ধর্মের ভুল ব্যাখা দিয়ে গান গেয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত; তিন দিনের রিমান্ড টাঙ্গাইলের বয়াতির

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: বয়াতি গানের অনুষ্ঠানে ধর্মের ভুল ব্যাখা দিয়ে গান গেয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলায় শরিয়ত বয়াতিকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। শনিবার তাকে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক  আসলাম মিয়ার আদালত এ আদেশ দেন। পুলিশ দশ দিনের রিমান্ড চাইলেও আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

এর আগে ভোরে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বাশিল এলাকা থেকে শরিয়ত বয়াতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আগধল্যা গ্রামের পবন মিয়ার ছেলে।

মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান-১ বলেন, ‘শরিয়ত বয়াতিকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে টাঙ্গাইল পাঠানো হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।’

এর আগে ৯ জানুয়ারি শরিয়ত বয়াতির বিরুদ্ধে ধর্মীয় নিরাপত্তা আইন ২০১৮ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে উপজেলার আগধল্যা গ্রামের মাওলানা ফরিদুল ইসলাম বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় করেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার ধামরাই উপজেলার রৌহাট্টেক এলাকায় অবস্থিত পীর হজরত হেলাল শাহর দশম বার্ষিক পালা গানের অনুষ্ঠানে শরিয়ত বয়াতি ইসলাম ধর্ম ও নবী-রাসুল নিয়ে শরিয়তবিরোধী ভুল ব্যাখা দিয়ে গান করেন। এ সময় তিনি দাবি করেন যে, ‘কোরআনের কোথাও গান-বাজনা হারামের কথা নেই।’ এ বিষয়ে প্রমাণ দিতে পারলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার দেয়ারও ঘোষণা দেন শরিয়ত বয়াতি। গানে গানে তিনি বলেন, ‘রাসুল (স:) গান না শুনে ঘুমাতেন না। নবীজি আবু মুসা আশরায়ী (রা:) কে ২৩ রকমের বাদ্যযন্ত্র হাদিয়া দেন। বাদ্যযন্ত্রগুলো দাউদ নবির ছিল।’

শরিয়ত বয়াতি বলেন, ‘মসজিদের হুজুররা ১৩০০ টাকা বেতনের চাকরি করে আজান দেয়। সেই টাকা দিয়ে সংসার চালায়। বানরের মত চুক্কা টুপি মাথায় দিয়া ঘুরে, আর শালারা বলে হারাম হারাম। যারা নামাজ পড়ে সেজদা দিয়া কপালে কালো দাগ করে, তাদের কপাল থেকে ১১৩টি কিড়া বের হয়। নামাজ পড়ে যে নূর হয়, সেইগুলি হুজুরদের পায়ুপথে বের হয়। নবিই আল্লাহ, আল্লাহই নবি, যেই মুরশেদ- সেই রসুল এই কথাতে নেই কোন ভুল বলেন- লালন ফকির।’

এভাবেই পালা গানের মধ্যে শরিয়ত বয়াতি আল্লাহ্, রাসুল, ইসলাম, কোরআন, হাদিসের বিরুদ্ধে এমন আরো অনেক ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে গান পরিবেশন করেন। সেই গানটি ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়। পরে এ বিষয়ে মির্জাপুরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা তার বিচার দাবিতে আন্দোলন করেন।