করোনার সামান্য লক্ষণে আমাদের করনীয়………ডা. রুনা লায়লা

করোনার সামান্য লক্ষণ দেখা দিলে কি কররেন ?
করোনা ভাইরাসের লক্ষণ খুুবই সামান্য:  যেমন শুধুজ্বর, হালকা কাশি, মাথা ব্যথা এবংঅল্পকিছুদিন পর তা ভাল হয়েছে তবে তার টেষ্টে করার প্রয়োজন নাই। শ্বাসকষ্ট এবং অনেক দিন যাবত জ্বর ,গলা স্বরপরিবর্তন হয়ে যাওয়া, ডায়রিয়া ইত্যাদি হলে জরুরী ভিত্তিতে করোনার টেষ্ট করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হটলাইন ৩৩৩ বা  ১৩২৬৩ নম্বরে ফোন করতে হবে।
আমাদের করনীয় কী ?
 জ্বর, হালকাকাশি, মাথাব্যথা ও গলাব্যথা হলে করনীয় : প্রথমেই বাসার অন্যদের থেকে একটু আলাদা থাকতে হবে ।
 সম্ভব হলে আলাদা রুমে থাকতে হবে এবং আলাদা বাথরুম ব্যবহার করতে পারলে ভাল হয়। সম্ভব না হলে, প্রতিবার বাথরুম ব্যবহার করার পর জীবানুমুক্তকরণ ঔষধ ব্যবহার করতে হবে , বাথরুম করার পর ঢাকনা বন্ধ করে বাথরুমের ফ্লাস করতে হবে এবং ঠান্ডাকাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তির বাথরুম ব্যবহার করার ৩০ মিনিট পর অন্যরা বাথরুম ব্যবহার করতে হবে।
 যিনি খাবার পরিবেশন ও ঘর পরিষ্কারের দায়িত্বে থাকবেন উনি মাস্ক ব্যবহার করবেন এবং প্রতিবার খাবার পরিবেশনের পর হাত সাবান পানি দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধুয়ে ফেলতে হবে।
 রোগীর ব্যবহার্য জিনিসপত্র রোগীর নিজেই পরিষ্কার করা সবচাইতে ভাল এবং রোগী নিজের কাপড় কমপক্ষে ৩০ সেকেন্ড ডিটারজেন্টে ভিজিয়ে রেখে তারপর ধুয়ে ফেলতে হবে।

করোনায় কত দিন আলাদা থাকতে হবে এবং  ঠাণ্ডা -কাশি ও জ্বর ভাল না হওয়া পর্যন্ত  আর কী কী করতে হবে ?
১।  হাত ঘনঘন সাবান পানি দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধুতে হবে
২। সামাজিক দূরত্ব কমপক্ষে  (৩ফিট ) মেনে চলতে হবে
৩।  হাঁচি-কাশির সময় টিসু ব্যবহার করতে হবে । হাতের কাছে টিসু না থাকলে রুমাল ব্যবহার করতে পারেন। হাতের কাছে একে বারেই কিছু না থাকলে কনুইয়ের ভাঁজে কাশি দিতে হবে ।
৪। টিসুমাস্ক নির্দিষ্ট ঢাকনা যুক্ত বিনে ফেলতে হবে ।
৫। অন্যের সঙ্গে কথা বলার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
৬।  ব্যবহার্য জিনিসপত্র প্রতিদিন সাবান পানিতে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে তারপর পরিষ্কার করে এবং রোদে শুকিয়ে ব্যবহার করতে হবে ।
৭। গরম পানিতে লবণ দিয়ে দিনে কয়েক বার গড়গড়া করতে হবে।
৮।  বাথরুম করার পর বাথরুমের ফ্লাসের ঢাকনা বন্ধ করে ফ্লাস করতে হবে।
৯। ঘরের চারিপাশ, আসবাবপত্র প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে।
১০। হালকা ব্যায়াম করতে হবে যেমন শ্বাসের ব্যায়াম – সকালে ৫ সেকেন্ড , বিকালে ৫ সেকেন্ড, রাতে ৫ সেকেন্ড করতে হবে।
১১। মুসলমানগন দৈনিক ৫ বার নামাজআদায় করতে হবে।
১২। সৃষ্টিকর্তাকে বেশি বেশি মনে করতে হবে এবং মন থেকে ভয় একেবারে দূর করে ফেলতে হবে।
আমাদের কী কী খেতে হবে ?
১৩।  ভরা পেটে গরম পানিতে লেবুর রস ,আদা, লবঙ্গ দিয়ে ফুটিয়ে ১ঘন্টা পর পর পান করতে হবে।
১৪।  গরমগরম লাল চা খেতে হবে।
১৫।  কিছু না থাকলে ১ ঘন্টা পর পর শুধু গরম পানি পান করতে হবে।
১৬।  দিনে কমপক্ষে ২-৩ বার গরম পানির ভাপনিতে হবে।
১৭।  দিনে যে কোনসময় (সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৩ট পর্যন্ত) কমপক্ষে ১০-১৫ মিনিট শরীরে সূর্যের আলো লাগাতে হবে।
১৮।  পুষ্টিকর খাবার যেমন – মাছ, মাংস,ডিম দুধ ,সবুজশাকসবজি ,ফলমূল, ডাল,বাদাম খেতে হবে।
১৯। কালোজিরা, গোলমরিচ,মধু, তুলসীপাতার রস,লেবু ও লেবুর খোসা খেতে পারেন
২০। আনারস,পেঁয়ারা,কমলালেবু,আমলকী খেতে হবে।
আমাদের  রান্নার সময় কী  করতেহবে ?
১।  রান্না করার সময় ভাতের মাড় ফেলবেন না ।
২।  খাবার ভালভাবে রান্না করতে হবে।
করোনায় কী খাওয়া যাবে না ?
১।  ঠান্ডা খাবার।
২। কাঁচা খাবার যেমন : টমেটো সালাদ, কাঁচাশসা ইত্যাদি।
৩।  ভাঁজা-পোড়াখাবার ফাস্ট ফুড।
৪। চিনিযুক্ত খাবার।
৫। আধা সেদ্ধ খাবার খাওয়া যাবে না।
করোনায় চিকিৎসা:
সামান্য লক্ষনের জন্য উপসর্গ ভিত্তিক চিকিৎসা নিতে হবে যেমন:

শুধুজ্বর, হালকা কাশি,মাথাব্যথা, গলাব্যথার জন্য যা করতে হবে। যে ওষধ বাসার পাশের ফার্মেসীতে পাওয়া যায় তাকে ওভার দা কাউন্টার ড্রাগ বলে। সেই জাতীয় ওষধ কিনে খেতে হবে।
১।  জ্বর মাথাব্যথা (Tab Napa Extra 500 mg / Ace Plus 500 / Napa XR 665 mg)  যে কোন একটি ওষধ শরীরের ওজন ওনুযায়ী ৩-৪ বার খেতে হবে জ্বর যতদিন থাকবে। যদি লিভারের / যকৃতের কোন সমস্যা না থাকে।
২। শরীরে খুব বেশি জ্বর থাকলে (     ) ০ এর উপরে থাকলে পায়খানার রাস্তায় ব্যবহার করতে হবে তবে খুব বেশি ব্যকহার করা যাবে না।
৩।  হালকা ঠান্ডা-কাশি (Tab Alatrol 10 mg/Tab Deslor 5 ) ২ বার খাবেন / সাথে Tab Fexo 120 mgw দিনে ১ বার খাবেন  ৫ দিন ।
৪। কাশি SypAmbrox / SypMirakof  চা চামচ ২ বার ৭ -১০ দিন খেতে হবে।
৫।  ডায়রিয়া Tab Flagyl 400 mg – ৩ বার খাবেন এবং SMC ORS প্রতিবার ডায়রিয়ার পর খাবেন।
বেশি সমস্যা হলে যেমন শ্বাসকষ্ট এবং অনেকদিন যাবত জ্বর ,গলার স্বরপরিবর্তন হয়ে যাওয়া, ডায়রিয়া ঘনঘন ইত্যাদি হলে জরুরী ভিত্তিতে করোনা টেষ্ট করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হটলাইন ৩৩৩ বা ১৩২৬৩ নম্বরে ফোন করতে হবে ,আপনার সমস্যার জন্য ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে এবং বিশেষ প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তী করতে হবে।
আমরা সবাই মিলে একজন অন্য জনকে সহায়তা করি ,সবাই মিলে একসাথে করোনা মেকাবিলা করি এবংআমাদের দেশ থেকে করোনা নির্মূল করি।

ডা. রুনালায়লা
এমবিবিএস,এমপিএইচ,পিজিটি-গাইনী ও অবস্
সি এম ইউ ও ডি এম ইউ- ইউ এস জি
ম্যানেজার ব্র্যাক,এইচআরএবংলার্নিংডিভিশন

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.