ব্রেকিং নিউজ :

সখীপুরে সংরক্ষিত বনে বসতবাড়ি; বিলুপ্তির পথে শাল গজারি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরের গড় হিসেবে খ্যাত সখীপুর অংশের ২৮ হাজার ৫৯৪ একর সংরক্ষিত বনভূমির মধ্যে ১৭ হাজার ৪২২ একরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বসতবাড়ি ও প্রতিষ্ঠান। অবাধে উজাড় হচ্ছে শাল ও গজারি গাছ। ট্রাকে করে দিনরাত দেশের বিভিন্ন স্থানে অবাধে পাচার হচ্ছে এসব গাছ। এতে বিলুপ্তির পথে শাল-গজারি ও সংরক্ষিত বনভূমি।

টাঙ্গাইল বনবিভাগের সখীপুর উপজেলার চারটি রেঞ্জের ১৪টি বিটের আওতাধীন সংরক্ষিত শাল-গজারি বনের ভেতর অবৈধভাবে বসবাস করছেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ। ১৯২৭ সালের বন আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ‘বিনা অনুমতিতে প্রবেশাধিকার নিষেধ’ থাকলেও অবাধে বসত গড়েছেন তারা। বনভূমি উদ্ধারে সম্প্রতি দখলকারীদের বিরুদ্ধে দুই হাজারের বেশি উচ্ছেদ মামলা দায়ের করেছে বনবিভাগ। বন কর্মকর্তারা দখলকারীদের চিহ্নিত করে এ তালিকা প্রণয়ন করেছেন বলে স্থানীয় ও টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বন কর্মকর্তা ও বন সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় রাজনৈতিক, স্থানীয় প্রভাবশালী, ভূমিদস্যু ও স্থানীয় দালাল চক্রের যোগসাজশে সংরক্ষিত শাল-গজারির বন উজাড় হচ্ছে। বনদস্যুরা দিনরাত সংরক্ষিত বনের শাল-গজারি কেটে ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে। গাছ কেটে স্থানীয় করাতকলগুলোতে চেরাই করে কাঠ পাচার করা হচ্ছে। উজাড় হওয়া ওইসব বনভূমি পর্যায়ক্রমে দখলে চলে যাচ্ছে। গড়ে উঠছে বসতবাড়ি, স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার, দোকানপাট, মাদরাসা, মসজিদ-মন্দির ও খেলার মাঠ। এতে বিপন্ন হচ্ছে প্রতিবেশ। হুমকিতে পড়ছে পরিবেশ।

সরেজমিন উপজেলার হতেয়া, বহেড়াতৈল, বাঁশতৈল ও ধলাপাড়া রেঞ্জের বিভিন্ন বিট কার্যালয় ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য ও চিত্র পাওয়া গেছে।

বহেড়াতৈল রেঞ্জের ডিবি গজারিয়া বিটের দেওবাড়ী মৌজায় বনের ভেতর অবৈধভাবে গড়ে তোলা বাড়ির মালিক ইয়ার মাহমুদ বলেন, ‘বনের লোকজনকে ম্যানেজ করেই বাড়ি নির্মাণ করেছি। আমার মতো অনেকেই এভাবে বসতবাড়ি নির্মাণ করছেন।’

হতেয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আলাল খান জানান, স্বাধীনতা পরবর্তী ৪০ বছরের বিভিন্ন সময়ে এসব বনভূমি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দখলে চলে গেছে। বনভূমি রক্ষায় দখলকারীদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ মামলা হয়েছে। অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়াতে বর্তমানে এ রেঞ্জে নানা প্রজাতির পাঁচ লাখ চারা রোপণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ইউএনও চিত্রা শিকারী বলেন, দীর্ঘদিনে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বড় অংশের জমি জবর-দখলে চলে গেছে। দখলমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। শিগগিরই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানান তিনি।

টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) ড. মুহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। দখলকারীদের উচ্ছেদ তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.