News Tangail

মহিলা কোটা জটিলতা: দেড় বছর এমপিওবঞ্চিত শিক্ষকদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

গত ২৪ জানুয়ারী ২০১৯ সালে এনটিআরসিএ ২য় নিয়োগ চক্রে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩১৫০০ শিক্ষক সুপারিশ করে। এই সুপারিশে মেধা তালিকায় নিয়োগ পেয়েও এক বছর পাঁচ মাস মহিলা কোটার জন্য এমপিওভূক্ত না হতে পারা তিনশ শিক্ষক প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এর সমাধান চেয়ে খোলা চিঠি দিয়েছে। আমাদের বাণী ডট কম এর পাঠকদের জন্য শিক্ষকদের পাঠানো খোলা চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হল;

বরাবর,

মাননীয় প্রধান মন্ত্রী

প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়

তেজগাঁও, ঢাকা -১২১৫, বাংলাদেশ।

বিষয় :এনটিআরসিএ কর্তৃক সুপারিশ প্রাপ্ত হয়ে নিয়োগ পেয়েও এক বছর পাঁচ মাস মহিলা কোটার জন্য এমপিওভূক্ত না হতে পারায় জটিলতা নিরসনের জন্য আবেদন।

প্রিয় মানবতার মা,

পত্রের শুরুতে গ্রহন করবেন হৃদয় নিংড়ানো অভিনন্দন। আশা করি বাঙ্গালি জাতির জনকের কন্যা আল্লাহর অশেষ কৃপায় ভালো আছেন। আজকে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ কোভিড -১৯ তথা করোনা ভাইরাসের ছোবলে বিধ্বস্ত। আমরা সবাই দুশ্চিনতায় এক ভয়াবহ বিপদের আশঙ্কায় উৎকন্ঠিত। আজ সব কিছু স্থবির হয়ে পড়েছে। কোমলমতী শিক্ষার্থীরাও তাদের প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। হঠাৎ থমকে গেছে সব কিছু।

তাই মমতাময়ী মা মাননীয় প্রধান মন্ত্রী মহোদয় আপনার দৃষ্টি আকর্ষন পূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, জাতির পিতার সোনার বাংলায় আজ শিক্ষকরা অবহেলিত।

মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, গত ২৪ জানুয়ারী ২০১৯ সালে এনটিআরসিএ ২য় নিয়োগ চক্রে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩১৫০০ শিক্ষক সুপারিশ করে। আমরা হাজার হাজার প্রতিযোগীদের সাথে প্রতিযোগীতা করে মেধায় নিয়োগ পাই। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এই যে, আমরা তিনশত শিক্ষক কে যে প্রতিষ্ঠানে সুপারিশ করেছে, সেই প্রতিষ্ঠানে মহিলা কোটার শর্ত পূরন ছিলো না। তাই দীর্ঘ এক বছর পাঁচ মাস হলেও আমরা এমপিও ভূক্ত হতে পারিনি, আমরা বিনা বেতনে ক্লাস নিচ্ছি। আমরা খুবই মানবতার জীবন যাপন করছি। এনটিআরসিএ যখন গনবিজ্ঞপ্তি দেয়, তখন আমাদের পদ গুলো কোথায় ও মহিলা কোটা উল্লেখ ছিলো না। আমরা এ বিষয় এনটিআরসিএ, অধিদপ্তর, ও শিক্ষা মন্ত্রনালয় আবেদন দিলে ৭ .৪.২০১৯ইং তারিখ অধিদপ্তরের মাধ্যমে আমাদের এই ভূক্তভোগীদের তালিকা এনটিআরসিএ সংগ্রহ করে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন সমাধান দেয়নি। মন্ত্রনালয় গত ৯.৯.১৯ইং তারিখে অধিদপ্তর কে অন্য প্রতিষ্ঠানে পদ শূন্য সাপেক্ষে আমাদের সমন্বয়করন করার নির্দেশ দেয় যার স্মারক নং ৫৭.০০.০০০০.০৪৩.৯৯.০৪০.১৮.১০১। কিন্তু অধিদপ্তর সেই আদেশ ও বাস্তবায়ন করেনি। এরপর গত ২৭.১.২০২০ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রনালয় এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান ও মাদ্রাসার মহাপরিচালক কে নিয়ে মহিলা কোটার সমস্যা সমাধানে মিটিং করে। কিন্তু আমরা আজও কোন সমাধান পেলাম না।

প্রিয় দেশরত্ন,

জানিনা আমার এই চিঠি আপনি পাবেন কিনা, যদি আপনার নজরে আসে তাহলে অনুগ্রহ করে একটু বিস্তারিত দেখবেন। একই সাথে সুপারিশ পেয়ে অনেকেই এমপিও ভূক্ত হয়ে গেছে অথচ আমরা মহিলা কোটার জন্য এমপিও বঞ্চিত।

মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, আমরা ও মেধায় নিয়োগ পেয়েছি তাহলে কেন এমপিও বঞ্চিত হবো। হে মানবতার অগ্রদূত, আমাদের ও পরিবার আছে স্বপ্ন আছে। আমরা খুবই হতাশা গ্রস্থ। আমাদের অনেকের বয়স ৩৫+ হয়ে গেছে।

অতএব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,মমতাময়ী মা, আপনার নিকট আর্জি এই যে উপরোক্ত বিষয় সার্বিক বিবেচনা করে দেশের এই দুর্যোগ মুহূর্তে আমাদের পরিবারের কথা বিবেচনা করে আমাদের এমপিওর ব্যবস্থা করে দিতে আপনার একান্ত মর্জি হয়।

মহিলা কোটার কারনে এমপিও বঞ্চিত

শিক্ষকদের পক্ষে ..

মোঃরাসেল

সহকারি শিক্ষক (কৃষি)

হামিদপুর হামিদিয়া দাখিল মাদ্রাসা

ইআইআইএন :১০১৩৮১

চরফ্যাসন, ভোলা।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.