ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক: যেকোনো মূল্যে বাড়ি ফিরতে চান ঘুরমুখো মানুষ

ফরমান শেখ, নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে করোনা মহামারির সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করতে যাওয়ায় আগামীকাল বুধবার থেকে আট দিনের সর্বাত্মক লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এবার ‘কড়া লকডাউন’ হবে এমন আভাস পেয়ে ব্যাপক হারে ঢাকা ছাড়ছে সাধারণ মানুষ। দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ থাকায় যে যেভাবে পারছে ছুটছে বাড়ির পথে।
কঠোর লকডাউনের ঘোষণার পর থেকেই গেণ সপ্তাহের চেয়ে এ দুইদিন দ্বিগুণ হাড়ে রাজধানী ছাড়ছেন মানুষ। ছুটছেন নিজ নিজ গ্রামের বাড়ি। যার ফলে মহাসড়কে বেড়েছে বিভিন্ন ধরণের ছোট-বড় গণপরিবহনের চাপ। ট্রাকে জায়গা নেই তবুও এর পেছনে ছুটতে দেখা গেছে ঘরমুখি মানুষদের। তারা লকডাউনের আগে যেকোনো মূল্যে বাড়ি ফিরতে চান।
সরেজমিনে আজ মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইলের রাবনা বাইসপাস, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেল স্টেশনসহ বিভিন্ন বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে- সেখানে ঘরমুখি মানুষের উপচেপড়া ভিড়। এছাড়াও মানুষের ঢল।

এভাবেই মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাকে যাত্রীরা উঠছেন। ছবি- নিউজ টাঙ্গাইল।

এছাড়া দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল, সিএনজি, পিকআপ ও ট্রাক ভর্তি করে মানুষ ঢাকা ছাড়ছে। অনেকে নারী-শিশুসহ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। কেউ কেউ আবার গাড়ি ভাড়া করে সপরিবারে বাড়ি ফিরছেন।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপাড়ের রেল স্টেশনে গাড়ির অপেক্ষায় বসে থাকা আল-আমিন নামে এক যুবকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বগুড়া যাওয়ার জন্য শ্যামলী থেকে এ পর্যন্ত আসতে কমপক্ষে ৮ বার গাড়ি পরিবর্তন করতে হয়েছে।
তিনি বলেন- ঢাকা থেকে সেতুতে আসতে গুণতে হয়েছে ১ হাজার ৩৭০ টাকা। সেতু থেকে বগুড়ার কোন গাড়ি পাব তো দূরের কথা, সেতু পাড় হওয়ার জন্য বসে আছি একঘণ্টা ধরে। এদিকে যা দু’একটা ট্রাক পেলেও সেতু পাড় হতেই চাচ্ছে ৩০০ টাকা।
কথা হয় আজগর আলী এক ৫২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের সাথে। তিনি বলেন- ‘সাভারে রিকশা চালাই। করোনা আর লকডাউন শুনে আগেই বাড়ি ফিরছি। শহরে করোনার ছড়াছড়ি। কিন্তু গ্রামে করোনা নাই। তাই বাড়ি ছুটছি।’
পরিবহনের ভাড়া বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ করে বলেন- ‘সাভার থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত আসছি ১৫০ টাকায়। আর চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইল ৩০০ টাকা। পরে সেখান থেকে সেতু পূর্ব পর্যন্ত আসতে ভাড়া পড়েছে ১৩০ টাকা। এখন সেতু থেকে নাটোর বনপাড়া যেতে চাচ্ছে ৫০০ টাকা। লকডাউনের নামে আমাদের মত অসহায়দের হয়রানি করা হচ্ছে।’

ট্রাক দাঁড়ানো মাত্রই যাত্রীদের উপচে পড়া ভীর দেখা যায়। ছবি- নিউজ টাঙ্গাইল।

কথা হয় ট্রাক এক পিক-আপ ড্রাইভার রমজানের সাথে। তিনি বলেন- ‘মহাসড়কে যাত্রীদের ব্যাপক চাপ। তারা নিজেরা গাদাগাদি করে ওঠেন। ভাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জানান- পুলিশের ভয় আর ঝুঁকি নিয়ে সড়কে গাড়ি চালাই। সবাই ভাড়া বেশি নিচ্ছে। তাই আমিও নেই।’
এছাড়াও ব্যক্তিগত গাড়িতে যাত্রী পরিবহন করায় মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। সংক্রমণ ঝুঁকি নিয়েই বাড়ি ফিরছে তারা। দূরপাল্লার গণপরিবহন চলাচল বন্ধের ঘোষণা থাকলেও মানছেন না অনেক পরিবহন চালকরা। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত ভাড়ার চেয়েও আরও কয়েকগুণ ভাড়া আদায় করছেন পরবিহন মালিক-শ্রমিকরা।
এ বিষয়ে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ ইয়াসির আরাফাত জানান- ‘সে সমস্ত বাস মহাসড়কে আটকা পড়ে ছিলো তারা নিজ নিজ ডিপো বা টার্মিনালে পার্কিং করার জন্য যাচ্ছে। এসব বাসে কোন যাত্রী পরিবহন করতে পারবে না।’
তিনি আরও জানান- ‘মহাসড়ক থেকে কোন প্রকার যাত্রী যেন পরিবহন না করতে পারে সেজন্য মোড়ে মোড়ে পুলিশের চেক পোস্ট বসানো হয়েছে। এরপরেও কিছু বাস গভীর রাতে চুরি করে চলাচল করার চেষ্টা করেছে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’
"নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.