ঈদ হোক সবার জন্য আনন্দের……….সম্পাদকীয়

বছর ঘুরে আমাদের মাঝে আবার ফিরে এলো পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদুল আজহা মুসলমানদের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। কোরবানির মূল দীক্ষাই হলো সকল প্রকার ঠুনকো, খোঁড়া যুক্তি ও বুদ্ধির ঊর্ধ্বে উঠে আল্লাহর হুকুমের প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ করা। আগামীকাল ১ আগস্ট শনিবার  পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলমানদের দুটি বড় ধর্মীয় উৎসবের একটি ঈদুল আজহা। এর মধ্যে লুকিয়ে আছে মানবিক সম্প্রীতি। হজরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর নির্দেশে নিজ পুত্র হজরত ইসমাইলকে কোরবানি দেওয়ার মধ্য দিয়ে যে ত্যাগের মহিমা আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন, দৃশ্যত তারই প্রতীকী অর্থে পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে সেই ত্যাগ এবং সংযমের শিক্ষাগ্রহণ করে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করাই এর উদ্দেশ্য। এই শিক্ষার আলোকে আমাদের আত্মাকে মানবিক কল্যাণে সম্পৃক্ত করার মধ্য দিয়েই কেবল ঈদুল আজহার মহিমার প্রকাশ ঘটে। এখানে থাকে না ধনী-গরিব ভেদাভেদ। সব ভুলে পরস্পর ঈদের আনন্দে শরিক হয়ে তা ভাগ করে নেয়। এটাই আমাদের সবার জন্য ঈদের আনন্দ এবং সব ধর্মীয় সহাবস্থানের শিক্ষা, আল্লাহ নির্দেশিত পথ-মানবিক শিক্ষা।

ঈদুল আজহার উৎসব পালন করতে অগণিত মানুষ কর্মস্থল থেকে জন্মস্থান অথবা নিজ বাড়িতে ছুটে গেছে। হাজারো প্রতিক‚লতা অতিক্রম করে, যানজট, রাস্তায় রাস্তায় নানাবিধ কষ্ট সহ্য করে ঈদের আনন্দে যোগ দিয়ে বাঙালি মুসলমানরা পৌঁছে যায় নিজভিটায়। নিজ গ্রাম-মহল্লার মানুষের সঙ্গে মিলিত হওয়ার নির্মল আনন্দ ধারণ করে। ছুটে যাওয়ার মধ্যে যে আত্মতৃপ্তি, তা কি কাউকে বোঝানো যাবে! বাঙালি মুসলমান চিরকাল ধর্মীয় উৎসবকে উদ্যাপন করে থাকে সর্বজনীন দৃষ্টিকোণ থেকে। সব ধর্মের মানুষ এই উৎসবে শামিল হয়ে পুরো উৎসবকে করে তোলে সম্প্রীতির মিলনমেলা। এই মেলবন্ধন বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। দেশ বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত । বন্যায় জলবন্দি দেশের চল্লিশ জেলা । একদিকে করোনা অন্যদিকে বন্যার শিকার লাখো লাখো মানুষ । গৃহহীন হয়েছে অগুন্তি মানুষ। তাই এবারের কোরবানির ঈদ উদযাপন অস্থির সময়ে এসেছে। করোনা কারনে এমনিতে মানুষ জান নিয়ে বিপন্ন। তার মধ্যে বন্যার ছোবল মানুষকে আরো দুিৃর্বপাকে ফেলে দিয়েছে। তারপরও জীবন থেমে থাকবে না। স্থবির হয়ে যাবে না কোনো কিছু । যে কোনো দুর্যোগ মোকাবেলা করে হাজার বছর ধরে এ জনপদের মানুষ বেঁচে আছে। বর্তমান এ সঙ্কট উত্তরনের পথ তৈরি হবে।

উৎসবের মধ্য দিয়ে পালিত হবে মুসলমানদের বড় ধর্মীয় এই উৎসবটি। দেশজুড়ে তার আমেজ শুরু হয়েছে। আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে, করোনা ভাইরাস ছোঁয়াছে । দ্রুত সংক্রমণশীল । অদ্যাবধি তেমন কোনো কার্যকর অষুধ তৈরি হয়নি। শুধু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিধি অনুযায়ী ও সরকারে নির্দেশ মোতাবেক নিজ নিজ সামাজিক সুরক্ষা পালনে যেন অবহেলা না করি।

সত্যিকার অর্থে উপমহাদেশের কোনো ধর্মীয় উৎসব জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী একা ভোগ করে না। সবাই মিলেই এর আনন্দটুকু গ্রহণ করে। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটবে না বলে আমরা বিশ্বাস করি। প্রতি বছরই ঈদুল আজহা আমাদের মাঝে ফিরে আসে অনাবিল আনন্দ নিয়ে। এই আনন্দে গোটা দেশ মাতোয়ারা হয়ে ওঠে। এবারও ঈদুল আজহার আনন্দ সবার মাঝে শান্তির অমিয় ধারায় বহমান থাকুক, মানুষ মানুষের কল্যাণময় জীবনের কথা ভাবুক।
সবাই মিলে করোনায় সুরক্ষা মেনে উৎসবটি পালন করতে পারি। ঈদ আনন্দের। ঈদ শান্তির। বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের কুঠুরিতে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে শান্তি অন্বেষণের যে সুগভীর আকাক্সক্ষা, তা বহমান থাকুক চিরকাল। আসুন এবারের ঈদ শুধুই আনন্দের মধ্যে উদ্যাপন করি। কোনোরূপ গøানিকর কষ্ট যেন আমাদের স্পর্শ না করে- মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে এই প্রার্থনা জানাই। সেই সঙ্গে নিউজ টাঙ্গাইল’র অগণিত পাঠক, শুভাকাক্সক্ষী, বিজ্ঞাপনদাতা এবং লেখকের প্রতি রইল ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা। সবার জন্য আনন্দের হোক ঈদ। সবার কল্যাণ হোক। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.