ব্রেকিং নিউজ :

ছুটি বাড়ছে, এইচএসসির সিদ্ধান্ত আগামী সপ্তাহে

করোনার ভাইরাসের কারণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আর এক দফায় বাড়ছে। এই তারিখটা শিগগিরই জানিয়ে দেওয়া হবে। আর আটকে থাকা উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) বা সমমান পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত কি হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আগামী সপ্তাহের সোম বা মঙ্গলবার জানানো হবে।

আজ বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার মতো পরিস্থিতি নেই। ছুটি বাড়ছে, বাড়াতে হবেই। এখন তারিখটা জানিয়ে দেওয়া হবে।

করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি আছে। এমন অবস্থায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জিজ্ঞাসা ছিল ছুটি কি আরও বাড়বে, নাকি খুলে দেওয়া হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আটকে থাকা এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত কি হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে যদি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয় তাতলে ৪ সপ্তাহের সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং দ্রুত সময়ে ন্যূনতম বিষয় ও ন্যূনতম নম্বরের ভিত্তিতে পরীক্ষা নেওয়াসহ অনেকগুলো বিকল্প প্রস্তাব ঠিক করা হয়েছে। তবে পরীক্ষা ছাড়াই মূল্যায়ন করা যায় কি না সেই প্রস্তাব এখনই নাকচ করছেন না তারা।

এর আগে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আরেক দফায় বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তবে তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা সেসময় জানাননি।

করোনার বাস্তবতায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর পড়াশোনা অত্যন্ত ঝুঁকিতে পড়েছে। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, দেশের মোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে পড়ে প্রায় পৌনে দুই কোটি ছেলেমেয়ে। আর মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সোয়া কোটির কিছু বেশি। বাকিরা শিক্ষার অন্যান্য স্তরে পড়ে। ইতিমধ্যেই তাদের শিক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত।

প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এখন নিজ নিজ স্কুলে মূল্যায়নের ভিত্তিতে ওপরের শ্রেণিতে ওঠানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। অবশ্য সেটি নির্ভর করছে কবে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে তার ওপর।

উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষাও আটকে আছে। এই পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল গত এপ্রিলের শুরুতে। কিন্তু এখন কেউ জানে না কবে এই পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। তবে আজকে শিক্ষামন্ত্রী জানালেন আগামী সোম বা মঙ্গলবার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জানানো হবে।

এদিকে করোনার কারণে বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও সেশনজট বাড়ছে। বেসরকারি স্কুল-কলেজগুলো পড়ছে আর্থিক সংকটে। যত দিন এই বন্ধ বাড়বে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতিও তত বাড়বে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে স্কুলপর্যায়ে টিভি ও রেডিও’র মাধ্যমে ক্লাস প্রচার এবং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাসে গুরুত্ব দেওয়া হলেও তা সেই অর্থে তা কার্যকর হয়নি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.