স্বাস্থ্য বিভাগের আরও ২০ কেরানি শত কোটি টাকার মালিক

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: শুধু গাড়িচালক মালেক নন স্বাস্থ্য অধিদফতরের আরও অন্তত ২০ কেরানি শত কোটি টাকার মালিক। মিঠু-আবজাল-মালেকের দুর্নীতির বলয়ে অবৈধভাবে তারাও হাতিয়ে নিয়েছেন এসব অর্থ। আর গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদফতরের গাড়িচালক মো. আব্দুল মালেকের অবৈধ সম্পদের উৎস খুঁজতে গিয়ে তাদের নামও উঠে আসে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সামান্য কেরানি পদে চাকরি করেই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় শত কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক হয়েছে তারা। ইতোমধ্যে স্বজনসহ তাদের সম্পদের হিসাব চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়।

দুদক সূত্রে জানা যায়, মালেকের অবৈধ সম্পদের খবরের পরই তাদের কাছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের আরও প্রায় ৪৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবৈধ সম্পদের তথ্য আসে। তাদের মধ্যে এই ২০ জনের রয়েছে ১শ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ। অফিস সহকারী থেকে স্টেনোগ্রাফার পর্যন্ত রয়েছে এ তালিকায়।

এ বিষয়ে দুদক সিনিয়র সচিব দেলোয়ার বখত বলেন, অনুসন্ধানে ওই ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি তাদের স্বজনদের নামে মিলছে বিপুল সম্পদ। প্রায় প্রতিদিনই তাদের বিরুদ্ধে নতুন নতুন খবর পাচ্ছি আমরা। তদন্ত হচ্ছে। সম্পদের উৎস দেখাতে না পারলে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বরখাস্ত করাসহ আইনি সাজা নিশ্চিতের কথা বলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুল মান্নানও।

নিউজ টাঙ্গাইলকে তিনি বলেন, যেহেতু দুদক তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে তাই এই মুহূর্তে আমাদের কিছুই করণীয় নেই। তবে তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমরা অবশ্যই মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুযায়ী বরখাস্তসহ অন্য ব্যবস্থা নেব।

দুদক সূত্রে পাওয়া মালেক ছাড়া ওই ২০ কর্মী হলো স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্টেনোগ্রাফার কাম-কম্পিউটার অপারেটর সাইফুল ইসলাম, চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন শাখার উচ্চমান মো. রেজাউল ইসলাম, মেডিকেল এডুকেশন শাখার সাবেক অফিস সহকারী ও বর্তমানে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের হিসাবরক্ষক মো. মজিবুর রহমান, মেডিকেল এডুকেশন শাখার অফিস সহকারী-উচ্চমান সহকারী মো. খাইরুল আলম, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর তোফায়েল আহমেদ ভূঁইয়া, হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার অফিস সহকারী কামরুল হাসান, ইপিআইয়ের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. মজিবুল হক মুন্সি, হিসাবরক্ষক মো. ইমদাদুল হক, স্টোর অফিসার মো. নাজিম উদ্দিন, হিসাবরক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন, ঢাকা ডেন্টাল কলেজের সাবেক সচিব মুন্সী সাজ্জাদ হোসেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ওবাইদুর রহমান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. মাহমুদুজ্জামান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা (প্রশাসন-২) কবির আহমেদ চৌধুরী, প্রধান সহকারী এম কে আশেক নওয়াজ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীর, সহকারী প্রধান পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মীর রায়হান আলী, সহকারী প্রধান জোবায়ের হোসেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক কর্মকর্তা নিউজ টাঙ্গাইলকে বলেন, এসব কর্মীর বেশিরভাগেরই নিয়োগ প্রক্রিয়া হয়েছে অবৈধভাবে। ঘুষ দিয়ে চাকরিতে যোগ দিয়ে অবৈধ উপার্জনে মেতে উঠে এদের অধিকাংশই। এখনই তাদের সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অবৈধ সম্পদের খনি ভাঙার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) নেতা অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সনাল। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাজ মানুষের জীবন মরণ নিয়ে। তারা অবৈধভাবে কেনাকাটার নামে যেসব দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত যত দ্রুত সম্ভব। না হলে পচন ধরে যাবে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল বাশার খুরশিদ আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। এর আগে রিজেন্ট ও জেকেজি কেলেঙ্কারির ঘটনায় পদত্যাগ করতে এক প্রকার বাধ্য হন অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। তাকে কয়েক দফায় দুদকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। এবার আবার নতুন করে আলোচনায় আসে অধিদফতরের গাড়িচালক মো. আব্দুল মালেকের নাম। স্বাস্থ্য খাতের মাফিয়া হিসেবে পরিচিত মিঠু-আবজালের পরই মালেককাণ্ডে নড়চড়ে বসে প্রশাসন। প্রায় ২০ বছর ধরে শুধু গাড়িচালক পদে চাকরি করেই সে গড়ে তুলেছে হাজার কোটি টাকার সম্পদ। আর এতে করেই স্বাস্থ্য অধিদফতরের অবৈধ টাকার খনির উৎস খুঁজতে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দুদকও।