ব্রেকিং নিউজ

বাসাইলে এক নারীকে কুপ্রস্তাবের দায়ে ইউপি সদস্যকে গণধোলাই

নিজস্ব প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের বাসাইলে তিন সন্তানের জননীকে কুপ্রস্তাবের অভিযোগে সাইফুল ইসলাম নামের এক ইউপি সদস্যকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপার্দ করেছে এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে উপজেলার ফুলকী ইউনিয়নের তিরঞ্চ গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনাটি ঘটে। গণধোলাইয়ের শিকার অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম উপজেলার ফুলকী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের (তিরঞ্চ) সদস্য।

তিন সন্তানের জননী বলেন, ‘একটি মামলায় আমার পরিবারের সদস্যরা আসামী হওয়ার সুবাদে সাইফুল মেম্বার গত ৩-৪ দিন ধরে আমাকে মোবাইলে কল দিয়ে আসছিলেন। রাতে কল দিয়ে পুলিশ আসবে বলে আমার পরিবারের পুরুষ সদস্যদেরকে বাড়িতে অবস্থান করতে নিষেধ করতেন।

এর মাঝে আমাকে বিভিন্ন আপত্তিকর প্রস্তাব দেয়াসহ তার সাথে আপত্তিকর কাজে লিপ্ত হওয়ার প্রস্তাব দিত। সম্পর্কে আমি তার চাচী হওয়া স্বত্তেও সে আমাকে উত্ত্যক্ত করতো। এ কারণে আমি তাকে এসব বাজে কথা বলতে নিষেধ করি। এতে সাইফুল আরো বেপোরোয়া আচরণ করতে শুরু করে।

বিষয়টি আমি আমার স্বামীসহ পরিবার ও স্থানীয় মহিলা ইউপি সদসকে অবহিত করি। এরপরও বেপরোয়া সাইফুল মেম্বার মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে আমাকে ত্রিশবারের বেশি কল দেয়। কোন প্রকার সাড়া না দেয়ায় গভীর রাতে বাড়িতে এসে ঘরের দরজা খুলতে বলেন। এসময় আমার স্বামী এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তাকে আটক করে এলাকাবাসীদের খবর দেয়। এলাকাবাসী এসে সাইফুলকে গণধোলাই দেয়। এসময় স্থানীয় মাতাব্বররা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

ফুলকী ইউনিয়র পরিষদের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মলি আক্তার বলেন, ‘ভূক্তভোগী ওই নারী বিষয়টি আমাকে জানায়। পরে আমি ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলামকে এসব অপরাধমূলক কাজ থেকে বিরত থাকতে নিষেধ করেছি।’

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে তার বিরুদ্ধে উথ্যাপিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি চা-দোকাদারের স্ত্রী’র পরিবারসহ এলাকার লোকজনের মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেন।’ কেন, কোন ঘটনায় তাকে মারধর করা হয়েছে এমন প্রশ্ন শুনে তিনি ফোনটি কেটে দেন।

ফুলকী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবুলের সাথে মুঠেফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে অনেক লোকজনের সাথে বসেছি, পরে কথা বলি।’

বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুন অর রশিদ বলেন, ‘ওই ইউপি সদস্য গ্রামের চা বিক্রেতার স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করায় পরিবারের লোকজনসহ স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণধোলাই দেয়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই ইউপি সদস্যকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে এ বিষয়ে এখনও থানায় কেউ অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.