ব্রেকিং নিউজ

কালিহাতীতে মা-মেয়ে ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সহ নতুন করে ৭জন করোনায় আক্রান্ত!

শুভ্র মজুমদার, কালিহাতী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:-টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে মা-মেয়ে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) ও সিনিয়র স্টাফ নার্স সহ নতুন করে আরো ৭ জন‌ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

তারা হলেন, উপজেলা গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের গোহালিয়াবাড়ী গ্রামের হাফিজা (৩২) ও তার মেয়ে জান্নাতী আলম (১১), উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) রেজাউল ইসলাম(৩৬), সিনিয়র স্টাফ নার্স জাহাঙ্গীর আলম(৪৮), উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের ঘড়িয়া গ্রামের বন্যা আলম (২৫), সহদেবপুর ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম(৪০) ও কালিহাতী পৌরসভার কালিহাতী মুন্সিপাড়া গ্রামের ইয়াসার হোসেন সিদ্দিকী (৪৮)। এ নিয়ে এ উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ২১ জনে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ সাইদুর রহমান।

আক্রান্ত হাফিজার স্বামীর সাথে মুঠোফোনে কথা বলে জানা যায়,তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনই সাভার সুপার মেডিকেল হাসপাতালে চাকরি করতো। গত ২২ মে তার স্ত্রীর গলা ব্যথা হলে গত ২৪ মে রাতে ঈদের ছুটিতে তার নিজ বাড়ী ভূয়াপুর উপজেলার পাথাইলকান্দি না গিয়ে তার শশুড় বাড়ি কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ি চলে আসলে স্থানীয় প্রতিবেশীরা ঢাকা থেকে আসার কারণে তাকে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষার কথা বললে তারা গত ৩০ মে ভূয়াপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তাদের তিনজনের নমুনা দিয়ে আসলে কর্তৃপক্ষ নমুনাগুলো সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। পরে (৪ জুন) রাতে তার স্ত্রী এবং তার মেয়ের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পজেটিভ আসে।

আক্রান্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) রেজাউল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে কথা বলে জানা যায়, তিনি গত ২২ মে তার মায়ের ডায়াবেটিস অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় ঢাকা বারডেম হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে তার মাকে ভর্তি করে চিকিৎসা শেষে গত ২৯ মে তার নিজ বাসা ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট মোড়ে চলে আসে। সেদিন রাতে জ্বর অনুভব করলে পরদিন (৩০ মে) কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিউটি করাকালীন সময়ে তার করোনা পরীক্ষার নমুনা দিয়ে আসলে কর্তৃপক্ষ গত (৩১ মে) নমুনাটি ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। পরে (৪ জুন) রাতে তার নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পজেটিভ আসে।

আক্রান্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স জাহাঙ্গীর আলমের সাথে মুঠোফোনে কথা বলে জানা যায়, তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে ডিউটি করতেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যারা চাকরি বা ডিউটি করে তাদের প্রত্যেকের ১৪ দিন পর পর করোনা পরীক্ষার নমুনা দিতে হয়। তিনি এর আগেও দুইবার নমুনা দিয়েছিলেন সেগুলো নেগেটিভ এসেছিল। দুইবার দেওয়ার ১৪ দিন পর পূনরায় গত ৩০ মে নমুনা দিয়েছিলেন। পরে তার ঐ তৃতীয় বারের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল (৪ জুন) রাতে পজেটিভ আসে। তিনি বর্তমানে টাঙ্গাইল সদরের তার নিজ বাসায় রয়েছে।

আক্রান্ত বন্যা আলমের স্বামীর সাথে মুঠোফোনে কথা বলে জানা যায়, তার ঠান্ডা-কাশি ছিলো ঐসময় তার স্ত্রী তার পাশে থাকার কারণে তার কাশি হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে গত ৩০ মে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়ে আসলে কর্তৃপক্ষ গত ৩১ মে নমুনাটি ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। পরে তার স্ত্রীর নমুনা পরীক্ষার ফলাফল (৪জুন) রাতে পজেটিভ আসে।

আক্রান্ত ইয়াসার হোসেন সিদ্দিকীর সাথে মুঠোফোনে কথা বলে জানা যায়, তার মাঝে মাঝে মাথা ব্যথা হওয়ার কারণে ডাক্তার দেখানোর জন্য ঢাকায় যেতে চাইলে তার ভাগিনা করোনা পরীক্ষা করে যাওয়ার জন্য বললে তিনি গত ৩০ মে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে নমুনা দিয়ে আসলে কর্তৃপক্ষ গত ৩১ মে নমুনাটি সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়। পরে (৪ জুন) রাতে তার নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পজেটিভ আসে। তিনি বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন। আক্রান্ত আরেকজন রফিকুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

আক্রান্ত ৭ জনই আপাতত নিজ নিজ হোম আইসোলেশনে থাকবে বলেও জানা গেছে।

এদিকে (৫ জুন) দুপুরে ৭ জনের মধ্যে ৫ জনের বাড়ি কালিহাতী হওয়ায় ঐ ৫ জনের বাড়ি সহ মোট ২৬ বাড়ি লকডাউন করে দেয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.