ব্রেকিং নিউজ

টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ধীরগতি সড়ক সংস্কারে ব্যবহৃত হচ্ছে নিন্মমানের সামগ্রী

ধনবাড়ী প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণে ধীরগতির দরুন মধুপুর হয়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহের চার জেলায় সড়ক পথে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহণে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। ঘটছে দুর্ঘটনা। বাড়ছে প্রাণহানি। অভিযোগ রয়েছে এ সড়ক সংস্কারে ব্যবহৃত হচ্ছে নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী। সড়ক সংস্কারে পুরাতন ইটের খোয়া ও সড়কের পুরাতন কার্পেটিং উঠিয়ে পুনরায় সেগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে।

জানা যায়, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে মধুপুর-ধনবাড়ী হয়ে জামালপুর পর্যন্ত ৭৭ কি.মি. সড়ক উন্নয়নে কাজ চলছে। এ জন্য বরাদ্দ প্রায় ৫‘শত কোটি টাকা। ৫টি প্যাকেজে ২০২০ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা। সড়কের ১ থেকে ৩ নং প্যাকেজে কাজ করছেন ঢাকার ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন। ্অর ৪ ও ৫ নং প্যাকেজে কাজ পেয়েছেন জামিল এন্ড কোম্পানি। গত ৭ নভেম্বর থেকে কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু কাজের গতি একবারেই হতাশাব্যঞ্জক।
এলেঙ্গা থেকে মধুপুর-ধনবাড়ী পর্যন্ত ৬০ কিলোতে কাজ হয়েছে মাত্র ২৫%। পুরো সড়ক এখন খানা-খন্দক। কোথাও-কোথাও সড়কের দুপাশে গর্ত করে মাটির ¯ু‘প ফেলে রাস্তা সংকীর্ণ করে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ঘাটাইল পৗরশহরে ১ কিলো এবং মধুপুর পৌরশহরের মালাউড়ি থেকে মধুপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ১ কিলো সড়কে দেড় ফিঁট উঁচু রিজিট পেভমেন্ট ঢালাই হবার কথা। এক বছরে ঠিকাদার এসবস্থানে সড়কের দুই পাশ খোড়াখুড়ির পর মাত্র ১৫০ গজ ঢালাইয়ের কাজ শেষ করেছে। পেভমেন্টে নিয়মিত জল সিঞ্চণ না করায় তা ফেটে চৌচির হচ্ছে।

সড়কের এক পাশ যানবাহন চালু রেখে অপর পাশে পেভমেন্ট ঢালাইয়ের কাজ করায় ভাঙ্গাচোরা সরু অংশ দিয়ে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর ও শেরপুর জেলার হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করছে। ব্যাপক যানবাহনের চাপে সড়কের অনেক অংশ দেবে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি জমে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কখনো কখনো যানবাহন কাঁদায় আটকে ফেঁেস যায়। তখন দুইদিকে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। প্রশ্বস্তকরণের জন্য আবার সড়কের কোথাও-কোথাও দুই পাশের মাটি খুঁড়ে ৫/৬ ফিট গর্ত করে রাখা হয়েছে। খোড়াখুড়িতে সরু সড়কে দুটি বড় যানবাহন পরস্পর ক্রস করতে পারে না।

ঘাটাইল, মধুপুর ও ধনবাড়ী থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, ভাঙ্গাচোরা সড়ক খোড়খুড়ির দরুন আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এ সড়কে ২৯টি পৃথক দুর্ঘটনায় ১৬ জনের প্রাণহানি এবং তিনশতাধিক আহত হয়েছে।
মধুপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরোয়ার আলম খাঁন জানান, এ সড়কের কোন বাপ-মা নেই। এটি এখন শুধু যন্ত্রনা নয়- এর পরতে পরতে লুকিয়ে রয়েছে মৃত্যূকূপ।

মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসলিমা আহমেদ পলি মানুষের নিদারুণ দুর্ভোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় একাধিক বার সমস্যাটি তুলে ধরা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনের ম্যানেজার হাফিজুর রহমান জানান, সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর মাঝখানে নির্মাণ সরঞ্জাম সরবরাহের অপ্রতুলতার দরুন কাজে কিছুটা ধীরগতি ছিল। ্এখন সাধ্যমত কাজ চলছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিমুল এহসান জানান, নানা কারণে নির্মাণ কাজে সাময়িক ধীরগতি ছিল। এখন যাতে পুরোদমে কাজ হয় সেজন্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, ফান্ড সংকট এবং নির্মাণ কাজের ধীরগতির জন্য প্রকল্পের মেয়াদ আরো এক বছর বাড়তে পারে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.