ব্রেকিং নিউজ

করোনা থেকে সবার সুরক্ষার স্বার্থেই ঘরে থাকুন

বিশ্ব আজ কাঁদছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। সেই সঙ্গে বড় হচ্ছে মৃতের তালিকা। ইউরোপ এবং আমেরিকাকে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে করোনা। লকডাউন চলছে দেশে দেশে। প্রতিষেধক না থাকায় সচেতনতাই করোনা মোকাবেলার বড় অস্ত্র। এক্ষেত্রে ব্যক্তি পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা এবং নিজেকে অন্যের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখাই প্রধান অবলম্বন। করোনা প্রতিরোধে এই অস্ত্রকেই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে দেশে। ঘরে থাকার নীতিকে কাজে লাগিয়ে কোনো কোনো দেশ আটকেও দিয়েছে করোনার অপ্রতিরোধ্য গতি। বাংলাদেশ সরকারও গ্রহণ করেছে এই নীতি। মানুষ এ অবস্থায় যত বেশি ঘরে থাকবে, যত বেশি অন্যের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকবে তত মঙ্গল।

মানুষ যেন নিরবচ্ছিন্নভাবে ঘরে থাকতে পারে, অন্যের সংস্পর্শে আসতে না হয় সে জন্য সরকার ছুটি ঘোষণা করেছে। টানা দশ দিনের ছুটির পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে সেই ছুটি আবারও বাড়ানো হয়েছে। উদ্দেশ্য একটিই মানুষের সুস্থতা, মানুষের নিরাপত্তা। ছুটির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের সমস্যা হবে, তারা শ্রম বিক্রি করতে না পারলে নিজের ও পরিবারের খাবারের সংস্থান করা কঠিন হবে। সরকার এ দিকটিও গুরুত্ব সহকারে দেখছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বাড়িয়ে দিয়েছে খাদ্যসহায়তার হাত। দশ টাকা কেজি চালের পাশাপাশি টিসিবির মাধ্যমে নায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি হচ্ছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যে গতিতে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, আশার কথা আমরা সেই ঝড় থেকে এখনও মুক্ত। ইতোমধ্যে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়া এবং করোনায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও ইউরোপ, আমেরিকার মতো ভয়াবহ নয় আমাদের অবস্থা। আর এ কারণে সরকারের সচেতনতামূলক উদ্যোগের মাঝেও সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে ঢিলেঢালা ভাব।

সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির ৭ দিন যেতে না যেতেই নানা অজুহাতে ঘর থেকে বের হচ্ছে মানুষ। মূল সড়ক পাশ কাটিয়ে অলিগলিতে জটলা বেঁধে খোশগল্পে মেতে উঠছে অনেকেই। কেউ কেউ আবার বেরিয়েছে নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন এতে করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। বর্তমান সময়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশ থেকে যারা দেশে পৌঁছেছে তাদের কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এই সময়ে যদি আমরা ঘরে থাকি তাহলে করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে পারি।
করোনা প্রতিরোধে আমাদের সচেতন হতে হবে। আমাদের দেশ ঘনবসতিপূর্ণ। সতর্ক না হলে এখানে যেকোনো সংক্রামক ব্যাধি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এক্ষেত্রে করোনার মতো সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়লে তার ফল যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে তার জলন্ত উদাহরণ আমাদের চোখের সামনেই। প্রতিদিনই টিভিপর্দায় ইউরোপ এবং আমেরিকার যে চিত্র ভেসে উঠছে, তা দেখে প্রয়োজন সতর্ক ও সচেতন হওয়া। সরকার উদ্যোগ নিয়ে যে নির্দেশনা দিয়েছে তা সবারই যথাযথভাবে মানা দরকার।

খোশগল্প করার সময় এখন নয়। যে গভীর অসুখ আজ সারা বিশ্বকে কাঁদিয়ে চলেছে, সেই কান্নার ঢেউ আমাদের ঘরেও যেন প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য সচেতন হতে হবে। আশার কথা, ব্যক্তিসচেতনতায় অনেকেই নিজের ও পরিবারের সুরক্ষার জন্য সরকারের নির্দেশনা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে। আগামী কয়েকদিন আমরা সবাই এই নির্দেশনা কঠোরভাবে মানার চেষ্টা করি। এখন আমাদের ঘরে থাকা জরুরি। প্রত্যাশা করি, আমরা ঘরে থাকব, নিজে সুস্থ থাকব এবং অন্যকেও সুস্থ রাখতে প্রত্যয়ী হব। কারণ এটাই করোনা থেকে সুরক্ষার প্রধান পথ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.