দেশে ডাকাতি-ছিনতাই বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো তৎপরতা প্রয়োজন

দেশ জুড়ে চলছে করোনার ভয়ঙ্কর আগ্রাসন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিধি অনুযায়ী চলছে কঠোর সতর্কতা। মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে জনগণকে রক্ষার জন্য ঘরে থাকাসহ জনসমাবেশ এড়িয়ে চলতে বলেছে।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশ জুড়ে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে দেশের মানুষ করোনা সংক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে। এমনিতে বিশ্ব জুড়ে চলছে মৃত্যুর মিছিল। সংক্রমিত হয়েছে ২১০টি দেশ। মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত। বাংলাদেশের মানুষ করোনাভাইরাস মোকাবেলার যুদ্ধে শামিল।

এই করোনাকালে রাজধানীসহ সারা দেশে শুরু হয়েছে ডাকাতি-ছিনতাই। দীর্ঘদিন নানা প্রক্রিয়ায় ডাকাতি করলেও এখন ভোল পাল্টে নতুন কৌশলে হানা দিচ্ছে ডাকাতরা। পুলিশ বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরিচয় দিয়ে মানুষের বাসাবাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ডাকাতিতে তৎপর তারা। আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখিয়ে লুটপাট করছে মূল্যবান জিনিসপত্র। দিনে রাস্তাঘাটে মানুষ বের হলেও সন্ধ্যার পরপর রাজধানীসহ সারা দেশ হয়ে পড়ে সুনসান। ডাকাত দল এ সুযোগ নিয়ে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

গত দেড় মাসে দেশে শতাধিক ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ডাকাত দলের অর্ধশত সদস্যকে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। এ ছাড়া পুলিশ ও র‌্যাবের সঙ্গে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডাকাত চক্রের তিন সদস্য নিহত হয়েছে। ইতোমধ্যে করোনাকালের সুযোগ নিয়ে পুলিশ, চিকিৎসক বা ভিন্ন কোনো পরিচয়ে কেউ বাসায় ঢুকতে চাইলে তাদের বিষয়ে সতর্ক হতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে পরিচয় নিশ্চিতে পুলিশের পক্ষ থেকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে অথবা নিকটবর্তী থানায় কল করতে বলা হয়েছে।

গণমাধ্যম বলছে, করোনা শুরুর পর ঢাকার মোহাম্মদপুর ও খিলগাঁওয়ে দুটি ওষুধের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা মাস্ক পরে দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে নগদ টাকা, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পাঁচ পেশাদার ডাকাতকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
ওষুধের দোকানে ডাকাতির পাশাপাশি প্রাইভেট গাড়ি, পণ্যের গাড়িতেও ডাকাতি হয়েছে। ঢাকার মোহাম্মদপুর, রামপুরা, কালশী, আদাবর, মিরপুর, বেড়িবাঁধ, যাত্রাবাড়ী, তুরাগ, রূপগঞ্জসহ আরও একাধিক স্থানে ডাকাতি হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করলেও মূল পরিচয় ছিল স্বাস্থ্যকর্মী এবং পুলিশ। করোনার অজুহাত দেখিয়ে বাড়িতে ঢুকে মূলত ডাকাতি করে তারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে জানা যায়, টাঙ্গাইল, সাভার ও ঢাকা জেলার বহু জায়গায় স্বাস্থ্যকর্মীদের পিপিই পরে ডাকাতরা বিভিন্ন বাসায় প্রবেশের চেষ্টা করছে। গভীর রাতে করোনা রোগীর তথ্য ও নমুনা সংগ্রহের অজুহাত দিয়ে বাসায় ঢোকার চেষ্টা চালিয়েছে।

পুলিশ বলছে, ক‌রোনা‌ রোগীর তথ্য সংগ্রহ ও জরুরি সেবার কথা বলে সাধারণ মানুষের বা‌ড়ি‌তে গি‌য়ে অপরাধ সংঘটনের সুযোগ নি‌চ্ছে ডাকাতরা। তাই আমাদের সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। কোনো অবস্থা‌তেই প‌রিচয় নি‌শ্চিত না হ‌য়ে কাউকে বাসায় প্র‌বেশ কর‌তে দেওয়া যাবে না।

দেশের মানুষ করোনা আতঙ্কে। এর মধ্যে ডাকাতি, ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা মানুষকে উদ্বেগের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বড় ভূমিকা রয়েছে। সেবায় চিকিৎসক ও সেবিকারা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। তেমনি এই সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশবাসীর নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে সেটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।

দেশের মানুষ এখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। পরিত্রাণের পথ একসময় আমরা অবশ্যই পেয়ে যাব। আমরা যদি সরকারের নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে থাকি, নিজেকে সুস্থ রাখি, গণসমাবেশ এড়িয়ে চলি তা হলে এ দুঃসময় অতিক্রম করা আমাদের জন্য সহজ হবে। এক্ষেত্রে সবার সুমতি হোক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.