ব্রেকিং নিউজ

অবশেষে করোনা যুদ্ধে জয়ী হতে চলেছে মানুষ

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত মানুষই জয়ী হতে চলেছে। এ ঘাতক ব্যাধির বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব জুড়ে ১০৮টি গবেষক দল। এর মধ্যে আটটি ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ইতোমধ্যে কার্যকর ভ্যাকসিন তৈরির দাবি করেছে ইতালি।
মানবদেহে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে দ্য আমেরিকান ন্যাশনাল হেলথ ইনস্টিটিউট ১৬ মার্চ। ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনও ভ্যাকসিন তৈরিতে একধাপ এগিয়ে আছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য অনুমোদন পাওয়া আটটি ভ্যাকসিনের মধ্যে পাঁচটিই চীনের। এ ছাড়া একটি করে ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। অন্যটি যৌথভাবে তৈরির কাজ করছে জার্মান কোম্পানি বায়োএনটেকে ও যুক্তরাষ্ট্রের বায়োটেক কোম্পানি পিজফার। ১৬ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো মানবদেহে পরীক্ষামূলকভাবে ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর আরও সাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাদের তৈরি করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য ভ্যাকসিন মানবদেহে প্রয়োগ করেছে। পরীক্ষা শেষে কার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেলেই বাজারে আসবে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের সম্ভাব্য ভ্যাকসিন বা টিকা।

ইতালির গবেষকদের দাবি, বিশ্বে করোনাভাইরাসের প্রথম ভ্যাকসিন তারা তৈরি করে ফেলেছে। তাদের দাবি, এমন ভ্যাকসিন তারা আবিষ্কার করেছে, যা মানুষের কোষে ভাইরাসটিকে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে। অ্যান্টিবডি-সমৃদ্ধ রক্ত থেকে সিরামকে আলাদা করে এ ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়েছে।
ইতালির রোমে সংক্রামক রোগের চিকিৎসা কেন্দ্র স্পাল্লানজানি হাসপাতালে করা একাধিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, ইতালীয় ভ্যাকসিনটি ইঁদুরের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবডি তৈরি করেছে, যা মানুষের কোষেও কাজ করে।
বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মিডিয়া বলছে, বিশ্ব জুড়ে করোনাভাইরাসের ওষুধ ও ভ্যাকসিন নিয়ে চলমান গবেষণায় আশাবাদী হওয়া যায়। করোনাভাইরাস গত তিন মাসে অচল করে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে। এ কারণে ভ্যাকসিন ও ওষুধ দ্রুত বাজারে আনতে মরিয়া ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো করোনা ভাইরাসের মতোই সার্স কোভ-২-এর জন্য প্রতিষেধকের খোঁজ করে চলেছিলেন এতদিন। সেই গবেষণার হাত ধরেই কয়েকটি ওষুধের ওপর পরীক্ষা জোরদার করেছেন।

রাশিয়াও দাবি করেছে, তাদের তৈরি ভ্যাকসিন মানুষের ওপর পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য প্রস্তুত। চীন, আমেরিকা ও জাপানের ডাক্তাররা করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরিতে অনেকদূর এগিয়েছেন। পিছিয়ে নেই রাশিয়া। দেশটির ডাক্তাররা ভ্যাকসিন আবিষ্কারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। করোনার প্রতিষেধক হিসেবে ছয়টি ওষুধ আবিষ্কার করেছে তারা। এখন এসব ওষুধের ওপর পরীক্ষা করা হচ্ছে। করোনাভাইরাসকে ঠেকাতে শক্ত পদক্ষেপ ও প্রস্তুতি নিয়ে এখন পর্যন্ত বড় আকারের দুর্যোগ থেকে স্বস্তিতে আছে দেশটি। সেই প্রচেষ্টায় রাশিয়ার সেইন্ট পিটার্সবার্গ রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব ভ্যাকসিনস আশার কথা শুনিয়েছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে তাদের উদ্ভাবিত প্রতিষেধক সম্ভাবনায় ভ্যাকসিনের তালিকায় রেখেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

একদল মার্কিন গবেষক দাবি করছেন, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে পারে, মুখে খাওয়ার এমন ওষুধ বা বড়ি নিয়ে পরীক্ষাগারে সফল পরীক্ষা চালিয়েছেন তারা। এই ওষুধটি সার্স কোভ-২ ভাইরাসের উচ্চ সংখ্যায় পুনরোৎপাদন এবং সংক্রমণে বাধা সৃষ্টি করে। ইঁদুরের ওপরও এ ওষুধ নিয়ে তারা গবেষণা করে দেখেছেন এটি করোনাভাইরাসকে পুনরোৎপাদনে বেশ কিছুদিন বাধা দেওয়ার এবং ফুসফুসের কার্যকারিতা উন্নত করার প্রমাণ পেয়েছেন তারা। যুক্তরাষ্ট্রের ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয় ও ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের একদল করোনার চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার নিয়ে সারা বিশ্বে আলোচনা হচ্ছে। চীন, ইতালিসহ কয়েকটি দেশে এই ওষুধ ব্যবহার করে সুফল পাওয়া গেলেও এটির সফলতার হার নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই ওষুধটির কার্যকারিতার গুণগান করার পর সারা বিশ্বেই আলোচনার ঝড় ওঠে। দেশে দেশে ওষুধটি কতটা কার্যকর সে নিয়ে ইতিবাচক, নেতিবাচক দুই ধরনের মতামত পাওয়া যায়। করোনার ভ্যাকসিন পরীক্ষার পর গবেষকরা দেখেছেন, মানবকোষেও এটি ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করছে। করোনাভাইরাসে ইতোমধ্যে যে প্রাণহানি ঘটেছে তা প্রথম মহাযুদ্ধের চেয়ে বেশি। অর্থনীতির যে ক্ষতি করেছে এ ভাইরাস তা প্রথম মহাযুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতিকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়। লাখ লাখ মানুষকে ঠেলে দিয়েছে দারিদ্র্যসীমার নিচে। করোনাভাইরাসের কার্যকর ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করা গেলে তা হবে মানবজাতির জন্য এক সুখবর। বিজ্ঞানের জন্যও এটি হবে এক মহত্তম আবিষ্কার।