ব্রেকিং নিউজ :

করোনার সাথে মানিয়ে চলা শিখতে হবে

।। রেজাউল করিম ।। মহামারী নতুন শব্দ না।পৃথিবীর শুরু থেকে যুগে যুগে আসছে মহামারী। এর কারণও ভিন্ন ভিন্ন। ১৭২০ সাল থেকে ২০২০ টানা চার শতাব্দিতে, প্রতি ১০০ বছর অন্তর অন্তর মানব সভ্যতাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে মহামারী। কখনও এসেছে প্লেগ-রূপে, কখনও কলেরা, কখনও ফ্লু, কখনও কোভিড-১৯। প্লেগ, কলেরা, ফ্লু এখন আর মহামারী নয়। তবে এসব রোগ রয়ে গেছে। সম্ভবত কোরনাও তেমনি হবে।হয়তো করোনা মহামারী হিসেবে থাকবে না। তবে করোনা রোগটি সাধারণ রোগ হিসেবে থেকে যাবে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের অবদানে মৃত্যুর হার কমে আসবে।লক্ষ করলে দেখা যায়, দেড় বছরের বেশি সময়েও কমেনি কোভিড-১৯ মহামারির দাপট। এই ভাইরাসে বিপর্যস্ত বিশ্ব। এখনও সম গতিতে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে করোনাভাইরাস। রোজ লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হওয়ার খবর আসছে।দেশ থেকে দেশান্তরে প্রকোট আকার ধারণ করছে। বর্তমানে সবচেয়ে দাপট দেখাচ্ছে ভারতের দিল্লিতে। মৃত্যু বাড়তে বাড়তে লাশ স্তুপ জমছে। এই ধ্বংসযজ্ঞ আর কতদিন সেই প্রশ্ন সবার মনে মনে। উপমহাদেশের বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ দেবী শেঠি ভারতের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলেও এমন একটি সাক্ষাতকার দিয়েছে।

করোনা নিয়ে লকডাউন কতোটুকুই বা কাজে আসছে।লাভের চেয়ে ভোগান্তি আরও বেশি হচ্ছে।শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা এটা কোন সঠিক সমাধান হচ্ছে বলে মনে হয় না। বরং করোনায় আতঙ্ক না হয়ে করোনায় সাথে মানিয়ে চলাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। আর কতোদিন থমকে থাকবে পৃথিবী? যদি ধ্বংসযজ্ঞ দীর্ঘস্থায়ী হয় কতোদিন মানুষকে ঘরে রাখা সম্ভব ? করোনায় যখন একজন মারা গেল আতঙ্ক ছিল তখন অনেক। মৃত্যুর হার বাড়ছে, লকডাউনকে তোয়াক্কা করছে না সাধারণ মানুষ। জীবন জীবিকার জন্যই ঘরের বাইরে বের হচ্ছে মানুষ।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। অথচ অভিভাবক স্বাভাবিক জীবন যাপন করছে।ঘরে গিয়ে মিসছে পরিবারের সবার সাথে। শিক্ষার্থীরাও ঘরে নেই। ওরাও কোন না কোন অজুহাতে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছে। শুধু ধ্বংস হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা।এক্ষেত্রে স্বাস্থবিধি মেনে শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা এখন সময়ের দাবি। একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে দেশের ৯৭ শতাংশ অভিভাবক ও শিক্ষার্থী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পক্ষে মত দিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধে শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে পড়ছে কিশোর গ্যাং বা শিশু গ্যাংয়ের মতো অপরাধে।অনলাইন ক্লাস শিশুদের জন্য তেমন কার্যকরী হচ্ছে না। বরং অনলাইন ক্লাসের নামে অল্প বয়সে মোবাইল হাতে পেয়ে শিশুরা নৈতিকতা হারাচ্ছে। এখান থেকে ফিরে আসাটা জরুরী।

সরকার সাধ্যমতো নিম্ন আয়ের মানুষদের সাহায্য করছে।ষোল কোটি মানুষের দেশে রাষ্ট্রের অনেক বড় অংকের প্রণোদনা দিতে হয়েছে। এদিকে এই প্রণোদনাতেই বা কদিন চলবে সাধারণ মানুষ। ১০/১৫ কেজি চাউলের প্যাকেজে কদিন চলবে? সম্প্রতি টাঙ্গাইল জেলা বাস শ্রমিকদের এমন একটি প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকরা খুশি। পাশাপাশি তারা বলেছেন এতে কদিন চলা যাবে? গণপরিবহণ খুলে দিন।

ঈদে ঘরমূখো মানুষের অবস্থা আমরা গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। ট্রাকে উপছে পড়া ভীড়। জেলার বাস জেলা অতিক্রম নিষেধ ছিল। কিন্ত বঙ্গবন্ধু সেতুর টোলা আদায়ে এবার রেকর্ড  হলো। চব্বিশ ঘণ্টায় তিন কোটি টাকা টোল আদায় শুধু জেলার যানবাহনে সম্ভব হয়নি।অতএব নিষেধ অমান্য করে জেলা অতিক্রম করেছে গণ পরিবহন । বরং গণ পরিবহণ ছেড়ে দিলে হয়তো এতোটা ভিড় হতো না। সড়কে পরিবহন বেশি থাকলে সামাজিক দুরুত্ব কিছুটা হলেও মানা সম্ভব হতো। ফেরিঘাটে লক্ষ করলাম, হঠাৎ ফেরি বন্ধ। ফেরি অপেক্ষায় অক্সিজেনের অভাবে বাবার কোলে একজন শিশু মারা গেলো। আরেক সময় পদদলিত হয়ে ছয়জন মারা যাওয়ার সংবাদ চোখে পড়লো। ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হলে হয়তো এমনটা হতো না।

ঢাকা থেকে কর্মমূখী মানুষ বাড়ি ফেরা শুরু করার পর সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসল, যে যেখানে আছেন সেখানেই ঈদের নামাজ আদায় করুন। ঘোষণাটা কয়েকদিন আগে আসলে একটু হলেও কার্যকরী হতো।মানুষ বাড়ির উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছে। তখন ঢাকায় ফিরবে কিভাবে? গণপরিবহণে নিষেধাজ্ঞা থাকলে ব্যক্তিগত (প্রাইভেটকার)নিষেধাজ্ঞায় ছিলো না। ফলে দুর্ভোগটা ছিল নিম্ন আয়ের মানুষদের। আবার ঘোষণা আসছে ঈদ শেষে ঢাকায় ফেরার নিষেধাজ্ঞা। বলা হচ্ছে লকডাউন থাকলে ঢাকা এভাবে না যেতে। এদের চাকরি থাকার নিশ্চয়তা দেবে কে? ইতমধ্যে লকডাউন ২৩ মে পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্র।লকডাউন হলে জনগণকে মানাতে বাধ্য করতে হবে। অন্যথায় এমন ঢিলেঢালা লকডাউনে উপকারও প্রশ্নবিদ্ধ। লকডাউন না মানায় লকডাউনও সমালোচিত হচ্ছে।

দেশের মানুষে অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে দেশের সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক আনা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সাজিক দুরুত্ব ও স্বাস্থ্যবিধির প্রতি আরও গুরুত্ব দিতে হবে। ফলে জাতি নিজেকে মানিয়ে নেওয়া শিখবে। এক কথায় করোনা যাওয়ার নয়। হতে পারে আরও দীর্ঘ মেয়াদি। দীর্ঘ মেয়াদি মহামারীতে সাধারণ মানুষ পুরো সময়টা ঘরে থাকলে একটি সময় আসবে যখন করোনার চেয়ে দুর্ভিক্ষকে ভয় করবে। সুতরাং সবকিছুকে স্বাভাবিক করে স্বাস্থবিধিকে গুরুত্ব দিলে জাতি করোনার সাথে মানিয়ে নেওয়া শিখবে। বরং করোনার সাথে মানিয়ে চলাটাই হবে মহামারীতে টিকে থাকার যুদ্ধ।

লেখক: রেজাউল করিম (সংবাদকর্মী)

"নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.