টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে কাল চালু হচ্ছে আইসিইউ

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইলে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আক্রান্তের পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুও। এই অবস্থায় আগামীকাল রোববার (২ মে) টাঙ্গাইল জেনারেল হাসাপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ বেড চালু হতে যাচ্ছে।

জানা যায়, বর্তমানে টাঙ্গাইলে মোট জনসংখ্যা ৪২ লক্ষাধিক। প্রতিটি উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকলেও জেলার চিকিৎসার প্রধান কেন্দ্র হচ্ছে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল। প্রতিদিন এই হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার থেকে বহুগুণ বেশি মানুষ ভর্তি থাকেন ও চিকিৎসা সেবা নেন।

অভিযোগ রয়েছে, একবছরেও এই হাসপাতালে একটি নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট (আইসিইউ) স্থাপন করা হয়নি, হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজও অসম্পূর্ণ রয়েছে। করোনা ইউনিট চালু হলেও জটিল রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুচিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা নেই।

জেলার সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, গত ২০২০ সালের ৮ এপ্রিল জেলার মির্জাপুরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। সদর উপজেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সবচেয়ে কম করোনা রোগী শনাক্ত হয় বাসাইল উপজেলায়। গত কয়েকমাসে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে দ্বিতীয় ধাপে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকে।

জেলায় কোনো আইসিইউ না থাকায় জটিল রোগীকে ঢাকায় কিংবা অন্য জায়গায় ভর্তি হতে হচ্ছে। এতে তাদেরকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। তাই টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপন করা ছিলো জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি।

সিভিল সার্জন অফিস জানায়, শনিবার (১ মে) পর্যন্ত জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৪ হাজার ৬৯৮ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৭২ জন। আরোগ্য লাভ করেছেন ৪ হাজার ৩১ জন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২৪৭ জন। এদের মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে ৫৪ জনকে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি খান মোহাম্মদ খালেদ বলেন, করোনার দ্বিতীয় ধাপে টাঙ্গাইল জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সে তুলনায় রোগীদের জন্য আইসিইউ থাকা দরকার। আইসিইউ চালু হলে মানুষ উপকৃত হবে। একই সঙ্গে ঢাকায় যাওয়ার যে দুর্ভোগ তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান বলেন, করোনা রোগীদের জন্য ১০টি বেডের জন্য আইসিইউর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে সংযোগ দেওয়ার অপেক্ষা। আশা করছি ২ মে থেকে চালু করা সম্ভব হবে। হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আইসিইউর সংযোগ দেওয়ার জন্য আলাদা জনবল প্রয়োজন। কিন্তু পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে আইসিইউ চালু হতে দেরি হয়েছে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বলেন, আইসিইউ স্থাপনের কাজ শেষ। কাল রোববার (২ মে) থেকে ১০টি বেডের জন্য আইসিইউ চালু হবে। এছাড়া হাসপাতালে করোনার ইউনিট ৫০ শয্যা থেকে ৭০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

"নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.