ব্রেকিং নিউজ :

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চারলেন প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই খানাখন্দ

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চারলেন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এরমধ্যেই বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে মহাসড়কে যানবাহন, যাত্রী ও পথচারীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

কর্তৃপক্ষ সংস্কারের উদ্যোগ না নেয়ায় যেকোনো সময় এসব স্থানে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছে মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের শ্রমিক, পথচারী ও যাত্রীরা।

জানা গছে, ভূমি জটিলতার কারণে গোড়াই ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে যানবাহন চলাচলের সময় গোড়াই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় ৪শ গজ সড়কে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এ বছর এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। অতিবৃষ্টির কারণে নির্মাণাধীন মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে এ খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলের সোহাগপাড়া ও নাজিরপাড়া এলাকায় গিয়ে এই খানাখন্দ দেখা গেছে। এসব খানাখন্দের মধ্যদিয়েই ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন নিয়মিত চলাচল করছে। এসব গর্তের পানি ও পাথরকুচি যানবাহনের চাকার ঘর্ষণে পথচারীদের শরীরে গিয়ে লাগছে। এছাড়া যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন যানবাহনের শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীরা।

স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কের পাশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে চলাচল করতে হয়। বৃষ্টির পানিতে মহাসড়কে গর্তগুলো ভরে যায়। যার ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সহজেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সোহাগপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী বাবুল শিকদার ও ইমরান শিকদার বলেন, মহাসড়কটি হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত। কিন্তু নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে গর্ত তৈরি হওয়ায় ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করতে হয়। এছাড়া গাড়ি চললে গর্তে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে কাপড় নষ্ট হয়।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চারলেন প্রকল্পের সেকশন-২ প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. খোরশেদ আলম বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এসব ছোটখাট গর্ত সঙ্গে সঙ্গেই সংস্কার করা হয়ে থাকে। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে অবহিত করে ওইসব এলাকায় দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান।

টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ করে। এরপর থেকে এ মহাসড়কে টাঙ্গাইল জেলাসহ প্রায় ২৬টি জেলার যানবাহন চলাচল শুরু হয়। যানবাহনের চাপ প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাওয়ায় মাহাসড়টি যানজটের মহাসড়কে পরিণত হয়। যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্পটি ২০১৩ সালে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়ে কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে।

সড়কটি প্রথমে চার লেনে উন্নীত করণের কাজ শুরু হলেও পরবর্তীতে মহাসড়কটিতে ৬ লেনের কাজের অনুমোদন দেয়া হয়। মহাসড়কটিতে ১৩টি আন্ডারপাস ও ৭টি ফ্লাইওভার রয়েছে। যার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৯শ কোটি টাকা।

ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রতি কিলোমিটারের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৪ কোটি টাকারও বেশি। মহাসড়কটি চার প্যাকেজে উন্নীত করণের কাজ চলছে। প্রতিটি প্যাকেজের জন্য আলাদা আলাদা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

প্যাকেজ-১ জয়দেবপুর থেকে কালিয়াকৈর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার। এ অংশের নির্মাণ কাজ করছেন স্প্রেকট্রা নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

প্যাকেজ-২ কালিয়াকৈর থেকে মির্জাপুরের কুরণী পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার। এ অংশের নির্মাণ কাজ করছে আব্দুল মোমেন লি. ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

প্যাকেজ-৩ কুরণী থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার। এ অংশের কাজ করছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামহোয়ান ও বাংলাদেশের মীর আকতার লি. ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

প্যাকেজ-৪ টাঙ্গাইল থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার। এ অংশের কাজ করছে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডিয়েনকো লিমিটেড। বর্তমানে সড়কের নির্মাণ কাজ ৮৩ ভাগ শেষ হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.