কর্মহীনদের বাড়ী বাড়ী ঈদ সামগ্রী পৌঁছে দিল ধল্যা ফাউন্ডেশন 

শেখ নাসির উদ্দিন, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মহামারী নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া ও দুস্থ অসহায় ৫০ টি পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী পৌঁছে দিল ধল্যা ফাউন্ডেশন।

শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের ধল্যা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ধল্যা গ্রামের দুস্থ ও অসহায় ৫০ টি পরিবারের বাড়ী বাড়ী গিয়ে ঈদ সামগ্রী পৌঁছে দেয় ধল্যা ফাউন্ডেশনের সেচ্ছাসেবকরা।

পঞ্চাশ হাজার টাকা মূল্যের ঈদ সামগ্রীর মাঝে ছিল পোলাও চাউল ২ কেজি,চিনি ২ কেজি,গুড়া দুধ ৫০০ গ্রাম,দুই ধরণের সেমাই, বয়লার মুরগী ১ টি,পেয়াজ ১ কেজি, সয়াবিন তৈল ১ লিটার,মুশুরির ডাল ১ কেজি,লবণ ১ কেজি, ৩ ধরনের রান্নার মশলা, একটি জীবাণু মুক্তকরণ সাবান।

 

আফজাল খান (৬৫) বলেন,’ আমি তো কাজ করতে পারি না ঠিক ঠাক। কষ্টে চলে আমার সংসার। এবার ঈদে বাজার করতে পারি নাই। যে জিনিস পাইছি তাতে আমাদের ঈদের বাজার আর করতে হইব না।

জাকির হোসেন (৫৫) বলেন, ‘ যে কাজ করতাম এখন তো করোনার জন্য বন্ধ।  সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।  এর আগে সরকারের পাঁচ কেজি আটা পাইছিলাম। আর এই পাইলাম।

অরাজনৈতিক এই সংগঠনের সেচ্ছাসেবক মাসুদ কামাল বলেন,’ করোনার জন্য অনেক পরিবারের দিন খুব কষ্টে যাচ্ছে। তাই আমাদের ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আমরা চেষ্টা করেছি দুস্থ মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর।

আরেক সেচ্ছাসেবক জামিনুর রহমান বলেন, ‘ আমরা তরুণরা আজ বাড়ী বাড়ী গিয়ে যারা কাজ করতে পারে না। এমন

অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী পৌঁছে দিলাম। রোজা রেখে যতকুটু কষ্ট করেছি এইসব দরিদ্র মানুষের মুখের হাসি তার চেয়ে বেশি আনন্দ দিয়েছে। সবার উচিত দূর্যোগের এই সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

ধল্যা ফাউন্ডেশন সভাপতি খন্দকার আহমেদুল কবির বলেন,’ আমরা সব সময় অসহায় দরিদ্র মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। সেই ধারাবাহিকতায় আজ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ঈদ সামগ্রী

৫০ টি পরিবারে বাড়ী বাড়ী গিয়ে পৌঁছে দিয়েছি। এর আগে করোনা মহামারী প্রথম দিকে দরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী দিয়েছি। বিত্তবানদের প্রতি আহব্বান এই সংকট সাধ্য মত যেন তারা মানুষের পাশে দাঁড়ান।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত অরাজনৈতিক এই সামাজিক সংগঠনটি প্রথমদিক থেকেই সমাজের বিভিন্ন উন্নয়ন

মূলক ও সেবাধর্মী কাজ করে আসছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.