্য মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ‘জিরো টলারেন্স’ ব্যর্থ হতে পারে না। আমাদের প্রথমেই মনে রাখতে হবে, যারা মাদক গ্রহণ করে তারা আমাদের সন্তান। তারা পথভ্রষ্ট মানে আগামী প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে। তা যেমন জাতির জন্য ক্ষতিকর, তেমনি প্রতি পরিবারের জন্য হতাশাজনক। আমরা আমাদের আগামী সন্তানদের এভাবে ধ্বংস হতে দিতে পারি না। এ দায়ভার কেউ এড়াতে পারি না। রুখে দাঁড়ানোর এখনই সময়।

                                              ——-এম সাইফুল ইসলাম শাফলু
                                                                সম্পাদক, নিউজ টাঙ্গাইল

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.