ব্রেকিং নিউজ :

যেভাবে ফরম পূরণের টাকা ফেরত পাবেন শিক্ষার্থীরা

২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা করোনার কারণে না হওয়ায় ফরম পূরণের আংশিক টাকা ফেরত পাচ্ছেন পরীক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৯ মার্চ) ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে শিক্ষার্থীদের এ টাকা বিতরণ শুরু হচ্ছে।

সোমবার (৮ মার্চ) স্বাক্ষরিত এবং মঙ্গলবার প্রকাশিত শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ বাবদ জমা করা অর্থের চেক বোর্ডের হিসাব শাখা (১ নং ভবনের ৩ তলা, কক্ষ নং-২০৮) থেকে বিতরণ করা হবে। শুধু সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজে অথবা তার প্রাধিকারপ্রাপ্ত কোনও শিক্ষককে (স্বাক্ষর সত্যায়িতসহ) কেন্দ্রের আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওই চেক অফিস চলাকালে গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হলে আবেদনপত্রে গভর্নিং বডির সভাপতি বা জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিস্বাক্ষর থাকতে হবে। চেক গ্রহণের পর তাতে কোনও ধরনের ভুলত্রুটি পরিলক্ষিত হলে সাত কর্মদিবসের মধ্যে হিসাব শাখা থেকে সংশোধন করে নিতে হবে।

এর আগে ৩০ জানুয়ারি এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার মূল্যায়নের ফল প্রকাশের দিন শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এরপর ৩১ জানুয়ারি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ১৫৮তম সভায় শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ঢাকা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিল পূরণের চেক গ্রহণের তারিখ ৯ মার্চ ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জ জেলা। ১০ মার্চ ঢাকা জেলা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জ জেলা। এ ছাড়া ১৯ মার্চ ঢাকা মহানগরে দেওয়া হবে।

কত টাকা ফেরত পাবেন শিক্ষার্থীরা

নির্দেশনায় বলা হয়, যেসব পরীক্ষার্থী পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছিল তাদের প্রতি পত্রের জন্য বোর্ড নির্ধারিত ফি থেকে পত্র প্রতি ৩০ টাকা করে এবং ব্যবহারিক বিষয়ের ক্ষেত্রে পত্র প্রতি আরও ১০ টাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে ফেরত দেওয়া হবে।

এছাড়া পরীক্ষার্থী প্রতি ২০০ টাকা করে এবং আইসিটি বিষয়ক পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত আরও ২৫ টাকা ফেরত দেওয়া হবে। আইসিটি ছাড়া সব ব্যবহারিক বিষয়ের ক্ষেত্রে পত্রপ্রতি অতিরিক্ত ৪৫ টাকা করে ফেরত দেওয়া হবে। কেন্দ্র ফি বাবদ ব্যয় না হওয়া অর্থ প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রহণ করবে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখার হিসেবে অনুযায়ী, বিজ্ঞান বিভাগের নিয়মিত একজন শিক্ষার্থী সর্বমোট ১ হাজার ৬৫ টাকা ফেরত পাবেন। এর মধ্যে শিক্ষাবোর্ড দেবে ৪৮০ টাকা, কেন্দ্রে দেবে ২২৫ টাকা। আট বিষয়ের ব্যবহারিকে ৪৫ টাকা করে মোট ৩৬০ টাকা। মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষা শাখায় একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী পাবেন মোট ৬২৫ টাকা।

বিভাগভিত্তিক হিসেবে, এইচএসসির তিনটি বিভাগে মোট ১৩টি বিষয়ে পরীক্ষা হয়। প্রতিটি পত্রের জন্য বোর্ড যে টাকা নিয়েছে সেখান থেকে প্রতিটি পত্রে ৩০ টাকা করে ফেরত দেবে শিক্ষাবোর্ড। এতে ১৩টি বিষয়ে মোট ফেরত পাবে ৩৯০ টাকা। এর সঙ্গে বিজ্ঞান বিভাগে ৯ বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা হয়। প্রতিটি পত্রে ১০ টাকা করে মোট ৯০ টাকা ফেরত দেওয়া হবে। বিজ্ঞান বিভাগে একজন শিক্ষার্থী শিক্ষাবোর্ড থেকে ফেরত পাবে ৪৮০ টাকা।

অন্যদিকে পরীক্ষা কেন্দ্র ১৩টি বিষয়ে মোট ২০০ টাকা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে ব্যবহারিক খাতা থেকে ২৫ টাকাসহ মোট ফেরত দেবে ২২৫ টাকা। আর ব্যবহারিকে ৪৫ টাকা করে মোট ৩৬০ টাকা। সব মিলিয়ে বিজ্ঞানের একজন শিক্ষার্থী সর্বমোট ১ হাজার ৬৫ টাকা ফেরত পাবে।

মানবিক ও ব্যবসা বিভাগের নিয়মিত একজন শিক্ষার্থী ১৩টি বিষয়ে মোট ৩৯০, পরীক্ষা কেন্দ্র ২০০ টাকার সঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারিক বিষয়ে শিক্ষাবোর্ড ১০ টাকা এবং কেন্দ্র ২৫ টাকা দেবে। মোট ৬১৫ টাকা পাবেন।

তবে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থী যে কয়টি বিষয় লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন সে অনুপাতে টাকা ফেরত পাবেন।

"নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.