বাবা দিবেন কিডনি, কে দেবে মুফতি আমিনুলকে প্রতিস্থাপনের ১৫ লাখ টাকা ?

নিজস্ব প্রতিনিধি:  মুফতি আমিনুল ইসলাম (৩৫)। টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ছোট হামিদপুর কবরস্থান নিদাউল কোরআন কওমী মাদরাসার মুহতামিম। লেখাপড়া শেষে তিনি ওই কওমী মাদরাসাটি পরিচালনা করে আকাশছোঁয়া স্বপ্ন নিয়ে লক্ষ্যপানে যাত্রা শুরু করেছিলেন ভালোভাবেই। কিন্তু পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় দুরারোগ্য ব্যাধি। ডাক্তার জানিয়েছেন দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে তার। তাই স্বপ্নে ভরা চোখগুলোতে এখন শুধুই বাঁচার আকুতি।

জানা যায়, মুফতি আমিনুল ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার কুরকুচি কান্দা গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল একজন বড় আলেম হওয়ার। লক্ষ্যে পৌঁছাতে মনোযোগী ছিলেন পড়াশুনাতে। ছাত্রজীবনে নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে টিউশনি কখনও রিকশা চালিয়ে এবং দিনমজুরের কাজ করে লেখাপড়া শেষ করেন। এরপর জীবিকার টানে উপজেলার ছোট হামিদপুর কেন্দ্রীয় মসজিদে ঈমাম ও খতিব হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। পরে ওই এলাকায় একটি মহিলা মাদ্রাসাসহ তিনি “ছোট হামিদপুর কবরস্থান নিদাউল কোরআন কওমী মাদ্রাসা” পরিচালনার দায়িত্ব নেন। এভাবে ভালোই চলছিল তার জীবন। কিন্তু হঠাৎ বিয়ে করার দুই বছর শেষ হতে না হতেই তার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। ২০১৯ সালে ডাক্তার জানান তার দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। এতেই স্বপ্নগুলো যেন ফিকে হয়ে যায়। বৃথা মনে হয় জীবনের সব চেষ্টাকে। কৃষক বাবাকে অবসরে দিয়ে পরিবারের হাল ধরার স্বপ্ন মোড় নেয় বাঁচার প্রত্যাশায়। কিডনি জটিলতা ধরা পড়া থেকেই সর্বস্ব দিয়ে চিকিৎসা করে পরিবার এখন নিঃস্ব প্রায়। ছেলের চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে আমিনুলের দরিদ্র কৃষক বাবার পথে বসার উপক্রম। ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছেন বাবা কছিম উদ্দিন। নিজেই নিজের কিডনি দান করবেন তার ছেলেকে। ছেলের সঙ্গে কিডনি ম্যাচিং হওয়ায় গত সপ্তাহখানেক আগে ভারতে কিডনি অপারেশন করতে যান আমিনুল ও তার বাবা। আর এ কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা প্রয়োজন। নিঃস্ব পরিবারের পক্ষে এ ব্যয়ভার বহন করা অসম্ভব। তাই বাঁচার জন্য সহযোগিতার আবেদন আমিনুলের।

মুফতি আমিনুল বলেন, আমি একটি নিম্নবিত্ত সাধারণ পরিবারের সন্তান। আমার বাবা একজন কৃষক। কখনও দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালান। সকলের সাহায্য-সহযোগিতায় আমি এই সুন্দর পৃথিবীতে আরো কিছুদিন বাঁচতে চাই। এই মুহূর্তে ১৫ লাখ টাকা জোগাড় করা আমার দরিদ্র পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আমার অনুরোধ আমাকে বাঁচাতে সহযোগিতা করুন।

মুফতি আমিনুলের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে (০১৭২৫-৫১৩৬৪২ এবং ০১৭৪৯-৪৪৯০১৮) তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। সহযোগিতা করতে : ০১৭২৭-৪৭৪২৫৭ (বিকাশ ও নগদ) সোনালী ব্যাংক: আরিফ হোসাইন ৬০২৪৪০১০৩৬১৬৫ জেলা টাঙ্গাইল, শাখা সখীপুর।

"নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.