করোনা প্রতিষেধক নিয়ে বিশ্বের সাথে দেশেও ফিরে আসবে শান্তি

বহুল কাঙ্খিত করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক অবশেষে দেশে পৌঁছেছে। ভারত সরকারের উপহার হিসেবে পাঠানো ২০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন গত বৃহস্পতিবার বুঝে নিয়েছে সরকার। এর মধ্যদিয়ে  দেশবাসীর টিকা নিয়ে অপেক্ষার অবসান হলো। দূর হলো টিকা পাওয়া নিয়ে সবধরনের অনিশ্চয়তা। এখন এর দিনক্ষণ  চূড়ান্ত  হলেই শুরু হবে টিকা দেওয়ার পালা।  আল্লাহর রহমতে এ করোনা প্রতিষেধক নিয়ে আবার বিশ্বের সাথে দেশেও ফিরে আসবে শান্তি ।

ভারত থেকে কেনা টিকার প্রথম চালানের ৫০ লাখ ডোজ আসার কথা রয়েছে আগামী ২৫ জানুয়ারি। ওই টিকা আসার পর ২৭ অথবা ২৮ জানুয়ারি রাজধানীর একটি হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যবেক্ষণমূলক টিকাদান শুরু হবে। প্রথমদিন দেওয়া হবে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ২০ থেকে ২৫ জনকে। এরপর আরও বড় পরিসরে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে। সেখানে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে টিকা দিয়ে সাত দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এরপর শুরু হবে গণটিকাদান কর্মসূচি। এই কর্মসূচি অনুযায়ী প্রতিদিন ২ লাখ ডোজ করে প্রথম মাসে দেওয়া হবে ৬০ লাখ ডোজ টিকা।

পর্যবেক্ষণমূলক টিকাদানের ব্যাখ্যায় স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর অক্সফোর্ডের টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমতি দিলেও দেশে এই টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়নি। এ কারণে গণটিকাদান শুরুর আগে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগে সাফল্যের পর সরকার গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু করতে চায়।খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী তিন পর্যায়ের পাঁচটি ধাপে ১৩ কোটি ৮২ লাখ ৪৭ হাজার মানুষকে টিকার আওতায় আনা হবে। প্রথম পর্যায়ের প্রথম ধাপে মোট জনগোষ্ঠীর ৫১ লাখ ৮৪ হাজার ২৮২ জনকে টিকা দেওয়া হবে। এই তিন শতাংশের মধ্যে রয়েছে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী। এ ছাড়াও প্রথম ধাপে টিকা পাবেন এমপি, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, ব্যাংককর্মী ও ধর্মীয় নেতারা।

ইতোমধ্যে যেসব দেশে টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে সেসব দেশ থেকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কিছু খবর আসছে। এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা এবং বমি বমি ভাব। তাই টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

আমরা মনে করি, টিকা নিয়ে ভয়ের তেমন কোনো কারণ নেই। কেননা যেসব হাসপাতাল ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে টিকা দেওয়া হবে, সেখানে কেউ অসুস্থ বোধ করলে তাদের চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অধিকাংশ টিকারই কোনো না কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার থাকে। তারপরও আমরা দীর্ঘদিন ধরে টিকা নিচ্ছি। যুগে যুগে টিকার মাধ্যমেই বিশ্বে মহামারি দূর হয়েছে। চলমান মহামারি থেকে রক্ষা পেতে টিকার কোনো বিকল্প নেই। তাই গুজবে কান না দিয়ে আমাদের সবার মন থেকে ভয়, শঙ্কা ও উদ্বেগ দূর করতে হবে। ভয় ও শঙ্কা জয় করে নিতে হবে টিকা। তবেই সারাবিশ্ব থেকে করোনা মহামারি দূর হবে। আমাদের মন থেকেও দূর হবে করোনার ভয়। আর এভাবেই ধীরে ধীরে সারাবিশ্বে আবার ফিরে আসবে শান্তি ও স্বস্তি।

"নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।