করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মানা ছাড়া বিকল্প নেই..—সাইফুল-ই-শাফলু

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সব পূর্বের সকল রেকর্ড ভেঙে গেছে। এর আগে গত বছরের ৩০ জুন এক দিনে ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়।মঙ্গলবার এই রেকর্ড ছাড়িয়ে ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে আরও ৬৩ জন এবং শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ৬২৬ জন। করোনায় এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯ হাজার ৪৪৭ জন এবং দেশে এখন পর্যন্ত মোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৫৯ হাজার ২৭৮ জন।

এদিকে ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, বুধবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১৩ কোটি ৩১ লাখ ২৭ হাজার ৮৬৩ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২৮ লাখ ৮৯ হাজার ৪৬ জন।
করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৯ সালের শেষদিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। ২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি ওই শহর প্রথম লকডাউন করা হয়। ওই বছর ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম তিনজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ একজন মারা যায়। মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকে। ওই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর ধীরে ধীরে তা কমতে থাকে। দুই মাস সংক্রমণ নিম্নমুখী থাকার পর নভেম্বরের শুরুর দিকে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকে। ডিসেম্বর থেকে আবার কমতে শুরু করে।

গত ১৮ জানুয়ারির পর থেকে সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে ছিল। এরপর শনাক্তের হার প্রতিদিন এক রকম ছিল। কিন্তু গত ৯ মার্চ তা বেড়ে ৫ দশমিক ১৩ শতাংশে পৌঁছে। ১৮ মার্চ শনাক্তের হার ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশে পৌঁছে। সেই থেকে শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে লকডাউনে দুদিন বন্ধ থাকার পর সিটি করপোরেশন এলাকায় আবারও শুরু হয়েছে গণপরিবহন চলাচল। যাত্রীদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা এখন একটু বাড়লেও চালক ও বাসের সহায়কদের অনেকেই তা মানছে না। অল্প কিছু গণপরিবহনে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা থাকলেও বেশিরভাগ পরিবহনে তা নেই। কিছু গণপরিবহনে দাঁড়িয়ে যাত্রী নিতে দেখা গেছে।

করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক রাখার কথাও বলছেন তারা। কেননা বাংলাদেশের মতো একটি দেশে কঠোর লকডাউন সম্ভব নয়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহর মতে, ‘এখন যা হচ্ছে এটা লকডাউনও না, আবার ছুটিও বলা যাবে না। লকডাউনের সিদ্ধান্তটাই পূর্বপরিকল্পিত ছিল না। হঠাৎ করেই লকডাউন ঘোষণায় সব কিছুতে হ-য-ব-র-ল তৈরি হয়েছে। নিম্ন আয়ের লোকদের কথা মাথায় না রেখেই এই লকডাউন দেওয়া হয়েছে। আর এদিকে মানুষ মনে করেছে এটা ছুটি। গণহারে তারা গ্রামে চলে গেছে। এতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেড়ে গেছে। ঢাকা থেকে এখন জেলায় জেলায় ছড়িয়ে যাবে। তারা আবার কদিন পর গ্রাম থেকে ঢাকা আসবে। সঙ্গে করে ভাইরাস নিয়ে আসবে।’
এ অবস্থায় আমরা মনে করি, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সমন্বয়েই করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সাধারণ মানুষকে নানাভাবে আরও সচেতন করে তুলতে হবে। নিতে হবে করোনার টিকা। সর্বোপরি স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। করোনা মোকাবিলায় এ ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।

"নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.