‘খুবই প্রাণবন্ত একজন মানুষ ছিল হুমায়ুন ফরিদি’

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: হুমায়ুন ফরীদি। মঞ্চ, ছোটপর্দা ও বড়পর্দায় সফলতার সঙ্গে কাজ করে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। ১৯৫২ সালের এই দিনে তিনি জন্মেছিলেন, ঢাকার নারিন্দায়। আজ যদি বেঁচে থাকতেন ৬৮তম বছরে পা রাখতেন।
বিশেষ দিনটিতে হুমায়ুন ফরীদিকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, পরিচালক নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। মঞ্চ ও টেলিভিশনে এই পরিচালকের নির্দেশনাতেই হুমায়ুন ফরীদি সর্বাধিক কাজ করেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘খুবই প্রাণবন্ত একজন মানুষ ছিল হুমায়ুন ফরিদি। আমার অনুজপ্রতিম বন্ধু ছিল। মঞ্চ ও টেলিভিশন নাটকে একসাথে শুরু করেছি। আমাকে গুরু ডাকতো। কারণ ওর শুরুটা আমার হাত ধরে। মেধাবী এক অভিনেতা ছিল। সৃজনশীল তো বটেই। একইসাথে ও তাত্ত্বিকভাবে খুব ঋদ্ধ ছিল। অভিনয়ের ব্যাকরণটা ও ভালো জানতো। মহড়া কক্ষে যতটুকু চর্চা করতো তার থেকে ব্যক্তিগতভাবে বেশি চর্চা করতো। চরিত্রটাকে নিয়ে নাড়াচাড়া করতো। মূলত ও চরিত্রের সাথেই জীবন যাপন করতো। তার সাথে মেধা ও প্রকাশ ভঙ্গি মিলিয়ে ও অতুলনীয় এক অভিনেতা হয়ে ওঠে। কিন্তু  দুঃখজনক হলো, ওর জীবন প্রদীপটা নিভল খুব স্বল্প সময়ে।’
হুমায়ুন ফরীদিকে নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ফরীদি থেকে আমাদের অনেক কিছু পাওয়ার ছিল। ওর আরও অনেক সৃষ্টিশীল কাজ দেখার অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু সেটা আমরা পেলাম না। কিন্তু যতটুকু পেয়েছি সেটি আমাদেরকে নানাভাবে ঋদ্ধ করেছে। আমাদের নতুন প্রজন্ম তার এই অভিনয়ের জায়গা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আগামীতে আরও ভালো কাজ করবে। জন্মদিনে আমার এটাই মনে হয়।‘
উল্লেখ্য, হুমায়ুন ফরীদির অভিনয় জীবনের শুরু ছাত্রজীবনে মঞ্চ নাটকের মধ্য দিয়ে। টিভি নাটকে প্রথম অভিনয় করেন আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় ‘নিখোঁজ সংবাদ’-এ। তার অভিনীত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য টিভি নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘সাত আসমানের সিঁড়ি’, ‘একদিন হঠাৎ’, ‘চাঁনমিয়ার নেগেটিভ পজিটিভ’, ‘অযাত্রা’, ‘পাথর সময়’, ‘দুই ভাই’, ‘শীতের পাখি’, ‘সংশপ্তক’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘নীল আকাশের সন্ধানে’, ‘দূরবীন দিয়ে দেখুন’, ‘ভাঙনের শব্দ শুনি’, ‘বকুলপুর কতদূর’, ‘মহুয়ার মন’, ‘সমুদ্রে গাঙচিল’, তিনি একজন’, ‘চন্দ্রগ্রস্ত’, ‘কাছের মানুষ’, ‘মোহনা’, ‘বিষকাঁটা’, ‘শৃঙ্খল’, ‘ভবের হাট’ প্রভৃতি ।
প্রথম মঞ্চনাটক কিশোরগঞ্জে মহল্লার নাটকে ১৯৬৪ সালে। মঞ্চে প্রথম নির্দেশনা দেন স্কুল জীবনে, নাম ‘ভূত’। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য মঞ্চনাটক ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’, ‘ফণীমনসা’, ‘শকুন্তলা’, ‘কীত্তনখোলা’, ‘কেরামত মঙ্গল’ প্রভৃতি।
প্রথম চলচ্চিত্র অভিনয় তানভীর মোকাম্মেলের ‘হুলিয়া’। প্রথম বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘সন্ত্রাস’। এছাড়া উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ছবি হচ্ছে ‘ভণ্ড’, ‘ব্যাচেলর’, ‘জয়যাত্রা’, ‘শ্যামলছায়া’, ‘একাত্তরের যীশু’, ‘মায়ের মর্যাদা’, ‘বিশ্বপ্রেমিক’ ও ‘পালাবি কোথায়’।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.