ব্রেকিং নিউজ

ময়মনসিংহে আক্রান্তদের ১৭ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী

চার জেলা নিয়ে গঠিত ময়মনসিংহ বিভাগে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজার ৪৪৭। এর মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগেরই আক্রান্ত ৫৯২ জন। অর্থাৎ মোট আক্রান্তের ১৭.১৭ শতাংশই স্বাস্থ্যকর্মী। এদের মধ্যে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেরই ২৪৯ জন। স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্তের এ সংখ্যাটা বেশ উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে আশার কথা, এরই মধ্যে বেশির ভাগ রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে কাজে ফিরেছে। মূলত রোগীদের সংস্পর্শে আসার কারণেই এত বেশি সংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিভাগের ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা ও শেরপুর জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা তিন হাজার ৪৪৭। এর মধ্যে চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মী ৫৯২ জন।

এদের মধ্যে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের স্বাস্থ্যকর্মী ২৪৯ জন। বিভাগের চার জেলায় আক্রান্ত চিকিৎসকদের সংখ্যা ১৩৩। নার্সের সংখ্যা ১৫৮। আর অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা ৩০১।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এত বিপুলসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হওয়ার মূল কারণ—অনেক রোগী তাদের উপসর্গ গোপন করে চিকিৎসা নিতে আসে। ফলে সহজেই চিকিৎসক, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীদের সংস্পর্শে চলে আসে তারা। অথবা অনেক রোগী জানতই না যে, তাদের করোনা হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হওয়া করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার কারণেও অনেক স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। তা ছাড়া প্রতিদিন করোনা রোগীর সংস্পর্শে থাকলে কোনো না কোনোভাবে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেই যায়। এ ক্ষেত্রেও তেমনটি হয়েছে।

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার ঘোঘা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের স্বাস্থ্য সহকারী তারিকুল ইসলাম বলেন, তিনি ২৮ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হন। কিন্তু কিভাবে আক্রান্ত হয়েছিলেন তা নিজেও বুঝতে পারেননি।

করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার পারভীন আক্তার।

তিনি বলেন, হয়তো স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেই তিনি আক্রান্ত হয়েছেন। গত ১৫ এপ্রিল আক্রান্ত হয়ে প্রায় এক মাস পর কাজে যোগ দিয়েছেন তিনি।

করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন শেরপুরের নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার সৌরভ সরকার। তিনি এখন সুস্থ হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। সৌরভ সরকার বলেন, তিনি নিজেও জানেন না কিভাবে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে এখন ভালো আছেন।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের করোনা মনিটরিং সেলের বিভাগীয় সমন্বয়ক ডা. তারা গোলন্দাজ বলেন, চিকিৎসকরা হচ্ছেন করোনার সামনের সারির যোদ্ধা। তাই স্বাভাবিকভাবেই বেশি সংখ্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন তাঁরা।

ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য বিভাগীয় পরিচালক ডা. আবুল কাশেম বলেন, সেবা দিতে গিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে চিকিৎসকরা মনোবল হারাননি। তাঁরা রোগীদের পাশে আছেন, আগামী দিনেও থাকবেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.