সখীপুরে পেয়ারা চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন মাসুম আল মামুন

সজল আহমেদঃ অল্প খরচে স্বল্প সময়ে আবাদ করে বিষমুক্ত ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে থাই পেয়ারা চাষ করে ব্যাপক সফলতার মুখ দেখেছেন টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কালিদাস গ্রামের মাছুম আল মামুন ।

মাটির উর্বরা শক্তি ও আবহাওয়া অনুকূলের পাশাপাশি ভালো চারা, জৈব সার, সেচ ও নিয়মিত পরিচর্চা করায় এ সাফল্য পেয়েছেন তিনি। মাসুমের প্রায় ৪ একর জমিতে এ থাই পেয়ারা চাষ করেছেন। মৌসুমে বাগান থেকে থাই পেয়ারা বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার পাইকার, আড়ৎদার প্রতি সপ্তাহে বাগান থেকে ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাচ্ছে।

প্রায় ৫ বছর আগে মাসুম আল মামুন নিজের ও লিজ নেওয়া প্রায় ২ একর জমিতে এ থাই পেয়ারা চাষ শুরু করেন। পেয়ারা চাষে লাভবান হওয়ায় তিনি আরও ২ একর জমিতে পেয়ারার চারা রোপণ করেন। তার বাগানে নিয়মিত ১০-১২ জন্য লোক কাজ করছে।

বাগানে কর্মরত এক কলেজ শিক্ষার্থী জানায়, করোনাকালীন সময়ে কলেজ বন্ধ থাকায় আমরা কয়েকজন মিলে এই বাগানে নিয়মিত কাজ করছি। অবসর সময়ে কাজ করে আমরা যে টাকা পাই তা দিয়ে পরিবারকে সহযোগিতা করতে পারি।

মাছুম আল মামুন জানান, তার ৫ একর জমিতে আম বাগান রয়েছে। করোনার জন্য বিগত ২বছর আমের বাজার ভালো না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হয়েছে। আম চাষের পাশাপাশি ২০১৭ সালের দিকে এ থাই পেয়ারা চাষ শুরু করেন। ভালো ফল পেতে দেশের বিভিন্ন এলাকার বাগানও পরিদর্শন করেছেন। রোপণের দশ মাস পরেই তার পেয়ারা গাছে ফল আসে। বাগানের প্রতিটি থাই পেয়ারার ওজন ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম। প্রতিটি গাছে কমপক্ষে ৪০ কেজি পেয়ারা পাওয়া যায়। খেতে খুব সুস্বাদু। নিয়মিত পরিচর্যা করে চাষ করলে থাই গাছ থেকে লাভবান হওয়া যায়। তার বাগানের ২৪০০ গাছের মধ্যে এখন বর্ষার সময় ১৪০০ গাছে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করে বিষমুক্ত থাই পেয়ারা চাষ হচ্ছে। এবছর সবকিছু ঠিকঠাকমতো হলে ১৫ লাখ টাকার পেয়ারা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। প্রতিনিয়তই বাগান দেখার জন্য কৃষি বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা পরিদর্শন করেন এবং পরামর্শ দেন বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, লকডাউনের কারনে বর্তমানে কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পরেছে। লকডাউনে সরকার গার্মেন্টস শিল্পকে রক্ষার জন্য হাজার হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়েছে। এরকম যদি কৃষিকে রক্ষার জন্য উদ্যোক্তাদের প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয় তবে নবীন উদ্যোক্তা টিকে থাকত অন্যদিকে নতুনরা আগ্রহী হত। এতে করে দেশের বেকার সমস্যা অনেকটাই দূর হতো।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ নুরুল ইসলাম জানান, সারদেশে এ উপজেলার বিষমুক্ত পেয়ারার যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। কৃষক মাসুমকে পেয়ারা চাষের ব্যাপারে তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.