মাস্ক থাকলেও ব্যবহার নেই, অসচেতন ফুটপাতের হকাররাও

ফরমান শেখ, ডেস্ক এডিটর: করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে হকার, রিকশা ও ভ্যানচালকসহ সকল পথচারীর মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। একই সঙ্গে সকল অফিস, মসজিদ, গণপরিবহন, গার্মেন্টস, হোটেল, শপিংমল ও বাজারে আগতদেরও আবশ্যিকভাবে মাস্ক ব্যবহারের কঠোর নির্দেশা থাকলেও মাস্ক ব্যবহারে অনীহা দেখা যাচ্ছে। ফলে করোনাভাইরাসের সংক্রমের আশঙ্কা করছে সচেতন নাগরিকরা।

অপরদিকে, স্বাস্থ্যবিধি ও মাস্ক ব্যবহার সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। এতে সংশ্লিষ্ট অফিস কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি ও মাস্ক ব্যবহারের বিষয়ে উদাসীনতার চিত্র দেখা যায় ভিন্ন।

রোববার (২২ নভেম্বর) সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপাড় রেল স্টেশন, পাথাইলকান্দি বাজার, ভূঞাপুর বাস স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ফুটপাতের হকার ও দোকানগুলোতে অগনিত লোক সমাগম। একজন আরেকজনকে ঘেঁষেই হেঁটে যাচ্ছে পথের ওপর দিয়ে। তাদের মাস্ক থাকলে তা পকেটে রাখেন আবার মুখে মাস্ক থাকলেও তা নিচে নামানো এবং এই অবস্থাতেই হকাররা খাবার সামগ্রী বেঁচা কেনা করে যাচ্ছেন। এতে স্বাস্থ্যবিধির বিন্দু মাত্র তোয়াক্কা করতে দেখা যায়নি। শুধু হকাররা নয়, মাস্ক ব্যবহারে অনীহা সর্বস্তরেও এমন চিত্র দেখা যায়।

এছাড়া মহাসড়কের বিভিন্ন খাবার হোটে দোকানগুলোতে বিক্রেতারা মাস্ক পড়ে বসে থাকলেও অনেক দোকানেই নেই হ্যান্ড সেনিটাইজারের ব্যবস্থা। যে যেভাবে পারছেন ক্রেতা ডাকছেন আর পণ্য বিক্রি করছেন। ফুটপাথের হকারদের অবস্থা আরও করুণ। সেখানে সামাজিক দূরত্ব নেই এবং কোনও হকারের মুখে মাস্ক পর্যন্ত নেই।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলস্টেশনের সামনে পেয়াজি, ছোলা, ঝালমুড়ি, বাদাম বিক্রেতা কয়েকজন হকারের সঙ্গে কথা হয়। তাদের মতে- বাসগুলোতে লোক আছে অনেক কিন্তু ক্রেতা নেই। বিক্রির অবস্থা খুব খারাপ। স্বাস্থ্যবিধির কথা জানতে চাইলে স্থানীয় হকার মো. সেলিম বলেন, করোনায় আগের মত ব্যবসা নাই আয় নাই, মাস্ক পড়া এগুলা চিন্তা কইরা লাভ আছে? আব্দুর নামে স্থানীয় অপর এক ঝালমুড়িওলা বলেন, ‘কাস্টমার নিজেই মাস্ক পরে না। আর আমরা ফুটপাতে সারাদিন ফেরি কয়টাকা আর লাভ করি। এতকিসু মানমু ক্যামনে?’ আর প্রতিদিন মাস্ক (মুখের ঠোনা) কিনমু ক্যামনে।

স্বাস্থ্যবিধি ও মাস্ক ব্যবস্থার শতভাগ কিভাবে নিশ্চিত করা যায় এমন প্রশ্নের জবাবে সুজনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর ভূঞাপুর উপজেলা শাখা’র সভাপতি মির্জা মহীউদ্দিন আহমেদ প্রতিবেদককে বলেন- করোনা ভাইরাস বিস্তাররোধ সরকারি নির্দেশনা সকলের মেনে চলা উচিত। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও মাস্ক ব্যবহারসহ হ্যান্ডসানিটাজার বাধ্যতামূলক ব্যবহার করা আমাদের সকলের জন্য ভাল । ফলে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি বৃদ্ধ পাবে না।

ফুটপাতের হকারদের মাস্ক ব্যবহারে সচেতনতায় প্রচারণা বৃদ্ধির জোর দাবি জানিয়ে মির্জা মহীউদ্দিন আরও বলেন- করোনার শুরুতে যেমন প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা গণসচেতনতার লক্ষ্যে যেভাবে করোনারোধে কাজ করেছেন ঠিক একইভাবে বর্তমানে সময়েও গণপ্রচারণা চালানো প্রয়োজন বলে মনে করি। এছাড়া শীতের মৌসুম চলছে। করোনা বিস্তারের প্রবণতা বৃদ্ধির আশঙ্কা জানিয়ে বলেন- শীতের মৌসুমে সকলকে আরও সর্তকতা অবলম্বন করে চলতে হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মহীউদ্দিন আহমেদ বলেন- শীত মৌসুমে এমনিতেই সর্দি-কাশির প্রকোটবাড়ে। অনেকের আবার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। তারমধ্য করোনাভাইরাসের উপক্রম চলছে। এসব কিছু এড়াতে স্বাস্থ্যবিধি চলতে হবে, মাস্ক ব্যবহারে বেশি গুরুত্ব দেয়া আব্যশক। জনসমাগমও এড়িয়ে চলতে হবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসলাম হোসাইন জানান, মানুষের মাঝে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গণসচেতনতা প্রচারণা চলমান। এছাড়া সরকারি নির্দেশনামতে স্বাস্থ্যবিধি ও মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। সেইসাথে মাস্ক বিতরণ করা হয়। জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রশাসন সর্বদা তৎপর রয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলার খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন www.newstangail.com। ফেসবুকে দ্রুত আপডেট মিস করতে না চাইলে এখনই News Tangail ফ্যান পেইজে (লিংক) Like দিন এবং Follow বাটনে ক্লিক করে Favourite করুন। এর ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে সয়ংক্রিয়ভাবে নিউজ আপডেট পৌঁছে যাবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.