ব্রেকিং নিউজ :

সখীপুরে প্লাস্টিক পণ্যের দাপটে ঐতিহ্যবাহী বাঁশ-বেত শিল্প এখন সঙ্কটাপন্ন

এম সাইফুল ইসলাম শাফলু : বাড়ির পাশে সাজানো রয়েছে সারিসারি বাঁশ। সেখান থেকে বাছাই করে কাটা হচ্ছে। তারপর তোলা হচ্ছে চিকন বেতি। সকাল থেকেই বাঁশ কাটা, বেতি তোলা আর সেই বেতি দিয়ে ওড়া ও খাঁচা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে শ্রমিকরা।

সখীপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের বেড়বাড়ী ও বহুরিয়া ইউনিয়নের কালিদাস গ্রামে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। বাঁশ দিয়ে তৈরি পণ্য পরিবেশবান্ধব হলেও বিকল্প প্লাস্টিক সামগ্রীর দাপটে সঙ্কটাপন্ন ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প। পাশাপাশি পণ্যের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় এবং ক্রেতা সঙ্কটে দিন দিন বিক্রি কমছে বাঁশ ও বেতের তৈরি জিনিসের। করোনার কারণে গ্রামীণ মেলা ও হাট-বাজার বন্ধ থাকায় সেই বিক্রি নেমেছে তলানিতে। ফলে অস্তিত্ব সঙ্কটে ভুগছে সখীপুরের  বাঁশ- শিল্প।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এ উপজেলার  বিভিন্ন গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার  এ বাঁশ  শিল্পের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। বাঁশ দিয়ে তৈরি যাবার, ঢোলা, ডালা, চাটাই, কুলা, ওড়া, চালুন, মই, মাথাল, চাঁই, খাঁচা, ঝুড়িসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করেই চলে তাদের সংসার। একটা সময় এই শিল্পে জড়িত ছিল কয়েকশ শ্রমিক। সকাল থেকে বাঁশ কাটার আওয়াজ শুরু হতো  সর্বত্র। তবে একদিকে করোনা-লকডাউন, অন্যদিকে প্লাস্টিক পণ্যের ছড়াছড়িতে সেই চিরচেনা শব্দ অনেকটাই স্তব্ধ হয়ে গেছে।

এই পেশার সঙ্গে জড়িত বেড়বাড়ী গ্রামের রওশন আলী জানান, মাত্র কয়েক বছর আগেও এ অঞ্চলে বাঁশ সহজলভ্য ছিল। ৫০ থেকে ৬০ টাকায় একটি বাঁশ কেনা যেত। এখন একটির দাম দেড়শ থেকে দুইশ টাকা। কিন্তু সেই অনুপাতে তৈরি জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। বাঁশ দিয়ে একটি ওড়া তৈরি করতে ৪০ টাকা খরচ পড়ে। অথচ বাজারে তা ৪০ টাকার বেশি বিক্রি করা যায় না। গত ৩৫ বছর ধরে শেকড় আকড়ে ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। করোনার এই দুঃসময়ে কোনো সরকারি সাহায্য না পাওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে  তিনি এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্টদের যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান ।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান  জুলফিকার হায়দার কামাল লেবু বলেন, এই উপজেলার কিছু মানুষ এখনও বাঁশ-বেত শিল্পের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করে। এই কুটির শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

"নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.