ব্রেকিং নিউজ :

গাজীপুরে ১০ দিন পর মিলছে করোনার রিপোর্ট, কারফিউ চায় এলাকাবাসী

গাজীপুরে করোনা শনাক্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। নমুনা সংগ্রহের রিপোর্ট দেরিতে আসায় এই সংখ্যা বেশি বাড়ছে বলে অভিযোগ করছেন অনেকেই। এছাড়া শিল্প এলাকাটিতে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে উৎপাদন অব্যাহত রাখাকেও দায়ী করেছেন কেউ কেউ। সংক্রমণ এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে ওই এলাকায় লকডাউনের পরিবর্তে কারফিউ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা। মঙ্গলবার (২৩ জুন) পর্যন্ত জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছেন তিন হাজার ১৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩১ জনের।

শ্রীপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র আমজাদ হোসেন জানান, গত ২৮ মে তিনি করোনা সন্দেহে নমুনা পরীক্ষা করতে দেন। ১০ দিন পর তাকে জানানো হয় তিনি করোনা পজিটিভ। এর কিছু দিন পরেই তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন। তার মতো, এমন যারা নমুনা দিয়ে ঘুরে বেড়িয়ে ১০ দিন পর পজিটিভ রিপোর্ট পেয়েছেন, তারা ওই কয়েকদিনে আরও মানুষকে সংক্রমিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘শ্রীপুর পৌর এলাকায় রেড জোন ঘোষণা বা লকডাউন কোনও কাজে আসবে না। এলাকার সাধারণ মানুষ করোনার বিষয়ে এখনও সচেতন হয়নি। আর যারা সচেতন হয়েছেন তাদের মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি পরিপূর্ণভাবে মানার প্রবণতা কম। ফলে নতুন করে করোনা সংক্রমণ রোধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে কারফিউ জারির বিকল্প নেই। যেসব এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ ওইসব এলাকার মানুষ ১৪ দিন বাড়ি থেকে বের না হলেও খাদ্যের অভাবে মারা যাবে না। তাছাড়া সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প থেকে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সাহায্য প্রদান অব্যাহত রয়েছে।’

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটী ইউনিয়নের টেপিরবাড়ী এলাকার পারভেজ (২২) জানান, গত ২০ জুন তার করোনা উপসর্গ দেখা দেয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয় প্রতিবেদন পেতে অন্তত ৭ দিন সময় লাগবে। পরে তিনি নিজ বাড়িতেই ঘরোয়া চিকিৎসা নিতে থাকেন।

গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর বাজার কমিটির সভাপতি এস এম কিবরিয়া জানান, প্রথমদিকে কিছুটা সতর্কতা থাকলেও এখন তা নেই। ব্যবসায়ী-ভোক্তা কেউ সামাজিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। তবে কিছু ব্যক্তিপর্যায়ে সচেতনতা রয়েছে। পানি রাখার পাত্র ও সাবান শোভা পাচ্ছে কিন্তু ব্যবহার করছেন না কেউ। বর্তমান করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য লকডাউন যথেষ্ট নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠিন অ্যাকশনে যেতে হবে।

শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শামসুল আলম প্রধান বলেন, ‘মানুষ সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মানছে না। স্বাস্থ্য বিভাগ প্রয়োজন মনে করলে নিয়ন্ত্রণ করতে যেকোনও কর্মসূচি নিতে পারেন। প্রশাসনের সহায়তায় তা বাস্তবায়ন করা হবে।’

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘লকডাউন বা কারফিউ যা-ই বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হোক তা সব বিভাগের মধ্যে সমন্বয় করে দিলে বাস্তবায়ন ফলপ্রসূ হবে। তৃণমূলের সার্বিক পরিস্থিতি মাথায় রেখে নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।’

গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার জানান, গাজীপুরে দুই হাজার ৭২টি শিল্প কারখানার মধ্যে খোলা রয়েছে এক হাজার ৬০৮টি। শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা ও জীবাণুনাশক স্প্রে করে কর্মীদের কর্মস্থলে প্রবেশ করানো হচ্ছে।

গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. খায়রুজ্জামান জানান, গত ৭ জুন থেকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গাজীপুরের কোভিড-১৯-এর নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ‍পুরো জেলায় প্রতিদিন ৪৫০ থেকে ৫০০ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এরমধ্যে ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ১৭ জুন থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত তিন হাজার ২০১ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৬৫২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। গাজীপুরের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী ১৮৮টি নমুনা রেখে বাকিগুলো ঢাকার বিভিন্ন পরীক্ষাগারে পাঠানো হচ্ছে। আগে ফলাফল পেতে ১০ দিন সময় লাগলেও গত কয়েকদিন ধরে কিছুটা কম লাগছে।

তিনি জানান, আক্রান্তদের মধ্যে উপসর্গ কম থাকায় অনেকেই মনে করছেন তারা করোনায় আক্রান্ত নন। এ কারণে তারা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তারা অন্যদের সংস্পর্শে গিয়ে পরিবার ও অন্যদের সংক্রমিত করছেন। ফলে করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

"নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.