মাকে মনে পড়ে আমার মাকে মনে পড়ে’ আজ বিশ্ব মা দিবস

এম সাইফুল ইসলাম শাফলু : কবির ভাষায় ‘মধুর আমার মায়ের হাসি চাঁদের মুখে ঝরে, মাকে মনে পড়ে আমার মাকে মনে পড়ে’। মাকে কার না মনে পড়ে? যার আছে সেও মনে করে, আবার যার নেই সেও মাকে মনে করে। মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্কটাই এমন। ‘মা’ কেবল একটি শব্দে মায়া, মমতা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং ত্যাগের অনন্য নজিরের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পৃথিবীর প্রতিটি সন্তানের নিরাপদ আশ্রয়স্থল মা। এই মায়ের কারণেই পৃথিবীর আলোর মুখ দেখেছি আমরা সবাই।

আজ মে মাসের দ্বিতীয় রোববার। বিশ্ব মা দিবস। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য মাকে যথাযথ সম্মান দেওয়া, ভালোবাসা। সারাবিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হয়। দিনটি উপলক্ষে দেশে অন্যান্য বছর নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিভিন্ন সংগঠন। তবে এবার মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে মা দিবসে কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি থাকছে না। ঘরে থেকেই যার যার মতন করে পালিত হবে মা দিবস। অবশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরই মধ্যে মাকে ভালোবাসা জানিয়েছেন বহু সন্তান।

মায়া-মমতার খনি যাকে বলা হয় এবং একজন সন্তান জন্মের পর থেকে আমৃত্যু যার ছায়ার পরশে জীবনকে বেঁধে রাখেন তিনি হলেন মা। মায়ের সমার্থক শব্দ গুণে শেষ করা যাবে না। কিন্তু ‘মা’ এর চেয়ে মধুর ডাক পৃথিবীতে আর কিছু নেই। এমনকি মনীষীরাও বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দের নাম  মা। মায়ের সারাজীবনের কষ্ট ও শ্রমের মূল্য কোনো কিছুর বিনিময়ে কখনও শোধ করা যায় না বা শোধ করা যাবে না। মায়ের জন্য বিশেষ দিন থাকার দরকার আছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। কিন্তু একটি বিশেষ দিনে মাকে না হয় একটু বেশিই ভালোবাসা যায়। হয়তো সে কারণেই সবাই মা দিবস পালন করে থাকি।

মা দিবস উদযাপনের পেছনের ইতিহাস স্মরণ করলে জানা যায়, মা দিবসের সূচনা হয় ১৯০৮ সালে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার এক স্কুলশিক্ষিকা অ্যানা জারভিস সেখানকার পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা দেখে মর্মাহত হয়ে মায়ের জন্য বিশেষ দিন পালনের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টির কথা ভেবেছিলেন। অ্যানা জারভিসের সেই ভাবনা বাস্তবায়নের আগেই ১৯০৫ সালের ৯ মে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর মেয়ে অ্যানা এম জারভিস মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণের উদ্দেশ্যে কাজ শুরু করেন। বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে ১৯০৮ সালে তার মা ফিলাডেলফিয়ার যে গির্জায় উপাসনা করতেন, সেখানে সব মাকে নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মা দিবসের সূচনা করেন। ১৯১১ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রাজ্যে মা দিবস পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ১৯১৪ সালের ৮ মে মার্কিন কংগ্রেস মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে এ দিনটি মায়েদের জন্য উৎসর্গ করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করা হয়।

বিশ্বের ৩৭টিরও বেশি দেশে মা দিবস পালন করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশসহ অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, কলম্বিয়া, চেক রিপাবলিক, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ভারত, সিঙ্গাপুর নিউজিল্যান্ডসহ অন্তত ২৭টি দেশে মা দিবস পালন করা হয় মে মাসের দ্বিতীয় রোববার।  এ ছাড়া নরওয়েতে ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় রোববার,

আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বেলারুশ, সার্বিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ মা দিবস পালন করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মা দিবস পালন করা হয় ২১ মার্চ। এ ছাড়া মে মাসের অন্যান্য দিন, জুন, আগস্ট, অক্টোবর এবং নভেম্বরেরও কয়েকটি দেশে মা দিবস পালন করা হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে খুব আয়োজন করে মা দিবস পালন করা না হলেও এদিনে বিশেষ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে। এ ছাড়া আলোচনা অনুষ্ঠান, র‍্যালিসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিভিন্ন সংগঠন। ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই মাকে এই দিনে বিশেষ উপহার দিয়ে থাকেন। কেউ কেউ মাকে নিয়ে বাইরে খেতেও যান। সে জন্য মা দিবসে অনেক রেস্টুরেন্টে বিশেষ ছাড়ও দেওয়া হয়। তবে এবার মাকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে যাওয়া বা রেস্টুরেন্টে যেয়ে মায়ের সঙ্গে খাবার খাওয়া হচ্ছে না। করোনার কারণে মা দিবস পালন করতে হবে ঘরে থেকেই।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.