সখীপুরে বোরোর বাম্পার ফলন, ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত চাষিরা


সজল আহমেদ, বোরো ধানের সোনালি শীষে রূপালি কাস্তে নিয়ে ধানকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার চাষিরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে পুরো উপজেলা জুড়ে। তবে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ধানের ন্যায্য মূল্যে পাওয়া নিয়ে বেশ সংশয়ে রয়েছে চাষিরা। পাশাপাশি ধান কাটার শ্রমিক নিয়ে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ধান চাষিদের।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ধান চাষ হয়েছে ১৫ হাজার ৯২৫ হেক্টর জমিতে। বোরো ধান উৎপাদনের সম্ভব্য লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৭ হাজার ৫৮৭ মেট্রিক টন। এবছর উচ্চ ফলনশীল ব্রি ২৮, ২৯, ৮৯, ৯২ এবং হাইব্রীড জাতের ধান এবং দেশি জাতের ধান চাষাবাদ করেছেন কৃষক। পোকামাকড়ের আক্রমন কম থাকায় ফলনও হয়েছে ভালো।

প্রতি বছর পাশ্ববর্তী ময়মনসিংহ, ফুলবাড়িয়া, শেরপুর, জামালপুর, কুড়িগ্রামসহ বেশ কয়েকটি জেলা ও উপজেলা থেকে কৃষি শ্রমিকেরা এসে জমির ধান কাটতো। তবে এ বছর করোনায় দীর্ঘ সময় ধরে লকডাউনের কারণে কৃষি শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন এবং কৃষি অফিস নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ধান কাটার শ্রমিক আনা নেওয়ার ব্যবস্থা করলেও, করোনার হাত থেকে রক্ষায় অনেক কৃষি শ্রমিক কাজে আসতে অনীহা প্রকাশ করছে। ফলে ধান কাটা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে চাষিদের।

উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, আগাম সময়ে যারা বোরো ধান রোপন করেছে, সেই সব চাষিরা ধান কাটা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। অনেকে আবার জমিতে কেটে রাখা ধান ঘরে তোলা নিয়ে ব্যস্ত। তবে অনেক জমিতে দেরি করে ধান রোপন করা হয়েছিল। সেই সব জমির ধান কাটতে সময় লাগবে আরও ১-২ সপ্তাহ।

উপজেলার বোয়ালী গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে আমি ৩ একর জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। ধানের ফসল দেখে আশা করা যায় প্রতি একরে ৬০-৭০ মন ধান উৎপাদন হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এই বছর সবারই ধান হয়েছে। আমি ইতোমধ্যে ধান কাটা শুরু করেছি। প্রায় অর্ধেক জমির ধান কেটে বাড়িতে নিয়ে গিয়েছি।’

সখীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নুরুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে এই উপজেলার ৮১% ধান কাটা শেষ হয়েছে। আশা করা যায় এই বছর বোরো ধান চাষিরা বিগত বছররে চেয়ে ফলন ও দামে বেশ লাভবান হবে। চলতি মৌসুমে আমরা প্রায় ১৫ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করেছি। পাশাপাশি কৃষকদেরকে সব সময় সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগীতা প্রদান করে যাচ্ছে আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

"নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.