দেশের প্রথম নেতৃত্ব বিষয়ক প্রতিষ্ঠান বিওয়াইএলসি

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: দেশের প্রথম নেতৃত্ব বিষয়ক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি) বিগত ১২বছর ধরে নেতৃত্ব চর্চা, পেশাগত উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশি তরুণদের সরকারি, বেসরকারি ও বেসামরিক খাতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।দেশের তরুণদের আত্মনির্ভরশীল ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক এবং শিক্ষামাধ্যম থেকে উঠে আসা তরুণদের একত্রিত করে নেতৃত্বচর্চার সুযোগ প্রদান ও একবিংশ শতাব্দীর প্রয়োজনীয় দক্ষতা সমূহ অর্জনে সহায়তা করছে বিওয়াইএলসি।

বর্তমানে বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ চলাকালীন সময় তরুণদের নিজনিজ কম্ফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে এসে নেতৃত্ব চর্চার মাধ্যমে সংকটমোকাবেলায় অংশগ্রহণে অনুপ্রেরণা দিচ্ছে বিওয়াইএলসি।কেননা, বিওয়াইএলসি বিশ্বাস করে ‘ক্ষমতা এবং নেতৃত্ব’ দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। নেতৃত্ব কোনো পদবী নয় বরং একটি প্রক্রিয়া যেটি মানুষকে তাদের অবস্থা পরিবর্তনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে অনুপ্রাণিত করে।বিওয়াইএলসিএও বিশ্বাস করে যে, দেশের প্রতিটি মানুষের পক্ষে তাদের নিজ  নিজ জায়গা থেকে নেতৃত্বচর্চা করা সম্ভব। আর দেশের তরুণদের জন্য এমনই কিছু সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে বিওয়াইএলসি, যেন তারা নেতৃত্বচর্চার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।

বিওয়াইএলসি ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসে হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্র ইজাজ আহমেদ-এর হাত ধরে যাত্রা শুরু করে। ইজাজ আহমেদ এমন একটি নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কথা চিন্তা করেছিলেন যা বিভিন্ন অবস্থান থেকে উঠে আসাতরুণদের নেতৃত্বগুণাবলীর পাশাপাশি তাদের নাগরিকদায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ করবে। ইজাজআহমেদ এবং তৎকালীন  এমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাম্মি কদ্দুস বিওয়াইএলসির প্রথম নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বিল্ডিং ব্রিজেসথ্রু লিডারশিপ ট্রেনিং (বিবিএলটি)’র পরিকল্পনা করেন যা ২০০৮ সালের ক্যাথ্রিনডেভিস শান্তি পুরস্কার পায়। ২০০৯ সালের শুরুর দিকে বিওয়াইএলসি বাংলাদেশের জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস থেকে নির্দলীয় ও অলাভজনক সংগঠন হিসেবে নিবন্ধিত হয়।প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিওয়াইএলসি ইংরেজি, বাংলা ও মাদ্রাসা মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করার মাধ্যমে এমন একটি সার্বজনীন প্ল্যাট ফর্ম গড়ে তুলেছে যেখানে তারা পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও মুল্যবোধ গঠনের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামের আঙ্গিকে অভিজ্ঞ শিক্ষণপদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রোগ্রামগুলোতে নের্তৃত্বচর্চার পাশাপাশি একুশশতকের দক্ষতা যেমন বিশ্লেষণধর্মী ভাবনা, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধান, টিমওয়ার্ক ও কমিউনিকেশন স্কিল ইত্যাদি গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠার পর হতে বিগত ১২বছরে বিওয়াইএলসি বাংলাদেশের বিভিন্ন সনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাড়ে পাঁচহাজারের অধিক তরুণদের নেতৃত্বপ্রশিক্ষণ প্রদান করেছে যার মধ্যে অনেকেই বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছে। দেশব্যাপী তরুণদের মূল্যবোধ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করণে বিওয়াইএলসির এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

"নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।