সখীপুরে করোনা প্রাদুর্ভাবে উৎপাদিত সবজি নিয়ে লোকসানের মুখে কৃষক

নাছিরুল ইসলাম: বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দেশজুড়ে চলছে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি। মাঠজুড়ে যখন সবজির সমাহার, ঠিক সেই সময় লকডাউন হয়ে পড়েছে দেশ। শহরের মানুষের বড় একটি অংশ এখন গ্রামে। যারা শহরে আছেন, করোনা আতঙ্কে তাদের অনেকেই অতি প্রয়োজন না হলে বাজারে যাচ্ছেন না। ফলে বাজারে সব ধরনের পণ্যের চাহিদা কমে গেছে।
অপরদিকে করোনা ঝুঁকির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে পণ্যবাহী পরিবহণ ভাড়া। এজন্য গ্রাম থেকে শহরে সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য যাওয়ার পরিমাণ কমে গেছে। এতে সবজি উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে মাথায় হাত উঠেছে কৃষকের। দাম না থাকায় সবজি তোলায় আগ্রহ পাচ্ছেন না তারা। ফলে বহু কষ্টে ফলানো সবজি ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে।
কৃষকরা বলছেন, আরও কিছু দিন এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশের কৃষি ও কৃষক বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। পাইকারি কাচা সবজি বিক্রেতারা বলছেন, করোনা ভাইরাস রোধে চলমান দীর্ঘ ছুটিতে রাজধানীর বাজারগুলোতে বেচাকেনায় নেমেছে স্থবিরতা। বিভিন্ন কাঁচা বাজারে দেখা গেছে আগের মতো ক্রেতা-বিক্রেতা নেই।
কৃষক হাসিবুর রহমান জানান, মিষ্টিকুমড়া, করলা, ধুন্দল, চিচিংগা, শসা, চালকুমড়াসহ সব ধরনের কাঁচা সবজির দাম কেজিতে কমেছে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত। পরিবহনের খরচ বেশী। তাই এবার আমি লোকশানে পড়ে যাব। সার, কীটনাশক বিনামূল্যে সরবরাহের দাবি করেন তিনি। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে এখনই কৃষককে সহায়তা দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন কৃষক নেতারা।
বহুরিয়া ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক জলিল মিয়া বলেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার অন্যান্য খাতের ক্ষেত্রে যে ব্যবস্থা নিচ্ছে, সহায়তা দিচ্ছে, কৃষিতেও সেরকম ভর্তুকি দিতে হবে। তা না হলে খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে।
উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সাধারণ কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি যাতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য কীটপতঙ্গ মুক্ত থাকে এবং সঠিক ভাবে বাজার জাত করতে পারে।

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.