ব্রেকিং নিউজ

টাঙ্গাইলে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে স্বাস্থ্যকর্মীকে ঘিরে তুঘলকি কাণ্ড

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে মোতালেব হোসেন নামক এক যুবককে নিয়ে তুঘলকি কাণ্ড ঘটেছে। তিনি ঢাকা থেকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে পালিয়ে ঘাটাইলে অবস্থান করছেন এমন সংবাদে পৌরসভার খরাবর এলাকার লোকজনের মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে অস্থিরতা দেখা দেয়। পরে তিনি সন্ধায় পালিয়ে তার গ্রামের বাড়ী উপজেলার কদমতলী দেলুটিয়া চলে গেলে সেই অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পায়। অবশেষে মঙ্গলবার গভীর রাতেই তাকে কদমতলী এলাকা থেকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে পাঠায় কর্তৃপক্ষ।

মোতালেবকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল হাসপাতালে পাঠানোর তথ্য নিশ্চিত করেছেন দিগর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন।

জানা যায়, মোতালেব পেশায় একজন স্বাস্থ্য কর্মী। তিনি ঢাকায় একটি হাসপাতালে একজন প্যাথোলজিষ্ট হিসেবে কর্মরত অবস্থায় দূর্ভাগ্যক্রমে তার শরীরে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। তার পিতার নাম আব্দুল খালেক।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, মোতালেব হোসেন তার নিজের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী করোনা আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে চিকিৎসা না নিয়ে পালিয়ে ঘাটাইল পৌরসভার খরাবর এলাকায় এক বাসায় গত তিন দিন যাবত অবস্থান করছেন। মঙ্গলবার বিষয়টি জানাজানি হলে খরাবর এলাকার স্থানীয় লোকজন মোতালেব সহ তিনি যে বাড়ীতে অবস্থান করছিলেন সেই বাড়ীর অন্যান্য লোকজনকে সচেতনতামূলক সতর্ক করেন। মোতালেবকে স্থানীয়রা বলেন, আপনি ঘর থেকে বের হবেন না, আপনার নিত্য প্রয়োজনীয় যতো সামগ্রী প্রয়োজন সবই আমরা সরবরাহ করবো। এমতবস্থায় মোতালেব মঙ্গলবার সন্ধার পর পালিয়ে তার নিজ গ্রামের বাড়ী দেলুটিয়া চলে যান।

এদিকে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌরসভার মেয়র, স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনারকে অবহিত করেন। তারা দ্রুত এই বিষয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

অনলাইন এক্টিভিষ্ট জাহান কলি এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলে এটি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়। পরে প্রশাসনের আন্তরিকতায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে মঙ্গলবার রাতেই মোতালেবকে উপজেলার দেলুটিয়া গ্রামের বাড়ী যাওয়ার পথে কদমতলী এলাকা থেকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। এতে করে ঘাটাইলে রাতেই এক ধরণের স্বস্তি নেমে আসে।

মোতালেব হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি আগের থেকে অনেক সুস্থ আছি। নিজের ও পরিবার সদস্যদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমি ঘাটাইলের খরাবর এলাকায় বাসায় এসে কোয়ারেন্টাইনে ছিলাম। কিন্তু বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর এলাকার লোকজনকে কিছুটা উত্তেজিত অবস্থায় দেখতে পেয়ে আত্মসন্মানের ক্ষয়ক্ষতির ভয়ে আমি আমার গ্রামের বাড়ী এলাকায় চলে আসি। পরে দিগর ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় আমি মঙ্গলবার রাতেই টাঙ্গাইল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছি।

আপনি কি করোনায় আক্রান্ত- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি করোনায় আক্রান্ত নই। স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে নিজেকে সন্দেহ করেছি আক্রান্ত হওয়ার। তাই নিজের ইচ্ছায় পরিবার সদস্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কয়েকদিন যাবত খরাবর এলাকায় হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলাম। টাঙ্গাইলে হাসপাতালে এসে বুধবার নমুনা দিয়েছি, ফলাফল পাওয়া গেলে বিষয়টি নিশ্চিত জানা যাবে।

দিগর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন জানান, করোনা আক্রান্ত মোতালেব মঙ্গলবার রাতে দিগর ইউনিয়নের কদমতলীতে এসে অবস্থান করছিলেন। এসময় কদমতলী, গারট্রের জুলহাস ভাইয়ের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে আমি সেখানে তরিৎ গতিতে গিয়ে পৌছাই এবং সাথে সাথে ইউএনও সাহেব, ওসি সাহেব এবং টিএসও সাহেবের সাথে দফায় দফায় পরামর্শক্রমে ও তাদের সহযোগিতায় টাঙ্গাইল থেকে এম্বুলেন্স নিয়ে এসে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে আইসোলিউসিনে মোতালেবকে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।

এ বিষয়ে ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, মোতালেবকে রাতেই উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ায় প্রশাসন ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। এদিকে প্রশাসনের উচিৎ মোতালেবের সংস্পর্শে যারা এসেছেন তাদের সকলের করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা। মোতালেব খরাবর এলাকার যে বাসায় ছিলেন সেই বাসা প্রয়োজনে লকডাউন করে দেয়া এবং সেই বাসার সকল সদস্যদের বাধ্যতামূলক ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করা।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.