ব্রেকিং নিউজ

ক্যান্সার যুদ্ধে হেরে গেলেন এন্ড্রু কিশোর

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: পিঞ্জর ভাঙলেন প্লে-ব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোর । হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস, দম ফুরাইলে ঠুস’ তার এই জনপ্রিয় গানের মতই ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর। খবরটি নিশ্চিত করেছেন তারই শিষ্য মোমিন বিশ্বাস।  মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি ১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন রাজশাহীতে। স্ত্রী ইতি কিশোর ছাড়াও শিল্পীর ছেলে জে এন্ড্রু সপ্তক এবং মেয়ে মিনিম এন্ড্রু সংজ্ঞা থাকেন অস্ট্রেলিয়ায়।  তারা দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন।

গত ১১ জুন এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে দেশে ফিরেছিলেন এন্ড্রু কিশোর। তারপর থেকে রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাথান এলাকায় বোন ডা. শিখা বিশ্বাসের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন এই শিল্পী। শিল্পীর দুলাভাই ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে ছিলেন তিনি। মৃত্যুর আগে স্বজনদের বলে যান, মায়ের পাশেই যেন সমাহিত করা হয় তাকে।
এর আগে অসুস্থ অবস্থায় গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছিলেন এই নন্দিত গায়ক। সেখানে গিয়ে গত ১৮ সেপ্টেম্বর তার শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক লিম সুন থাইয়ের অধীনে ছিলেন তিনি। চলে টানা কয়েক মাসের কেমোথেরাপি। অসংখ্য জনপ্রিয় রোমান্টিক গান উপহার দিয়েছেন তিনি। চির সবুজ কণ্ঠের জন্য তাকে ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ উপাধি দেওয়া হয়।

এন্ড্রু কিশোরের চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৭ সালে আলম খানের সুরে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রে। সেখানে তিনি ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তাঁর কেউ’ গানে কণ্ঠ দেন। তার রেকর্ডকৃত দ্বিতীয় গান বাদল রহমান পরিচালিত ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’ চলচ্চিত্রের ‘ধুম ধাড়াক্কা’। তবে এ জে মিন্টু পরিচালিত ১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রতিজ্ঞা’ চলচ্চিত্রের ‘এক চোর যায় চলে’ গাওয়া গান প্রথম জনপ্রিয়তা লাভ করে।
প্লে-ব্যাকে তার গানের সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি। অন্যতম জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে “ জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, আমার বুকের মধ্যিখানে, আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা, সবাই তো ভালোবাসা চায় প্রভৃতি।

দেশ-বিদেশের সুনামের পাশাপাশি তিনি সম্মানও পেয়েছেন অনেক। বাংলা চলচ্চিত্রের গানে অবদানের জন্য তিনি আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছেন। কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন  মহামান্য রাষ্ট্রপ্রতি আবদুল হামিদ এবং  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  এক শোকবার্তায় তারা বলেছেন, এন্ড্রু কিশোর তার গানের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।  রাষ্ট্রপ্রতি ও প্রধানমন্ত্রী  এই শিল্পীর আত্মার শান্তি কামনা করেছেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। দীর্ঘদিনের সহকর্মী কণ্ঠশিল্পী শোক প্রকাশ করে লিখেন, ‘এন্ড্রু কিশোরের মতো ক্ষণজন্মা শিল্পী যুগে যুগেই আসেন। তার চলে যাওয়ায় আমাদের সঙ্গীতাঙ্গনের যে ক্ষতি হয়েছে তা কোনোদিনও পূরণ হওয়ার নয়। শুধু সহযাত্রীই নয়, বরং হারালাম আমার একজন ভাই, যিনি আমাকে শাসন করেছেন যেমনটি, তেমনি আদরও। এই শোক সত্যি সত্যিই অসহনীয়। তার আত্মার শান্তি কামনা করি এবং পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করছি।’

এদিকে এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) ও চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সংগঠন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.