ধনবাড়ীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক কার্যকলাপের বিস্তর অভিযোগ, মানববন্ধনে পুলিশের বাঁধা

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: ছাত্রীদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, ছাত্রীর মাকে বিয়ে করা, সহকারি শিক্ষিকার সাথে অবৈধ সম্পর্ক, ভূয়া সনদ তৈরি, ্উপবৃত্তির টাকা তছরূপ করাসহ বিস্তর অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার পাইস্কা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান ওরফে মান্নানের বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা ্উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রেসক্লাবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত দিয়েছে। অভিযোগের সাথে অভিযোগকারীগণ অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকার আপত্তিকর ফোনালাপের অডিও জমা দিয়েছেন।

গত ৬ অক্টোবর দেয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগে একই উপজেলার কদমতলী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে চাকরি করার সময় ছাত্রীদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক করাসহ নানা অপকর্মের দায়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে। এসব গোপন করে আসাদুজ্জামান মান্নান কৌশলে গোপালপুরের নলীন- নঈম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে বিরাট উৎকোচে প্রধান শিক্ষকের পদ বাগিয়ে নেন। চোরায় না শোনে ধর্মের বাণী। সেখানেও আরেক শিক্ষার্থীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কে তার আসল রূপ বেরিয়ে আসে। পরিচালনা কমিটি তাকে বহিষ্কার করে। অভিযোগ করেন, সেখানেও টিকতে না পেরে সুযোগ বুঝে শিক্ষা জীবনের সহপাঠী পাইস্কা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বন্ধু আরিফ বজলুর হাত ধরে ধনবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী পাইস্কা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদে পদায়িত হয়ে মান্নান এলাকায় ফিরে আসেন। যোগদানের পর থেকেই মান্নান সমহিমায় ফিরে আসেন। ভুয়া নিবন্ধন সনদে নিযোগ, অর্থনৈতিক তছরূপসহ নারী ঘটিত ঘটনায় ছড়িয়ে পড়েন। ২০১৭ সালে এক শিক্ষার্থীর মায়ের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক হাতেনাতে ধরা খেয়ে মান্নান তাকে চাপে পড়ে বিয়ে করেছেন। গত বছর ২০১৯ সালে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা তছরূপসহ নানা অভিযোগ উঠে প্রধান শিক্ষক মান্নানের বিরুদ্ধে। জুলাই মাসের প্রথম দিকে স্থানীয়রা গণস্বাক্ষর দিয়ে তার বিরুদ্ধে ইউএনও, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত দেয়। নারী কেলেংকারিতে আবারও মান্নান আলোচিত। ভুয়া নিবন্ধন সনদে সহকারি শিক্ষিকার পদে নিযোগ দিয়ে সেই শিক্ষিকার সাথে অবৈধ সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছেন এবার। তাদের দুজনের আপত্তিকর ২০ মিনিটের ফোনালাপ এলাকায় ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শিক্ষককে মোবাইল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

এসব নিয়ে এলাকায় তোলপাড়। অভিভাবক ও স্থানীয়রা বিব্রত। লিখিত অভিযোগ দিয়ে তাকে চাকরিচ্যুত করে বিদ্যালয়কে রক্ষার দাবি করেছেন তারা। মিটিং করে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধান শিক্ষককে শো-কজ করা হয়েছে জানিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আ’লীগ নেতা উপ্যাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম বেলাল জানান,আগামী ৫ কর্ম দিবসের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে।

এদিকে বুধবার বেলা ১১ টায় বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করার ঘোষণা দিয়ে জড়ো হয়ে পুলিশী বাধা ও স্থানীয় নেতাদের কারণে মানববন্ধন করতে না পেরে আরও ক্ষুব্দ হয়েছেন স্থানীয়রা।

সাবেক সরকারি চাকরিজীবী ফজলুর রহমান জানান, প্রধান শিক্ষক মান্নান নারী লিপ্সু। কেলেংকারির প্রথম বিয়ের পর দ্বিতীয় বিয়েও আলোচিত। এ প্রধান শিক্ষককে নিয়ে এলাকায় আমরা সবাই বিব্রত। চলমান ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদ করতে এলাকায় সর্বত্র উম্মুখ ।

প্রত্যক্ষদর্শী মিলন নামের একজন জানান, এলাকাবাসীর শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আরিফ বজলুর (শারীরিকভাবে অসুস্থ্য) অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (ইউপি সদস্য) লিটন মেম্বারের নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কর্মিরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করতে বাধা প্রদান করে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পুলিশ বিদ্যালয়ের মাঠে গাড়ী রেখে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকারীদের একত্র হতে বাধা দিয়েছে। রাস্তার মোড়ে টহল বসিয়েছে। ধনবাড়ী থানার ওসি চানমিয়া একটি সভায় যোগ দিতে টাঙ্গাইলে ছিলেন। টাঙ্গাইল থেকেই তিনি জানান, এ নিয়ে আন্দোলন কিসের। অভিযোগ দিয়েছে, তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। চাইলেই তো চাকরিচ্যুত করা যায় না। আইন আছে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে।

অভিযোগকারীদের অন্যতম মফিজ উদ্দিন জোয়াদ্দার জানান, এ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বার বার লিখিত দেয়া হয়েছে। অভিযোগকারী অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভিযোগ করে তারা খুব চাপের মধ্যে আছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মতিউর রহমান খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজেই তদন্ত করছেন। আমরা তাকে সহযোগিতা করছি।

ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফা সিদ্দিকা সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি নিয়ে আমরা বসছি আলোচনা করতে। তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.