ব্রেকিং নিউজ

ভুয়া অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে ওসির বিরুদ্ধে অপপ্রচার! যুবক রিমান্ডে!

স্টাফ রিপোর্টার: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী কর্তৃক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের পর জানা গেলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল এক নারী ও পুরুষের অশ্লীল ভিডিও চিত্রটি ভুঁয়া। ভারতীয় পর্ণো সাইট থেকে নিয়ে নাক থেকে পুরুষ টির মাথা পর্যন্ত কেটে এডিট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে ভাইরাল করা হয়। শেষ পর্যন্ত প্রিয়া সুলতানা নামের একটি ফেইক আইডি থেকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে ওই ভিডিও চিত্র স্থানীয় এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী এবং কটিয়াদী থানার ওসি’র বলে দাবি করা হয়।

জামালপুরের ডিসির পর কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী থানার ওসি’র সঙ্গে বিদেশ প্রবাসীর স্ত্রীকে জড়িয়ে অশ্লীল ভিডিও চিত্র ছড়ানোর ঘটনা পুলিশ প্রশাসনসহ সকল মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করে। আর এ পরিস্থিতিতে ওই সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী কর্তৃক রুজুকৃত মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তদন্তভার ডিবি পুলিশের হাতে তুলে দেয় জেলা পুলিশ।

গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে এ মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ প্রধান আসামি কটিয়াদী উপজেলার পৌর সদরের চরিয়াকোনা মহল্লার আসাদ মিয়ার ছেলে হিমেল (৩৪) এবং একই এলাকার মরহুম সৈয়দ শামসুদ্দোহা মজনুর ছেলে ২নং আসামি সৈয়দ মুরছালিন দারাশিকোকে আটক করে। এদের মধ্যে ২নং আসামি মুচলেকা দিয়ে থানা থেকে ছাড়া পায়। প্রধান আসামি হিমেলকে পরের দিন আদালতে সোপর্দ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। গত রোববার কিশোরগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানী শেষে বিজ্ঞ বিচারক তা একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে বর্তমানে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি’র পরিদর্শক মহিউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন। এ সময় তিনি ওই অশ্লীল ভিডিও চিত্র ভারতীয় পর্ণো সাইট থেকে নেয়ার বিষয়টিও অবগত হয়েছেন বলেও স্বীকার করেন।

এর আগে শনিবার রাতে কটিয়াদী থানার ওসি আবু শামা মোহাম্মদ ইকবাল হায়াত স্থানীয় সাংবাদিকদের সামনে ওই ভিডিও চিত্রটি ভারতীয় পর্ণো সাইট থেকে নেয়ার সকল তথ্য প্রমাণ তুলে ধরে বলেন, Google Chrome এ Desi Aunty Kartikmu 127.4k দিয়ে সার্চ দিলে ৬ষ্ঠ ধাপে Aunty- লিখে সার্চ দিলেই Desi Aunty Kartikmu 127.4k ভিডিওটি পাওয়া যাবে।

এসময় তিনি দাবি করেন, মামলার এক নম্বর আসামির সহচর দুই নম্বর আসামি দারাশিকো প্রায়ই বিভিন্ন মামলার তদবির নিয়ে থানায় আসতেন। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তিনি এসব তদবির নিয়ে আর না আসতে অনুরোধ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ভুঁয়া অশ্লীল ভিডিও ছেড়ে তাদেরকে এবং পুলিশ বাহিনীকে ব্ল্যাকমেইল করার অপপ্রয়াস চালায়।

কটিয়াদী থানায় রুজুকৃত এ মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে হিমেলের সঙ্গে ওই নারীর সম্পর্ক গড়ে উঠে। ২০১৬ থেকে ২০১৭ সন পর্যন্ত হিমেলের সাথে সম্পর্ক ছিল উল্লেখ করে তিনি মামলার বিবরণে বলেন, হিমেল গোপনে তার মোবাইল ফোন থেকে স্বামীর সাথে মেলামেশার কয়েকটি ছবি নিজের মোবাইলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সম্পর্ক করতে রাজি না হওয়ায় ২নং আসামি দারাশিকোর সহযোগিতায় হিমেল তার নগ্ন ছবি বিভিন্ন মোবাইলে ভাইরাল করে দেয়। তার ও কটিয়াদী থানার ওসির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও এডিট করে তার মুখমন্ডল লাগানো হয়েছে।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, আপত্তিকর ছবিতে পুরুষ লোকটির মাথা বিহীন ছবিটি কটিয়াদী থানার ওসি বলে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৯ আগষ্ট হিমেল তার মোবাইলের মাধ্যমে ওই নারীর দেবরের মোবাইলে এক পুরুষের সঙ্গে নারীর আপত্তিকর ছবি পাঠায়। ছবির মুখমন্ডল তার মতো মনে হলেও শরীর অন্য কারো। এতে বলা হয়, ‘গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রিয়া সুলতানা নামে একটি ফেইসবুক আইডি থেকে আমাকেসহ ওসি সাহেবের বিভিন্ন অপবাদ ছড়ানো হয়েছে। আসামিরা ছবি বিকৃত করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে আমাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন ও মর্যাদা ক্ষুন্ন করা করেছে।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, হিমেল ও দারাশিকো কিছু দিন আগে ওসির কাছে গিয়ে হিমেল ওই সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর কাছে টাকা পায় বলে বিচারপ্রার্থী হন। ওসি স্হানীয় পৌরসভা চেয়ারম্যান শওকত ওসমান, কাউন্সিলর সোহরাব উদ্দিন ও এসআই জহিরুল ইসলামের উপস্থিতিতে নিষ্পত্তি করে দেন। সাক্ষী প্রমাণের অভাবে টাকা ছাড়া এ ঘটনা নিষ্পত্তির বিষয়েও তারা ভিতরে ভিতরে ক্ষুব্ধ ছিলেন।

অপরদিকে, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ) মো. মিজানুর রহমান সরেজমিনে বিষয়টি তদন্ত করছেন। ভারতীয় পর্ণো সাইট থেকে পুরুষ ও নারীর অশ্লীল ভিডিও চিত্র নিয়ে এডিট করে অপপ্রচার দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় বইছে সকল মহলে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.