ফেসবুকে প্রেমের পর ৭ দিনের ট্যুর, অতঃপর..

নিউজ ডেস্কঃ  প্রেমিকার করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলায় প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে বগুড়া জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

রোববার (৩০ মে) সন্ধ্যায় তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শনিবার মধ্যরাতে টাঙ্গাইলের পূর্ব উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত সারোয়ার আরিফ ওরফে আলিফ, ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কাঠাল বিলবোকা গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।

পুলিশ জানায়, ২০২০ সালে মাঝামাঝি সময়ে ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে আলিফের ফেসবুকে পরিচয় হয়। এর পরে তারা দুই জনে নাটোর জেলায় দেখা করেন। একই দিন তারা কুষ্টিয়াতে ঘুরতে যান। এ সময় সেখানে একটি আবাসিক হোটেলে একসঙ্গে রাত যাপন করতে বাধ্য করেন অভিযুক্ত আলিফ। এ কারণে ওই নারী রেগে গেলে আলিফ বিয়ের প্রলোভন দেয়। পরে তাদের ভালোবাসার সম্পর্ক স্থায়ী হয়।

এদিকে পরবর্তী সময়ে তারা খুলনা, সেন্টমার্টিন, সুন্দরবন, কিশোরগঞ্জ, ভৈরবসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যান। ৭ দিনের ট্যুরে তারা সেন্টমার্টিনে ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেখানে হোটেল রুমে থাকাকালীন ওই নারীর কিছু অশ্লীল ছবি ধারণ করেন অভিযুক্ত আলিফ। পরে ভুক্তভোগী নারী চাকরির সুবাদে টাঙ্গাইল জেলায় বদলি হলেও সেখানে গিয়ে বাসা ভাড়া করে থাকতেন আলিফ। এ সময় সেই বাসায় ভুক্তভোগী নারীকে থাকতে বাধ্য করেন।

হঠাৎ করে গত ঈদের সময় থেকে বিভিন্ন কারণে ভুক্তভোগী ওই নারী আলিফের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। এ কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে আলিফ তার কাছে থাকা অশ্লীল ছবিগুলো তার ব্যবহৃত ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে ছেড়ে দেন। পরে ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে ওই নারীর বন্ধু-বান্ধব এবং অফিস স্টাফসহ আত্মীয়-স্বজনদের পাঠিয়ে দেন। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (২৭ মে) ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন ভুক্তভোগী ওই নারী।

এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি (ডিবি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার মোবাইলে ফোন জব্দ করা হয়েছে। মোবাইলে থাকা ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দেয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

"নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.