ঘাটাইলে এক মণ ধানেও মিলছে না একজন শ্রমিক

ঘাটাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মাথায় হাত। মাঠে মাঠে পাকা ধান থাকলেও শ্রমিকের মজুরি বেশি থাকায় ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছে অনেক কৃষক। এক মণ ধানের দামেও মিলছে না একজন শ্রমিক।

আজ শনিবার উপজেলার কয়েকটি এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায় শ্রমিকদের জনপ্রতি মজুরি দিতে হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা। সঙ্গে তিন বেলা খাবার। এতে গৃহস্থের শুধু ধান কাটতেই প্রতিমণ ধানের খরচ পড়ছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা। এছাড়া জমি চাষ, সেচ, চারা ও সার, কীটনাশকসহ অন্যান্য খরচ তো রয়েছেই। শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি থাকায় অনেক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ধান কাটার কাজ করছে। প্রতিটি এলাকায় এখন পুরোদমে বোরো ধান কাটা চলছে।

ঘাটাইল উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের উতপাদন হয়েছে ২০ হাজার ৯২০ হেক্টর। বর্তমানে উপজেলার হাট-বাজারে প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায়। ধানের মূল্য কম থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে এ উপজেলার কৃষকেরা।

উপজেলার কালিয়াগ্রামের কৃষক শাহজাহান পাঠান জানান, আমি এ বছর ২০০ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। এখন সেই জমিগুলোর ধান কাটতেছি, যে ধান পামু তাতে আমার বহুত লোকসান যাবো। এভাবে চলতে থাকলে ধান চাষীরা না খেয়ে মারা যাবে।

কৃষক আব্দুল লতিফ জানান, এ বছর কামলার যে দাম,এত টেহা দিয়া কামলা নিয়া ধান কাটলে সামনে বছর পর্যন্ত কৃষক বাঁচবো কিনা সন্দেহ আছে। কৃষক হোসেন আলী,হাসমতসহ অনেকেই জানান, বর্তমানে ধান কাটা একজন শ্রমিকের মূল্য ৮৫০-৯০০ টাকা আর এক মণ ধানের মূল্য ৬৫০ টাকা। এক মণ ধানের টাকায়ও একজন শ্রমিক মিলছে না। ফলে আমরা জমির পাকা ধানগুলো কেটে ঘরে তুলতে পারছি না।

উপজেলার হামিদপুর গ্রামের কৃষক আজমত আলী জানান, আমি এবার ৫শ শতাংশ জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছি। বাজারে ধানের চাহিদা ও বাজার মূল্য অনেক কম থাকায় আমাকে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বলেন, বোরো ধানের বাজার মূল্য কম থাকায় হতাশ না হয়ে আমরা কৃষকদের ধান ভালোভাবে শুকিয়ে সংরক্ষন করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। যাতে করে সংরক্ষিত ধান পরে বিক্রয় করে দামটা ভালো পাওয়া যায়।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.