ব্রেকিং নিউজ :

দেলদুয়ারে খুঁটি স্থাপনে বাঁধা দেওয়ায় তিন বছর ধরে হযরত আলীর পরিবার সমাজচ্যুত

এম সাইফুল ইসলাম শাফলু : ”তিন বছর ধরে আমাগো সমাজ থেকে গোস্ত দেয় না, পোলাগো কোরবানীর গোস্ত খাওয়াতে পারিনা”কান্না জড়িত কন্ঠে কথাগুলো বলছিলেন দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটী গ্রামের হত দরিদ্র হযরত আলী।

২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে হযরত আলীর সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে বসতবাড়ির উপর দিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপনকে কেন্দ্র করে সমাজের বিত্তশালীদের সাথে দ্বন্ধ হয় তার। ভিক্ষা করে ছেলের পড়াশুনা এবং দিনাতিপাত করা হযরত আলীর কলেজ পড়ুয়া ছেলে তালেব বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপনে বাঁধা দিলে সমাজ প্রধান শাহিনুর ইসলাম এবং রুহুল আমিন শিকদার মেরে মাথা ফাটিয়ে দেন এবং জোরপূর্বক হযরত আলীর জমির উপর দিয়েই বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন করেন।

তিনি জানান, নিজ জমির উপর বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপনে বাঁধা দেওয়ায় গত তিন বছর ধরে তার পরিবারকে সমাজচ্যুত করে রাখা হয়েছে। গ্রামের সমাজ প্রধান মৃত কালু মিয়ার ছেলে শাহিনুর ইসলাম এবং মৃত ছবিউদ্দিনের ছেলে রুহুল আমিন সিকদারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেন তিনি। ২০১৭ সালের জানুয়ারী থেকে তার পরিবারকে একঘরে করে বাড়ির চারপাশের বেড়া দিয়ে গতিরোধ করে রাখেন। পরে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরুদ্ধ অবস্থা তুলে নিলেও পরবর্তীতে হায়েত আলীর পরিবারটিকে আর ঐ সমাজে রাখা হয়নি। তাদেরকে গত তিন বছর ধরে কোরবানীর গোস্ত এবং সমাজের সকল সুবিধা থেকেও বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। অসহায় পরিবারটি স্থানীয় ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন এবং ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম খান ফিরুজের কাছে গিয়েও কোন সমাধান পাননি। পরে ওই অসহায় পরিবার সমাজচ্যুত অবস্থা থেকে মুক্ত পাওয়ার আশায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং ব্র্যাক মানবাধিকার আইন সহায়তা কর্মসূচি দেলদুয়ার শাখা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। ওই পরিবারের পক্ষ থেকে নিউজ টাঙ্গাইল সম্পাদক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিলে পরে বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল গিয়ে এর সত্যতা পান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সমাজপতিদের কথা না মানায় হযরত আলীর পরিবারকে সমাজচ্যুত করে রাখা হয়েছে। তিনি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান।

ব্র্যাক মানবাধিকার আইন সহায়তা কর্মসূচি দেলদুয়ার শাখা সমন্বয়ক লিপি খাতুন বলেন, অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সমাজপতিদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা আক্তার বলেন, অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.