ব্রেকিং নিউজ :

হাটহাজারীর এক রেমিটেন্স যোদ্ধা ঢাকা কারাগারে

মো: আবু শাহেদ, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে করোনা দুর্যোগে কর্মহীন হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত থেকে ফেরত আসেন নিজ জন্মভূমি বাংলাদেশে গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী নামের এক যুবক ।

গিয়াস চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা মেখল ইউনিয়নের ইছাপুর বাজার এর উত্তর পাশে চাঁদগাজী বাপের বাড়ির নুরুল হুদা চৌধুরী ও ফরিদা বেগমের পুত্র বলে জানা যায়।

ভাগ্য পরিবর্তনে গিয়াস কুয়েত থেকে নিজের দেশে ফেরত আসলে ঢাকা বিমানবন্দরে নেমেই সে পুলিশের হাতে আটক হয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশ থেকে আরও ২১৯ জনের সাথে চট্টগ্রাম হাটহাজারীর গিয়াস উদ্দিন দেশে ফেরেন। ১৪ দিন সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ঢাকার দিয়াবাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইন সম্পন্ন করে স্বজনদের কাছে ফেরার কথা ছিল ৫ জুলাই। কিন্তু সেদিন তুরাগ থানা পুলিশ তাদেরকে ১৫৪ ধারায় আটক দেখিয়ে আদালতে হাজির করে। ২১৯ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযোগ, তারা কোয়ারেন্টাইন থাকা অবস্থায় সরকারের ‘ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন’ করার চেষ্টা করেছে। পুলিশের এই অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তুরাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিউল্লাহ বলেন, বিদেশফেরত ২১৯ জন বিদেশে থাকতেই বিভিন্ন অপরাধে ৫ থেকে ৭ বছরের সাজা পান। করোনার কারণে তাদেরকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশে আসার পর বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে নিয়ে রাখা হয়। আমরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়েছি সেখানেই তারা বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করার পরিকল্পনা করেন।’

কী ধরণের অপরাধের পরিকল্পনা তারা করেছেন এবং আদৌ তাদের সেই সামর্থ্য আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ পরিদর্শক শফিউল্লাহ বলেন, ‘তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বলা যাবে।

গিয়াসউদ্দিন চৌধুরীর ব্যাপারে মেখল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন চৌধুরী জানান, কিছুদিন আগে গিয়াস এর নাম-ঠিকানা যাচাই এর জন্য থানা থেকে তদন্ত আসেন। শুনলাম সে নাকি বিমানবন্দর থেকে আটক হয়েছে। তবে এর সঠিক কারণ আমি জানি না। এবং গিয়াস উদ্দিনের পরিবার গ্রামে থাকে না উনারা সপরিবার শহরে বসবাস করে।

হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ আলম জানান, উপজেলার ইছাপুর এলাকার গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী নামের এক যুবকের নাম- ঠিকানা যাচাই করার জন্য আমাদের কাছে তদন্ত আসেন। ঠিকানাটি যাচাইয়ের জন্য থানার এস আই আনিস আল মাহমুদ কে দেওয়া হলে তিনি তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেন। গিয়াসউদ্দিনের বিরুদ্ধে কোন মামলা মোকদ্দমা বা অন্যান্য বিষয়ে আমি সঠিক বলতে পারিনা।

"নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.