ব্রেকিং নিউজ :

দেশে থাকলে বিএনপির মহাসচিব হতাম, ভারতে থাকা বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন

অনলাইন থেকে: সাড়ে পাঁচ বছর ভারতে অবস্থান করছেন। এখন চিকিৎসা নিচ্ছেন ‘নর্থ ইস্টার্ন ইন্দিরাগান্ধী রিজিওয়াল ইনিষ্টিটিউট অব হেলথ এবং মেডিকেল সায়েন্সে’। শিলং এর এই মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতালে নিয়মিত থেরাপী নেন। মেঘালয় আদালত তাকে অবৈধ ভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করার অপরাধে গ্রেপ্তার করে এবং দন্ডিত করে। চলতি মাসে তার বাংলাদেশে ফেরার কথা থাকলেও তাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দেয়নি। এখন মানসিক ভাবে ভারসাম্যহীন তিনি। ইনি হলেন কক্সবাজারের প্রভাবশালী বিএনপি নেতা ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।

সালাউদ্দিন আহমেদ কেবল বিএনপি নেতা নন, বেগম জিয়ার নিকটাত্মীয়ও বটে। ৯১ সালে বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী হলে তার সহকারী একান্ত সচিব হয়েছিলেন। ২০০১ এ চাকরী ছেড়ে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসন থেকে বিএনপির টিকেটে এমপি হন। যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে, লাগাতার আন্দোলনের ডাক দেন। ঐ আন্দোলনে অজ্ঞাত স্থান থেকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষনা দিয়ে আলোচনায় আসেন সালাউদ্দিন। তার ঐ ভিডিও বার্তা গুলো ছিলো আলকায়েদা নেতাদের স্টাইলে।

এরকম ভিডিও বার্তা দিতে দিতেই ২০১৫’র মার্চে নিখোঁজ হয়ে যান সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনমাস পর তাকে পাওয়া যায় মেঘালয়ের শিলং এ এখন দাড়ি রেখেছেন, ধর্মকর্ম করছেন। পুলিশ প্রহরায় থাকলেও লোকজনের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে পারেন। ফোনেও বাংলাদেশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন, বুধবার রাতে পাওয়া গেল সালাউদ্দিনকে।

বললেন ‘আমি তো সাক্ষাৎকার দিতে পারবো না। আমি তো জেলেই থাকতাম। অসুস্থতার জন্য ওরা আমাকে সুযোগ দিয়েছে, এখানে থাকার।’ বিএনপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয় কিনা জনতে চাওয়া হলে বলেন ‘ওরা তো বিশ্বাসঘাতক, বেঈমান, অকৃতজ্ঞ। ওরা ম্যাডামের সাথে যা করেছে, তাহলে বোঝ আমার সাথে কি করতে পারে। ওদের জন্যই তো আমার এই অবস্থা। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে ওরা আমাকে মেরে ফেলেনি।’ বললেন ‘দেশে থাকলে আমি তো পার্টির মহাসচিব হতাম। এজন্যই ওরা এসব করেছে।

’ আসলে কি হয়েছিল? কেন তিনি ভারতে গেলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে বললেন ‘থাক বাদ দাও। এসব নিয়ে এখন কথা বলবো না।’ এরপর পরই বললেন ‘আমি বেশীক্ষন কথা বলতে পারি না। মাথা ব্যাথা করে। ট্রিটমেন্ট চলছে তো।’

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২০১৩ সালের শেষের দিকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন উত্তাল, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অনেকে জেলে, কেউ কেউ আত্মগোপনে, তখন দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করেন তখনকার যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

পরের বছর ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি সামনে রেখে আবার সরকারবিরোধী আন্দোলনে নামে বিএনপি ও ২০ দল। টানা অবরোধ কর্মসূচির সময় গ্রেপ্তার এড়াতে সালাহউদ্দিন অজ্ঞাত স্থান থেকে গণমাধ্যমে পাঠাতেন দলের বিবৃতি ও ভিডিও বার্তা। বেশ কিছুদিন এভাবে চলার পর ওই বছরের ১০ মার্চ রাতে ঢাকার উত্তরা এলাকার একটি ভবন থেকে ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী’ পরিচয়ে একদল অস্ত্রধারী তাকে ‘অপহরণ’ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। নানাভাবে বিএনপি ও তার পরিবারের সদস্যরা চেষ্টা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার সন্ধান দিতে পারেনি।

নিখোঁজের দুই মাস পর ১২ মে মেঘালয়ের রাাজধানী শিলংয়ের একটি রাস্তা থেকে মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থায় উদ্‌ভ্রান্তের মতো ঘোরাঘুরির সময় লোকজনের ফোন পেয়ে স্থানীয় পুলিশ তাকে আটক করে। তখন তিনি দাবি করেছিলেন, কে বা কারা সীমান্ত পার করে তাকে শিলংয়ে রেখে গেছে। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা হয়। সাড়ে তিন বছর পর ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর মামলার রায়ে বেকসুর খালাস পান তিনি। তবে পাসপোর্ট ও ভিসা না থাকায় তাকে ভারতেই অবস্থান করতে হয়।

নিখোঁজ হওয়ার সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ পরে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মেয়াদে চারদলীয় জোট সরকারের যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন তিনি।

সূত্র: কক্সবাংলা.কম

"নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.