ব্রেকিং নিউজ

গোপালপুরে বই ব্যবসায়ীরা চরম দুর্দশাগ্রস্ত, প্রণোদনার দাবি

সাইফুল ইসলাম, গোপালপুর: সৃজনশীল বই ছাড়া লাইব্রেরীর বেশিরভাগ সেলফ সাজানো হয়েছে স্কুল কলেজের খাতা আর কাগজ-কলম ও দাপ্তরিক উপকরণ দিয়ে। আবার অনেক বই ব্যবসায়ী ব্যবসার ধরণ পাল্টিয়ে বিক্রয় করছেন ক্রীড়া সামগ্রী, বিয়ে-হালখাতার কার্ড, কসমেটিক্স ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।

সরেজমিনে এমনি চিত্র দেখা গেছে, টাঙ্গাইলের গোপালপুর পৌর শহরের বিভিন্ন বইয়ের দোকানগুলোতে। এই করোনাকালে উপজেলার বই ব্যবসাসীদের চোখে মুখে হতাশার চিহ্ন নিয়ে লাইব্রেরি বন্ধ করে যোগ দিয়েছেন অন্যান্য পেশায়। এতে করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে সরকারি কোন ধরণের সহযোগিতা পায়নি তারা।

জানা গেছে, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারের ঘোষণা মতে দেশেরন্যায় গোপালপুরেও সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। যার কারণে বই, খাতা, কলম, গাইড নোট বইসহ শিক্ষা উপকরণও বিক্রি হচ্ছে না।

থানা মার্কেটের প্রবীণ বই ব্যবসায়ী মো. কোরবান আলী, তারা মিয়া জানান, সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বেচা বিক্রি নেই বললেই চলে। শুধু মাত্র ব্যবসাটি ধরে রাখার জন্য লাইব্রেরী চালু রেখে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।

বিসমিল্লাহ লাইব্রেরীর স্বত্বাধিকারী ও বাপুস গোপালপুর শাখার সম্পাদক মির্জা সনি জানান, উপজেলার বইয়ের দোকানগুলো করোনা পূর্ববর্তী সময়ে অনেক জমজমাট ছিল। যা এখন অনেকটাই বিরানভূমি। আগে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত লাইব্রেরী খোলা রাখতাম। কিন্তু বইয়ের ব্যবসা মন্দাভাব থাকায় সপ্তাহে এক বা দুই দিন দোকান খোলা রাখি। বই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এখন অনেক লাইব্রেরী মালিকের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুধু কোরআন আলী ও তারা মিয়াই নয়। এ উপজেলার পৌর শহর ও বিভিন্ন এলাকার ক্ষুদ্র বই ব্যবসায়ীরা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরকারি সহযোগিতাসহ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেনও তারা।

উপজেলা পাঠ্যপুস্তক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও মোহাম্মাদীয়া লাইব্রেরীর পরিচালক সহ-অধ্যাপক কে এম শামীম বলেন, করোনায় বইয়ের দোকানগুলো বন্ধ যাচ্ছে। যেগুলো আছে তাও নিভুনিভু অবস্থায় টিকে আছে। আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে আয়করভূক্ত হলেও, সরকারের পক্ষ থেকে আমরা পুস্তক বিক্রেতারা এখন পর্যন্ত কোন রকমের সুযোগ সুবিধা পাইনি।

অধ্যাপক শামীম দেশের শিক্ষাক্ষেত্র অংশীদারিত্বসহ ব্যাপকভাবে ভূমিকা পালন করছে এমনটা দাবি করে আরও জানান, আমরা অসহায় বই বিক্রেতাগণ সরকারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করছি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.