সখীপুুরে শত বছরের দুটি সড়ক কেটে ফেলায় ৫ গ্রামের মানুষের দূর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের সখীপুরে চলাচলের শত বছরের পুরাতন দুটি সড়ক কেটে ৫ গ্রামের মানুষকে চরম দুর্ভোগে ফেলা হয়েছে। উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের ফুলগাছিয়া চালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই দৃুটি সড়ক কেটে ফেলার অভিযোগ এনে একই গ্রামের আমিনুল ইসলাম, জালাল উদ্দিন এবং শাহজাহান মিয়ার নামে, উপজেলা চেয়ারম্যান, নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং প্রেসক্লাব বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভূক্তভোগীরা।

শনিবার সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের ফুলগাছিয়া চালা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য বিল্লালের বাড়ী হতে রমজানের বাড়ি এবং বাচ্ছু মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত এ সড়ক দুটি ভেকু দিয়ে কেটে ফেলে ফসলি জমিতে রুপান্তর করা হয়েছে। এই সড়ক দুটি দিয়ে ওই ইউনিয়নের ফুলগাছিয়াচালা, বনানীপাড়া, ঝিনিয়া, বাইটকা এবং সবুজপাড়া এ ৫টি গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের লোকজন মসজিদ ,মাদ্রাসা, গোরস্থান এবং শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা স্কুল কলেজে যাতায়াত করে থাকেন। চলাচলের একমাত্র অবলম্ভন সড়ক দুটি বন্ধ হওয়াতে ওইসব গ্রামের পোল্ট্রি খামারের খাদ্য, ডিম স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত ফসল ও সবজি বাজার ঘাটে নেয়া আনা বন্ধ রয়েছে।
ভূক্তভোগী পোল্ট্রি খামারী শফিকুল ইসলাম এবং আইন উদ্দিন একই সুরে বলেন, সড়ক দুটি বন্ধ হওয়াতে গত কয়েকদিন ধরে এসব এলাকায় গড়ে ওঠা পোল্ট্রি খামারের খাদ্য ও ডিম আনা নেওয়া বন্ধ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের বাচাতে তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দ্রুত সড়ক দুটি নির্মাণের দাবি জানান।

হাতিবান্ধা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান খান রবিন বলেন, মানুষদের চলাচলের একমাত্র অবলম্ভন সড়ক দুটি কেটে ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক। জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং দ্রুত সড়ক দুটি নির্মাণের দাবি জানান।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন বলেন, কেটে ফেলা সড়ক দিয়েই আমিসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ প্রায় শতবছর ধরে যাতায়াত করে থাকেন। বিকল্প সড়ক না থাকায় চলাচলকারী মানুষদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চিত্রা শিকারী বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার কামাল লেবু অভিযোগ পাওয়ার বিষয়ে স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আমিনুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অন্যায়ভাবে জমিটি দখল করে জমির মাঝখান দিয়ে সড়ক তৈরি করা হয়েছিল। আমরা আমাদের জমিটি দখলমুক্ত করে ফসল উৎপাদের উপযোগী করেছি।

 

 

"নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.