ব্রেকিং নিউজ

টাঙ্গাইলে দীর্ঘ চার বছর ধরে পরিত্যক্ত ভাসানী হল

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক : টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ভাসানী হল দীর্ঘ চার বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সংস্কৃতি চর্চার প্রধান কেন্দ্র বিন্দু ভাসানী হল বর্তমানে ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে সংস্কৃতিচর্চা ও বিনোদন। অথচ এটি সংস্কারের বা পুনঃনির্মাণের কোন উদ্যোগ নেই প্রশাসনের। এটি দ্রুত ভেঙ্গে ফেলে নতুন করে আধুনিক হল নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন জেলার সংস্কৃতিকর্মীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিগত ১৯৭৬ সালের (১৬ আগস্ট) ‘টাঙ্গাইল টাউন হল’ নামে এই হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতির শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আবুল ফজল। এরপর ১৯৭৮ সালের (২ এপ্রিল) তৎকালীন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার খানে আলম খান আনুষ্ঠানিকভাবে এই হলের উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে এ হলটি মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নামে ‘ভাসানী হল’ নামকরণ করা হয়। এরপর থেকেই এটি ভাসানী হল নামে পরিচিত হয়ে আসছে।

সংস্কারের অভাবে হলটি ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ায় প্রায় চার বছর আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে বন্ধ হয়ে যায় এই ঐতিহাসিক বিনোদনের একমাত্র মিলনায়তনটি। এক সময় যে জায়গাটি থাকতো সংস্কৃতিকর্মীদের পদচারণায় মুখর, তা এখন পরিণত হয়েছে ‘ভুতুড়ে বাড়িতে’। সেখানে এখন জমে উঠেছে পানপাতা বিক্রির হাট ও মাদকসেবীদের আড্ডাখানায়।

টাঙ্গাইলের সংস্কৃতিকর্মীরা বলেন, এক হাজার আসন বিশিষ্ট এই মিলনায়তনটিতেই জেলার সব সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক অনুষ্ঠান পরিচালিত হতো। শুধু তাই নয়, এই মিলনায়তনটি ঘিরেই নাট্যচর্চাসহ সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়মিত আড্ডা বসত। প্রতি বছর ফেব্রয়ারী মাসে এর চত্বরে হতো বইমেলা। এখানে ঈদের সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্টের আয়োজন করতো। এছাড়াও এই ভাসানী হলে জেলার অনেক রাজনৈতিক সভা-সমাবেশও অনুষ্ঠিত হতো। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মূলকেন্দ্র ছিল এই ভাসানী হল। এই ভাসানী হল চালু না থাকায় নাট্য ও সংস্কৃতিচর্চা ব্যাহত হচ্ছে। এটি পরিত্যক্ত থাকায় সংস্কৃতিচর্চাও ঝিমিয়ে পড়েছে। যতদ্রুত সম্ভব এটি পুনর্নিমাণের দাবি জানান তারা।

ভাসানী হলে গিয়ে দেখা যায়, এর বারান্দায় শুয়ে আছে কিছু ছিন্নমূল মানুষ। কক্ষগুলো সব তালাবদ্ধ। দেয়ালের সব পলেস্তার উঠে গেছে। ধুলাবালি ও ময়লা দিয়ে মেঝে পুরোস্তর পড়েছে। সামনেই পান বিক্রির হাট বসেছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক প্রবীণ সঙ্গীতশিল্পী এলেন মল্লিক বলেন, টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মূলকেন্দ্র এই ভাসানী হল। এটি পরিত্যক্ত থাকায় সংস্কৃতিচর্চাও ঝিমিয়ে পড়েছে।

উপাধ্যক্ষ ও সাংস্কৃতিককর্মী আমিনুল ইসলাম উজ্জল বলেন, টাঙ্গাইলের বহু অনুষ্ঠান হয়েছে ভাসানী হলে। এখন যেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এ হলটি খুব দ্রুতই ব্যবহারের উপযোগী করে টাঙ্গাইলে সাংস্কৃতিক প্রবাহ আনা দরকার।

সহকারি অধ্যাপক ও সাংস্কৃতিককর্মী মীর ফাহমিদা জেরিন বলেন, টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ভাসানী হল। সকল শ্রেণীর দর্শকের ভেন্যু ছিল এটি। এখানকার মতো দর্শক অন্য কোথাও হতো না। হলটি বন্ধ থাকায় বিনোদন ঝিমিয়ে পড়েছে। তাই আধুনিক একটি হল নির্মাণ জরুরী হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম বলেন, ভাসানী হলটি পুনঃনির্মাণের বিষয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় খুব দ্রতই এখানে একটি আধুনিক হল নির্মাণ করবে।